ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য যেসব খাবার খাবেন

ফুসফুস আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের শরীর ঠিকমতো কাজ করার জন্য ফুসফুসের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। ফুসফুস যদি ভালো থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়, শরীরে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায়, এবং দৈনন্দিন কাজগুলো সহজে করা যায়। কিন্তু জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ফুসফুসের যত্ন নিই না। অনেক সময় ভুল খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। বিশেষ করে ধূমপান বা দূষিত পরিবেশে থাকা ফুসফুসকে আরও দুর্বল করে। সুস্থ ফুসফুস রাখতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন এবং নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম খুবই কার্যকর। চলুন দেখি, কোন খাবারগুলো ফুসফুসের জন্য উপকারী এবং কোনগুলো এড়ানো উচিত। ফুসফুসের জন্য উপকারী খাবার পানি পানি ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। ফুসফুস শুকিয়ে গেলে জ্বালা বা প্রদাহ হতে পারে। প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত, যাতে ফুসফুসের শ্লেষ্মা আর্দ্র থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকঠাক চলে। চর্বিযুক্ত মাছ স্যালমন, ম্যাকেরেল বা স্যারডিনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুল

ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য যেসব খাবার খাবেন

ফুসফুস আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের শরীর ঠিকমতো কাজ করার জন্য ফুসফুসের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। ফুসফুস যদি ভালো থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়, শরীরে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায়, এবং দৈনন্দিন কাজগুলো সহজে করা যায়।

কিন্তু জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ফুসফুসের যত্ন নিই না। অনেক সময় ভুল খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। বিশেষ করে ধূমপান বা দূষিত পরিবেশে থাকা ফুসফুসকে আরও দুর্বল করে।

সুস্থ ফুসফুস রাখতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন এবং নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম খুবই কার্যকর। চলুন দেখি, কোন খাবারগুলো ফুসফুসের জন্য উপকারী এবং কোনগুলো এড়ানো উচিত।

ফুসফুসের জন্য উপকারী খাবার

পানি

পানি ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। ফুসফুস শুকিয়ে গেলে জ্বালা বা প্রদাহ হতে পারে। প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত, যাতে ফুসফুসের শ্লেষ্মা আর্দ্র থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকঠাক চলে।

চর্বিযুক্ত মাছ

স্যালমন, ম্যাকেরেল বা স্যারডিনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো ফুসফুসের প্রদাহ কমায়, ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

আপেল

আপেলে রয়েছে ভিটামিন সি, ই এবং বেটা-ক্যারোটিন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভিটামিনগুলো ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

খুবানি (Apricots)

খুবানি ভিটামিন এ-তে সমৃদ্ধ। ভিটামিন এ শ্বাসনালির অভ্যন্তরীণ স্তরকে শক্ত রাখে এবং ফুসফুসের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

ব্রোকলি

ব্রোকলিতে আছে সালফোরাফেন নামক উপাদান, যা অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পলমোনারি ডিজিজ (COPD) এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে। বাঁধাকপি, কেল, ব্রাসেলস স্প্রাউটের মতো অন্যান্য ক্রুসিফেরাস সবজিতেও এই যৌগ পাওয়া যায়।

পোল্ট্রি (মুরগি, টার্কি)

পোল্ট্রিতে আছে ফুসফুসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এ। প্রাণীজ উৎস থেকে ভিটামিন এ আমাদের দেহ সহজে শোষণ করতে পারে।

বাদাম

সব বাদাম সমান নয়। ব্রাজিল বাদাম, আখরোট, হ্যাজেলনাট এবং বাদাম (Almond) ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পিস্টাচিও, কাজু বা চেস্টনাট কম স্বাস্থ্যকর, কারণ এগুলোতে বেশি কার্বোহাইড্রেট থাকে।

জলপাই তেল

অলিভ অয়েলে থাকা ভিটামিন ই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। অন্য তেলের মতো ক্যানোলা বা সয়াবিন তেল ফুসফুসের জন্য ততটা কার্যকর নয়।

বেরি (Berries)

বেরিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ব্লুবোরি, ক্র্যানবেরি, আকাশি বেরি বা স্ট্রবেরি ফুসফুসকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর খাবার

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসেসড মাংস খেলে COPD-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রভাব ফেলে। ধূমপান, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য জীবনধারার কারণও ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যের বাইরে কী করতে পারেন?

শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি শক্ত করলে ফুসফুস আরও কার্যকর এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বিশেষ করে যারা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ভুগছেন, তাদের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম উপকারী।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে ডায়াফ্রাম ও অন্তর্বর্তী পেশি শক্ত হয়। এতে শ্বাসের ক্ষমতা বাড়ে, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট কমে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। এমনকি স্বাস্থ্যবান মানুষরাও এই ব্যায়াম করে স্ট্যামিনা ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারেন।

ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সঠিক খাবার ও পানি, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন চর্বিযুক্ত মাছ, আপেল, খুবানি, ব্রোকলি, পোল্ট্রি, বাদাম, জলপাই তেল এবং বেরি। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন।

শরীরের ফুসফুস সুস্থ থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হয়, সংক্রমণ কমে এবং দৈনন্দিন জীবন আরও সতেজ ও কার্যকরী হয়।

সূত্র :  POWERbreathe

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow