ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি ২ আসামির
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়া হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দুই পলাতক আসামি। শুক্রবার (০৩ জুলাই) রাতে মানিক মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি শোয়েব মুনশী ও মামলার ৩ নম্বর আসামি আল ইমরান খান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। এতে ভুয়া অপপ্রচার বন্ধ করে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান। এছাড়াও ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে ২ আসামি সংবাদ সম্মেলন করে গৌরীপুরবাসীকে সবকিছু জানানোর কথাও উল্লেখ করেন। দুজনেই ফেসবুক পোস্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিহত মানিক মিয়ার ভাই সুখ মিয়ার কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন তারা। এর আগে শ্রমিক নেতা মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় সদ্য শোয়েব মুন্সী, আল ইমরান খানসহ নাম উল্লেখ করা আটজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ৪ জুলাই শনিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। শোয়েব মুনশী উত্তর জেলা যুবদলের স
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়া হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দুই পলাতক আসামি।
শুক্রবার (০৩ জুলাই) রাতে মানিক মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি শোয়েব মুনশী ও মামলার ৩ নম্বর আসামি আল ইমরান খান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। এতে ভুয়া অপপ্রচার বন্ধ করে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান।
এছাড়াও ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে ২ আসামি সংবাদ সম্মেলন করে গৌরীপুরবাসীকে সবকিছু জানানোর কথাও উল্লেখ করেন।
দুজনেই ফেসবুক পোস্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিহত মানিক মিয়ার ভাই সুখ মিয়ার কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন তারা।
এর আগে শ্রমিক নেতা মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় আসামি করা হয় সদ্য শোয়েব মুন্সী, আল ইমরান খানসহ নাম উল্লেখ করা আটজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় ৪ জুলাই শনিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
শোয়েব মুনশী উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক এবং আল ইমরান উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পরপরই তাদের দুজনসহ ৩ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত অন্যজন হলেন গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান।
নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শোয়েব মুন্সী ও তার সহযোগীরা মানিক মিয়াকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের ভাই সুখ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুন্সী ও তার লোকজন আমার ভাইকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আসামিদের লোকজন আমাদের হুমকি দেন এবং দুর্ঘটনা বলে ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাই মারা যান। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি শোয়েব মুন্সী দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নিহত মানিকের সঙ্গে অন্যদের মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ছিল, সেই কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমি আগামী গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মানিক মিয়া হত্যা মামলায় শোয়েব মুন্সী, ইমরানসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছ। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামিদের ফেসবুক পোস্ট নজরে এসেছে। এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
What's Your Reaction?