‘ফাইলে বন্দি’ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্প্রসারণ

আয়তন না বাড়ায় পৌর সুবিধা বঞ্চিত শহরবাসী ৯০ বছরেও আড়াই কিমিতে সীমাবদ্ধ আয়তন আয়তন বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৫২ কিমি করার প্রস্তাব মৌলভীবাজারের প্রধান বাণিজ্যিক শহর নামে পরিচিত শ্রীমঙ্গল। প্রতিদিন শতকোটি টাকার পণ্য খুচরা ও পাইকারি বেচাকেনা হয় এই শহরে। সে হিসেবে ব্যবসার সুবাদে শহরে আগের তুলনায় গত কয়েক দশক ধরে বেড়েছে জনসংখ্যা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা একসময় ব্যবসার উদ্দেশ্যে এই শহরে এসেছিলেন, এখন তারাই স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে উঠেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের প্রশাসনিক সীমানা প্রায় ৯০ বছর ধরে অপরিবর্তিত। সময়ের সঙ্গে শহরের সীমানা বড় হলেও বড় হয়নি পৌর সীমানা। এতে পৌর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শহরের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন এখনো মাত্র ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার। ওইসময় পৌরসভায় বসবাস করতেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। এখন শহরে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ফলে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে সীমানা বাড়ানোর। তবে দীর্ঘ ৯০ বছর অতিবাহিত হলেও পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধি করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শহরের অংশ হয়ে ওঠা আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ইউনিয়নের অধীনেই

‘ফাইলে বন্দি’ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্প্রসারণ
  • আয়তন না বাড়ায় পৌর সুবিধা বঞ্চিত শহরবাসী
  • ৯০ বছরেও আড়াই কিমিতে সীমাবদ্ধ আয়তন
  • আয়তন বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৫২ কিমি করার প্রস্তাব

মৌলভীবাজারের প্রধান বাণিজ্যিক শহর নামে পরিচিত শ্রীমঙ্গল। প্রতিদিন শতকোটি টাকার পণ্য খুচরা ও পাইকারি বেচাকেনা হয় এই শহরে। সে হিসেবে ব্যবসার সুবাদে শহরে আগের তুলনায় গত কয়েক দশক ধরে বেড়েছে জনসংখ্যা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা একসময় ব্যবসার উদ্দেশ্যে এই শহরে এসেছিলেন, এখন তারাই স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে উঠেছেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের প্রশাসনিক সীমানা প্রায় ৯০ বছর ধরে অপরিবর্তিত। সময়ের সঙ্গে শহরের সীমানা বড় হলেও বড় হয়নি পৌর সীমানা। এতে পৌর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শহরের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

‘ফাইলে বন্দি’ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্প্রসারণ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন এখনো মাত্র ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার। ওইসময় পৌরসভায় বসবাস করতেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। এখন শহরে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ফলে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে সীমানা বাড়ানোর। তবে দীর্ঘ ৯০ বছর অতিবাহিত হলেও পৌর এলাকার সীমানা বৃদ্ধি করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শহরের অংশ হয়ে ওঠা আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ইউনিয়নের অধীনেই থেকে গেছে। এতে নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত নগরায়ণে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

‘২০০২ সালে পৌরসভাটি ‌‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হলেও এর আয়তন আর বাড়েনি। বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ডে দুই হাজার ৬০০টি ঘরবাড়ি (হোল্ডিং) রয়েছে। প্রতিবছর পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব আয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। পৌর এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, ৬৭৫টি সড়কবাতি এবং দুই হাজার ৩০০টি পানির লাইন রয়েছে। এ অবস্থায় একই আয়তনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাপ সামলাতে হচ্ছে’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে পৌরসভাটি ‌‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হলেও এর আয়তন আর বাড়েনি। বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ডে দুই হাজার ৬০০টি ঘরবাড়ি (হোল্ডিং) রয়েছে। প্রতিবছর পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব আয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। পৌর এলাকায় বর্তমানে প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, ৬৭৫টি সড়কবাতি এবং দুই হাজার ৩০০টি পানির লাইন রয়েছে। এ অবস্থায় একই আয়তনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাপ সামলাতে হচ্ছে।

‘ফাইলে বন্দি’ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্প্রসারণ

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সূত্র বলছে, সম্প্রসারণের প্রস্তাবে শ্রীমঙ্গল সদর, কালিঘাট ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের রূপসপুর, ভাড়াউড়া, সুইনগর, ফুলছড়া, ভুরভুরিয়া, রামনগর, উত্তরসুরসহ কয়েকটি মৌজা ও গ্রাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮১ সালে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হয়েছিল। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সীমানা আর বাড়েনি।

সবশেষ গত ১৯ জুলাই নতুন করে সম্প্রসারণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান প্রস্তাব অনুমোদন হলে পৌরসভার আয়তন ২ দশমিক ৫৮ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার হবে। জনসংখ্যা উন্নীত হবে প্রায় এক লাখে। ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ১২ থেকে ১৪টি হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকশ বছর পুরোনো শ্রীমঙ্গল শহর ঘিরে বৃটিশরাও ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর। পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটননগরী। ব্যবসা ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিদিন লাখো মানুষের সমাগম ঘটে পৌর শহরটিতে। বাণিজ্যিক ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে শহরে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা, হোটেল-রিসোর্ট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। সবকিছু বৃদ্ধি পেলেও শুধু পৌর এলাকার সীমানা বাড়েনি। এতে করে শহরে বসবাস করেও পৌরসভার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থায়ী বাসিন্দারা।

‘গত ১৯ জুলাই নতুন করে সম্প্রসারণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান প্রস্তাব অনুমোদন হলে পৌরসভার আয়তন ২ দশমিক ৫৮ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার হবে। জনসংখ্যা উন্নীত হবে প্রায় এক লাখে। ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ১২ থেকে ১৪টি হতে পারে’

উপজেলার রূপসপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির আহমেদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সময় যত যাচ্ছে শহর ততই বাড়ছে। শহর যখন ছোট ছিল, তখন আমাদের গ্রাম শহরের বাইরে ছিল। শহরের সীমানা বড় হওয়ার কারণে গত কয়েক দশক ধরে শহরের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে আমাদের এলাকা। তবে আমাদের জীবনযাত্রা শহরের হলেও প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়নের অধীনে থাকায় অনেক উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। দ্রুত পৌরসভা সম্প্রসারণ বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।’

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াশ দাশ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার এলাকার সবুজবাগ এখন কার্যত শহরেরই অংশ। কিন্তু ইউনিয়নের আওতায় থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত বরাদ্দ পাওয়া যায়। ফলে রাস্তা, ড্রেন, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ মৌলিক নাগরিক সেবায় পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে। এলাকাটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন হবে। তখন বরাদ্দ বাড়বে, মানুষ প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা পাবে।’

তবে গত ১৯ জুলাই নতুন করে সম্প্রসারণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান প্রস্তাব অনুমোদন হলে পৌরসভার আয়তন ২ দশমিক ৫৮ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার হবে।’

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাণিজ্যিক ও পর্যটন নগরী খ্যাত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার আয়তন ৯০ বছরেও বাড়েনি। তবে মানুষের চলাচল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা এবং নাগরিক সংখ্যা—সবকিছুই বেড়েছে। সম্প্রতি পৌরসভার পক্ষ থেকে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সরকারের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নাগরিক সুবিধার কথা চিন্তা করে দ্রুততম সময়ে এটি অনুমোদন দেওয়া হবে।’

এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow