ফের ডুবল চট্টগ্রাম, আরও কয়েক দিন ভোগান্তির আভাস

টানা দ্বিতীয় দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এ দুর্ভোগ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানা গেছে।  বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টিতে নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত নগরীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। প্রবর্তক মোড়ে পানি জমে যাওয়ায় দুই পাশের যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল, যার ফলে বিকল্প পথ হিসেবে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের গেট দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এছাড়া কাতালগঞ্জ, চকবাজার, মুরাদপুর, হালিশহর, আগ্রাবাদ, ঈদগাঁসহ আরও কয়েকটি জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে বুধবারের জলাবদ্ধতা মঙ্গলবারের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। এর আগে মঙ্গলবারের সৃষ্ট জলাবদ্ধতা খালের বাঁধ কাটার পর গভীর রাতে নিষ্কাশিত হয়। পথচারী আব্দুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার জন্য এখন আর কাউকে দোষ দেই না। এটা আমাদের কপালে লেখা হয়ে গেছে

ফের ডুবল চট্টগ্রাম, আরও কয়েক দিন ভোগান্তির আভাস

টানা দ্বিতীয় দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এ দুর্ভোগ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানা গেছে। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দিনে বৃষ্টিতে নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত নগরীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। প্রবর্তক মোড়ে পানি জমে যাওয়ায় দুই পাশের যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল, যার ফলে বিকল্প পথ হিসেবে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের গেট দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।

এছাড়া কাতালগঞ্জ, চকবাজার, মুরাদপুর, হালিশহর, আগ্রাবাদ, ঈদগাঁসহ আরও কয়েকটি জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে বুধবারের জলাবদ্ধতা মঙ্গলবারের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। এর আগে মঙ্গলবারের সৃষ্ট জলাবদ্ধতা খালের বাঁধ কাটার পর গভীর রাতে নিষ্কাশিত হয়।

পথচারী আব্দুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার জন্য এখন আর কাউকে দোষ দেই না। এটা আমাদের কপালে লেখা হয়ে গেছে।’
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই গলিগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে যায় এবং ড্রেন উপচে নোংরা পানি ঘরে ঢুকে পড়ে।’

চাকরিজীবী আমির হোসাইন জানান, মঙ্গলবারও ভিজে অফিসে যেতে হয়েছে এবং আজ (বুধবার) একই পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এদিকে, বুধবার সকালে প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গতকালের (মঙ্গলবার) ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। যদিও এই কাজগুলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এরা করছে। তারপরও আমি চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘জনগণ এই শহরের অংশ। অবশ্যই এই শহরকে তারা ভালোবাসে। এই শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করার জন্যই কিন্তু এই কাজগুলো হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন খালে রিটেইনিং ওয়াল করার জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রত্যাশার আগেই ভারি বৃষ্টি হওয়ায় পানি নামতে বাধা পেয়েছে।,

মেয়র জানান, তিনি সেনাবাহিনী এবং সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বাঁধগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর থেকেই পানি নামতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘জনগণকেও শহরের প্রতি দরদ থাকতে হবে। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক, পলিথিন, কর্কশিট আমরা ফেলব আর সারাক্ষণ মেয়রকে গালাগাল করব, এটা তো হতে পারে না। এই শহরের দায়বদ্ধতা সবার। এটা একা মেয়রের শহর না। শহরটা সবার।’

এদিকে বিকেলে চট্টগ্রামে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিনুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মঙ্গলবার রাত থেকে কাজ শুরু করেছি। রাত দেড়টার দিকে পানি সরে যায়। আমরা হিজড়া খালের কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। কাজ করার জন্য যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল তা অপসারণ করা হয়েছে। ফলে আগামীতে বৃষ্টি হলে পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরাসনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ১৬টি কুইক রিয়েকশন টিম গঠন করা হয়েছে। তারা যেখানে জলাবদ্ধতা হবে সেখানে যাবে। খাল নালা পরিষ্কার করতে হলে করবে৷ পাশাপাশি সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। আমরা আশা করছি, গত বছর বা তার আগে যে রকম জলাবদ্ধতা হয়েছিল, এবার তা অনেকাংশে কমে যাবে।  

নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মিনহাজ উদ্দীন কালবেলাকে বলেন, বুধবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।

অন্যদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের উপ- পরিচালক আব্দুর রহমান বলেন, আগামী ৩ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে দমকা হাওয়া ও কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে এই সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও বৃষ্টির কারণে নগরবাসীকে আরও কয়েকদিন এমন বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মিনহাজ তুহিন, চট্টগ্রাম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow