ফিরে আসুক সোনালি আঁশের দিনগুলো

সাব্বির হোসাইন ভোর হতেই যে শহর একসময় সাইকেলের টুংটাং আর হাজার হাজার শ্রমিকের কোলাহলে জেগে উঠতো; সেই নরসিংদীর পলাশ ও সংলগ্ন এলাকাগুলো দীর্ঘসময় ধরে নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা। গেটের ওপাশে তালাবদ্ধ পড়ে থাকা বিশালাকার যন্ত্রগুলো যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। তবে সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও চাকা ঘোরার দিন এসেছে। ​নরসিংদী ও পলাশ মানেই পাটের সুগন্ধে ভরা বাতাস। এখানকার পাটকলগুলো কেবল ইটের দালান বা লোহা-লক্কড়ের সমষ্টি নয়। বরং তা হাজারো পরিবারের স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার অবলম্বন। কিন্তু সময় আর অব্যবস্থাপনার যাতাকলে পড়ে একে একে বন্ধ হয়ে যায় প্রাণের স্পন্দনগুলো। শ্রমিকদের আবেগ আর ঐতিহ্যের সেই সোনালি দিনগুলো থমকে যায় মরচে ধরা শাটলে।​​সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের ঘোষণায় সেই থমকে যাওয়া সময়ে আবার আশার আলো জ্বেলেছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো ইজারার মাধ্যমে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এ উদ্যোগ নেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো—বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পের আধুনিকায়ন এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। আরও পড়ুনহাওরপাড়ের কৃষক

ফিরে আসুক সোনালি আঁশের দিনগুলো

সাব্বির হোসাইন

ভোর হতেই যে শহর একসময় সাইকেলের টুংটাং আর হাজার হাজার শ্রমিকের কোলাহলে জেগে উঠতো; সেই নরসিংদীর পলাশ ও সংলগ্ন এলাকাগুলো দীর্ঘসময় ধরে নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা। গেটের ওপাশে তালাবদ্ধ পড়ে থাকা বিশালাকার যন্ত্রগুলো যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। তবে সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও চাকা ঘোরার দিন এসেছে।

​নরসিংদী ও পলাশ মানেই পাটের সুগন্ধে ভরা বাতাস। এখানকার পাটকলগুলো কেবল ইটের দালান বা লোহা-লক্কড়ের সমষ্টি নয়। বরং তা হাজারো পরিবারের স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার অবলম্বন। কিন্তু সময় আর অব্যবস্থাপনার যাতাকলে পড়ে একে একে বন্ধ হয়ে যায় প্রাণের স্পন্দনগুলো। শ্রমিকদের আবেগ আর ঐতিহ্যের সেই সোনালি দিনগুলো থমকে যায় মরচে ধরা শাটলে।

​সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের ঘোষণায় সেই থমকে যাওয়া সময়ে আবার আশার আলো জ্বেলেছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো ইজারার মাধ্যমে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এ উদ্যোগ নেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো—বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পের আধুনিকায়ন এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা।

​সাধারণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগই নেওয়া হবে স্থানীয় পর্যায় থেকে। কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পদে অভিজ্ঞদের সুযোগ দিয়ে মিলে আনা হবে আধুনিকতার ছোঁয়া। এটি কেবল উৎপাদন নয় বরং স্থানীয় হাজারো শিক্ষিত ও পরিশ্রমী যুবকের বেকারত্ব দূর করার অনন্য সুযোগ।

​পাটের সাথে এ অঞ্চলের মানুষের যে নাড়ির টান, তাকে পুঁজি করে নতুন বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবেন। ইজারার মাধ্যমে মিলগুলো পুনরায় চালু হলে কেবল পণ্য উৎপাদন হবে না বরং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ‘সোনালি আঁশ’ তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। নরসিংদীর অর্থনৈতিক মানচিত্রে আবারও যোগ হবে নতুন সমৃদ্ধির পালক।

​ইতিহাস যখন আধুনিকতার হাত ধরে; তখন সৃষ্টি হয় টেকসই উন্নয়নের গল্প। পলাশের বন্ধ জুটমিলগুলোর গেট যখন পুনরায় খুলবে; তখন তা কেবল শ্রমিকের ঘাম আর যন্ত্রের আওয়াজ হবে না, তা হবে নরসিংদীর ঐতিহ্যের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। শেকড়কে সাথে নিয়ে আগামীর এ অগ্রযাত্রা জাতীয় অর্থনীতিকে নিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow