বজ্রপাতে এক সপ্তাহে ৭১ জনের মৃত্যু
এক সময় ঝড়ের সঙ্গে প্রবল গর্জনে বজ্রপাত হলেও তা তেমন প্রাণঘাতী ছিল না। বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম, কিন্তু বর্তমানে বজ্রপাত নিয়মিতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। তিন দিন আগে থেকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বজ্রধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে হেঁটে নয়, দৌড়ে ঘরে যেতে হবে। বাইরে থাকলে খোলা আকাশের নিচে না থেকে ছাউনি আছে এমন কোনো কিছুর নিচে আশ্রয় নিতে হবে। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে। কর্মশালায় বজ্রপাতের ঝুঁকি রোধে চলমান উদ্যোগ পর্যালোচনা, ঘাটতি, চ্যালেঞ্জ শনাক্তসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৃহীত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। কর্মশালায় জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তুলনায় প্রতিবছর বজ্রপাতে বেশি মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বজ্রপাতে তিন হাজার ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবন রক্ষায় মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে নাগ
এক সময় ঝড়ের সঙ্গে প্রবল গর্জনে বজ্রপাত হলেও তা তেমন প্রাণঘাতী ছিল না। বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম, কিন্তু বর্তমানে বজ্রপাত নিয়মিতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। তিন দিন আগে থেকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বজ্রধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে হেঁটে নয়, দৌড়ে ঘরে যেতে হবে। বাইরে থাকলে খোলা আকাশের নিচে না থেকে ছাউনি আছে এমন কোনো কিছুর নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে। কর্মশালায় বজ্রপাতের ঝুঁকি রোধে চলমান উদ্যোগ পর্যালোচনা, ঘাটতি, চ্যালেঞ্জ শনাক্তসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গৃহীত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
কর্মশালায় জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার তুলনায় প্রতিবছর বজ্রপাতে বেশি মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বজ্রপাতে তিন হাজার ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবন রক্ষায় মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে নাগরিকদের অতি সাবধান থাকতে হবে।
কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, কুসংস্কার দূর করে সঠিক সময়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হলে সাইক্লোনের মতো বজ্রপাতেও মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশই কৃষক। কাজেই প্রাণহানি কমাতে দ্রুত আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো জরুরি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আবহাওয়া সংক্রান্ত ৯৫ শতাংশ নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। শুধু পূর্বাভাস দিলেই হবে না, জীবন বাঁচাতে মাঠপর্যায়ের কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে জানাতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, দেশে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুর্যোগের অতি ঝুঁকিপূর্ণ সময়। হিমালয়ের পাদদেশ ও বঙ্গোপসাগরের বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে তৈরি হওয়া আর্দ্রতা বজ্রমেঘ তৈরির মূল উৎস। আর ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ বজ্রপাত ও আকস্মিক বন্যার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, আবহাওয়া বার্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উদাসীনতা বড় সমস্যা। মানুষকে সচেতন করতে আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি স্লোগান নির্ধারণ করেছে। এটি হলো, ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’। তার মতে, প্রকৃতপক্ষে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, পূর্বাভাসের সব তথ্য অবশ্যই সময়োপযোগী হতে হবে। প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাতে হবে। বজ্রপাতে মুত্যুহার কমাতে সময়মতো পূর্বাভাস একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।
বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বুয়েট-জিআইডিপাসের পরিচালক তানভীর মনজুর বলেন, মাঠের কৃষকের কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট না থাকায় তথ্য পৌঁছাতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, কৃষক ও শ্রমিকেরা যখন তাদের পরিচিত কারও কাছ থেকে তথ্য পান, তখন তারা সেটাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কৌশলে মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা জানান, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওরগুলো বজ্রপাতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। আর ভুক্তভোগী হলেন কৃষক, জেলে ও শিক্ষার্থীরা। তিনি মনে করেন, কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি হতাহতের শিকার হন। কারণ, ফসল বাঁচাতে তাদের মাঠে যেতে হয়। ফসল বাঁচাতে না পারলে বছরজুড়ে তাদের অভাব–অনটনে ভুগতে হয়। এমন বাস্তবতায় সরকারকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।
What's Your Reaction?