ফ্রান্সে বৈঠকে বসছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের নাগরিক সমাজ

দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সের প্যারিসে মিলিত হবেন ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। নিউ ইয়র্ক ডিকলারেশন-এ বর্ণিত নীতিমালার ভিত্তিতে, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতেই এই বৈঠক হবে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়েন নোয়েল বারোত এই তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। তেল আবিবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের এক সমাবেশে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নোয়েল জানান, আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে ‘শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই বৈঠকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারোত বলেন, এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্যারিস অ্যাপিল চালুর এক ব

ফ্রান্সে বৈঠকে বসছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের নাগরিক সমাজ

দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সের প্যারিসে মিলিত হবেন ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। নিউ ইয়র্ক ডিকলারেশন-এ বর্ণিত নীতিমালার ভিত্তিতে, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতেই এই বৈঠক হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়েন নোয়েল বারোত এই তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

তেল আবিবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের এক সমাবেশে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নোয়েল জানান, আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে ‘শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এই বৈঠকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারোত বলেন, এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্যারিস অ্যাপিল চালুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এবং ফ্রান্সসহ প্রায় ১০টি দেশের স্টেট অব প্যালেস্টাইন-কে স্বীকৃতি দেওয়ার এক বছর পর। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ১২ জুনের বৈঠক থেকে উঠে আসা সুপারিশগুলো এ বছর ফ্রান্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনায় অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। আমরা এমন একটি নতুন কর্মসূচির আহ্বান তৈরি করতে চাই, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও কার্যকর বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেবে। আপনাদের কাজ অপরিহার্য কারণ মাঠের বাস্তবতা সম্পর্কে আপনাদের মতো আর কেউ এতটা অবগত নয়।’

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারোত বলেন, স্থানীয় সংগঠন ও কর্মীরাই ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজন, আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরও জানান, প্যারিস বৈঠকের আগে আলোচনাগুলো পাঁচটি মূল বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। এগুলো হচ্ছে-ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা ও গাজার পুনর্গঠন, দুই-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন এবং সংযুক্তিকরণ হুমকির মোকাবিলা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে জনমত গঠন, এবং গণতন্ত্র, সংস্কার ও আঞ্চলিক সংহতি।

তিনি আরও বলেন, এই কাজ নিউ ইয়র্ক ডিকলারেশন-এ বর্ণিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ গঠনে সহায়তা করবে।

বারোত বলেন, ‘চ্যালেঞ্জটি বিশাল। এর মাধ্যমে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন, এই দুই রাষ্ট্রকে যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করতে সক্ষম করা যায়।’

তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, ফ্রান্স অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow