ফেনীতে ৪০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ‘চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদ’

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোধা গ্রামে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন চাঁদগাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ। প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি আজও এই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে যথাযথ সংস্কার ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিনে দিনে ম্লান হচ্ছে এর জৌলুস। মসজিদের প্রবেশদ্বারে থাকা শ্বেতপাথরের ফলক ও ফারসি কবিতার লিপি অনুযায়ী জানা যায়, মোগল আমলের প্রখ্যাত জমিদার চাঁদগাজী ভূঁইয়া ১৭১২ খ্রিস্টাব্দে (১১২৪ হিজরি) এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম কোনো এক বংশের উত্তরসূরি এবং তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী শাসক। তার নামানুসারেই এই মসজিদ, এলাকা এবং স্থানীয় ‘চাঁদগাজী বাজার’-এর নামকরণ করা হয়েছে। মোগল স্থাপত্যের চিরচেনা তিনটি গম্বুজ নিয়ে নির্মিত এই মসজিদটি পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। ২৮ শতক জমির ওপর নির্মিত মসজিদটির দেয়াল প্রায় ৪ ফুট পুরু। মসজিদের ছাদে থাকা তিনটি গম্বুজের মধ্যে মাঝখানেরটি আকারে বেশ বড়। গম্বুজগুলোর ওপরে পাতা ও কলসের দৃষ্টিনন্দন নকশা এবং চারপাশে ১২টি ক্ষুদ্র মিনার

ফেনীতে ৪০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ‘চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদ’

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোধা গ্রামে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন চাঁদগাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ। প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি আজও এই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে যথাযথ সংস্কার ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিনে দিনে ম্লান হচ্ছে এর জৌলুস।

মসজিদের প্রবেশদ্বারে থাকা শ্বেতপাথরের ফলক ও ফারসি কবিতার লিপি অনুযায়ী জানা যায়, মোগল আমলের প্রখ্যাত জমিদার চাঁদগাজী ভূঁইয়া ১৭১২ খ্রিস্টাব্দে (১১২৪ হিজরি) এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম কোনো এক বংশের উত্তরসূরি এবং তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী শাসক। তার নামানুসারেই এই মসজিদ, এলাকা এবং স্থানীয় ‘চাঁদগাজী বাজার’-এর নামকরণ করা হয়েছে।

মোগল স্থাপত্যের চিরচেনা তিনটি গম্বুজ নিয়ে নির্মিত এই মসজিদটি পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। ২৮ শতক জমির ওপর নির্মিত মসজিদটির দেয়াল প্রায় ৪ ফুট পুরু। মসজিদের ছাদে থাকা তিনটি গম্বুজের মধ্যে মাঝখানেরটি আকারে বেশ বড়। গম্বুজগুলোর ওপরে পাতা ও কলসের দৃষ্টিনন্দন নকশা এবং চারপাশে ১২টি ক্ষুদ্র মিনার মসজিদটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভেতরে ও বাইরের দেয়ালে ফুল-লতাপাতার চমৎকার টেরাকোটা নকশা মোগল শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছাপ বহন করে।

মসজিদটি বর্তমানে অনেকটা ঝুঁকির মুখে। ১৯৮৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করলেও গত তিন দশকে বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দেয়ালে শ্যাওলা জমে কালচে আকার ধারণ করেছে, কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। মসজিদের সামনে থাকা বিশাল দিঘীটিও বর্তমানে জৌলুস হারিয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লি ও চাঁদগাজী ভূঁইয়ার বংশধররা জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা এই মসজিদ দেখতে আসেন। কিন্তু যাতায়াতের বেহাল রাস্তা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এটি বিকশিত হতে পারছে না।

এ বিষয়ে ফেনীর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক নাজমুস শাকিব কালবেলাকে জানান, পুরোনো মসজিদগুলো মেরামতের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। যদি এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো নির্দেশনা আসে তাহলে ঐতিহাসিক এসব মসজিদ গুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মহল যদি দ্রুত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়, তবে এটি ফেনী জেলার শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি হতে পারে। শতাব্দীর প্রাচীন এই মসজিদের গৌরব ধরে রাখা এখন সময়ের দাবি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow