ফুলবাড়িয়া নির্বাচন অফিসে: টাকা দিলেই সেবা মিলে
অফিস নয় এ যেনো ঘুষ,দুর্নীতি আর অনিয়মের আখড়া। যেখানে টাকা ছাড়া সেবা পাওয়ায় অনেকটা দুষ্কর। টাকার বিনিময়েই মিলে সেবা। নচেৎ ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের এ অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচন অফিসের বাহিরে একটি চেয়ার ও টেবিল বিছিয়ে এক নিরাপত্তা প্রহরি দিয়ে নতুন ভোটারদের আবেদনের কাগজপত্র চেকিং (যাচাই বাছাই) করান। এখান থেকেই শুরু হয় হয়রানি।বিভিন্ন অজুহাতে সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছে টাকা দাবি করা হয়। চাহিদামতো আবদার পূরণ না করলেই সেবাগ্রহীতার উপরে নেমে আসে মাত্রাতিরিক্ত হয়রানি ও নাজেহালের খড়গ। সামান্য ভুল ও আগে সিরিয়াল দেওয়ার নাম করে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়ার এমন দাবিতে সেবা গ্রহীতা ও নিরাপত্তা প্রহরীর সাথে প্রতিনিয়ত ঘটছে তর্ক-বিতর্কে জড়ানোর মতো ঘটনা। সরেজমিনে দেখা যায়, নামের বানানে ভুল ও ছবি তুলতে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ভোটার কার্ড সংশোধনের নামে সেবা গ্রহীতাদেরকে অহেতুক হয়রানি করা হয়। বয়স সংশোধনেও চাওয়া হয় টাকা। এসময় ইউনিফর্ম পরিহিত এক গ্রাম পুলিশকে কাজ করে দেওয়ার শর্তে টাকা তেওয়ার দৃশ্যও দেখা য
অফিস নয় এ যেনো ঘুষ,দুর্নীতি আর অনিয়মের আখড়া। যেখানে টাকা ছাড়া সেবা পাওয়ায় অনেকটা দুষ্কর। টাকার বিনিময়েই মিলে সেবা। নচেৎ ঘুরতে হয় দিনের পর দিন।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের এ অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচন অফিসের বাহিরে একটি চেয়ার ও টেবিল বিছিয়ে এক নিরাপত্তা প্রহরি দিয়ে নতুন ভোটারদের আবেদনের কাগজপত্র চেকিং (যাচাই বাছাই) করান। এখান থেকেই শুরু হয় হয়রানি।বিভিন্ন অজুহাতে সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছে টাকা দাবি করা হয়। চাহিদামতো আবদার পূরণ না করলেই সেবাগ্রহীতার উপরে নেমে আসে মাত্রাতিরিক্ত হয়রানি ও নাজেহালের খড়গ। সামান্য ভুল ও আগে সিরিয়াল দেওয়ার নাম করে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ চাওয়ার এমন দাবিতে সেবা গ্রহীতা ও নিরাপত্তা প্রহরীর সাথে প্রতিনিয়ত ঘটছে তর্ক-বিতর্কে জড়ানোর মতো ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নামের বানানে ভুল ও ছবি তুলতে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ভোটার কার্ড সংশোধনের নামে সেবা গ্রহীতাদেরকে অহেতুক হয়রানি করা হয়। বয়স সংশোধনেও চাওয়া হয় টাকা। এসময় ইউনিফর্ম পরিহিত এক গ্রাম পুলিশকে কাজ করে দেওয়ার শর্তে টাকা তেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।
জানা গেছে, গত ১ মার্চ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আমিনুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকেই অফিসটির শৃঙ্খল ভেঙ্গে পড়েছে। যার দরুন কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেপরোয়া ভাবে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় ছন্দপতন ও যতসব বিতর্কের সূচনা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, নির্বাচন অফিসের সাব্বির নামে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে দিয়ে সহকারি উপজেলা নির্বাচন অফিসার জগন্নাথ ও অফিসের কয়েকজন নামের বানানে ভুল ও ছবি তুলতে টাকা দাবি করান। দাবিকৃত টাকা না দিলে অফিসে ঘুরেও কাজ করানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে সহকারি নির্বাচন অফিসার জগন্নাথ টাকা দাবি করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে সেবা গ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহে দুদিন মঙ্গলবার ও বুধবার নতুন ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলা হয়।সেইদিন অফিসটিতে প্রচুর ভিড় থাকে। টাকা দিলে লোকজনকে দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র (এন আইডি) সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত আপলোড করে দেন। সেবাগ্রহীতারা আরও জানান,বয়স সংশোধন, নাম ও পিতা-মাতার নাম সংশোধন সংক্রান্ত যেকোন কাজই করতে হয় উৎকোচের মাধ্যমে। প্রত্যাশিত উৎকোচ প্রদান করলে কোন কাজই যেন অসম্ভব নয় এই অফিসটিতে। সম্প্রতি অফিসটিতে বিদেশগমনেচ্ছু কম বয়সিরাও টাকার বিনিময়ে বয়স বাড়িয়ে বিপুল হারে ভোটার হচ্ছেন। যা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুলতান আলীর ছেলে জিহাদ বলেন, আমি ভোটার হওয়ার জন্য প্রথম আবেদন করি পরে তা বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে ২৭শ টাকা দিয়ে গত ৮ জুলাই ভোটার হয়েছি। অফিসটিতে যা দেখলাম তাতে মনে হয় টাকা দিলেই আর কোন ভুল নাই।
মো. মোশফিকুর রহমান নামে আরেক ব্যক্তি জানান, তিনি টাকা না দেওয়ার কারণে গত ৬ মাসেও তাঁর আইডি কার্ড পাননি । নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান,আমি ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছি আমার ছবি উঠানোর জন্য তাদের কাছে গেলে আরও পরে যোগাযোগ করার কথা বলেন। অথচ টাকা দিলে আগেবাগেই সেবা দিতে দেখছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে ঘুষ দাবি করেন পরে তাদের কথা মতো একজন দিয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় কাজ করিয়েছি। আরও এক ব্যক্তি জানান, জরুরী প্রয়োজনে আমার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিসের কর্মকর্তাদের ঘুষ না দেওয়ায় পরবর্তীতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, সরকারি অফিসে টাকার বিনিময়ে সেবা দেওয়া খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া।
এ নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার অফিসের কেউ কোন অসঙ্গতিপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত নয়। টাকার বিনিময়ে সেবা দেওয়ার মতো এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকলে তাঁর বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিবো। ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল্ল্যাহ্- আল-মোতাহ্সিম প্রতিবেদককে প্রমান সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
What's Your Reaction?