বর্ণবাদ ইস্যুতে মুসলিম সিনেটরের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার আদালতের রায়
অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থি ও জনতাবাদী রাজনীতিক পলিন হ্যানসনের বিরুদ্ধে মুসলিম সিনেটর মেহরিন ফারুকিকে উদ্দেশ্য করে ২০২২ সালে করা বর্ণবাদমূলক মন্তব্য বৈষম্যমূলক ছিল বলে আগের রায় বহাল রেখেছেন দেশটির ফেডারেল কোর্ট। সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি মেলিসা পেরি ২০২৪ সালের রায়ের বিরুদ্ধে হ্যানসনের করা আপিল খারিজ করে দেন। এর ফলে আগের রায় বহাল থাকে। এর আগে ২০২৪ সালে বিচারপতি অ্যাঙ্গাস স্টুয়ার্ট রায়ে বলেন, ওয়ান নেশন পার্টির নেতা হ্যানসন সিনেটর মেহরিন ফারুকির একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জবাবে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটি ছিল ‘রাগান্বিত ব্যক্তিগত আক্রমণ’ এবং ‘মুসলিমবিরোধী’। আপিলে হ্যানসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত হওয়া উচিত। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে গ্রিনস পার্টির উপনেতা মেহরিন ফারুকি বলেন, আজকের এই বিজয় সেই সব মানুষের জন্য, যাদের কখনো না কখনো মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই দেশে তাদের অবস্থান শর্তসাপেক্ষ। তিনি আরও বলেন, এই মামলার উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবাদের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ঘৃণামূলক বক্তব্য কখনোই
অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থি ও জনতাবাদী রাজনীতিক পলিন হ্যানসনের বিরুদ্ধে মুসলিম সিনেটর মেহরিন ফারুকিকে উদ্দেশ্য করে ২০২২ সালে করা বর্ণবাদমূলক মন্তব্য বৈষম্যমূলক ছিল বলে আগের রায় বহাল রেখেছেন দেশটির ফেডারেল কোর্ট।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি মেলিসা পেরি ২০২৪ সালের রায়ের বিরুদ্ধে হ্যানসনের করা আপিল খারিজ করে দেন। এর ফলে আগের রায় বহাল থাকে।
এর আগে ২০২৪ সালে বিচারপতি অ্যাঙ্গাস স্টুয়ার্ট রায়ে বলেন, ওয়ান নেশন পার্টির নেতা হ্যানসন সিনেটর মেহরিন ফারুকির একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জবাবে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটি ছিল ‘রাগান্বিত ব্যক্তিগত আক্রমণ’ এবং ‘মুসলিমবিরোধী’।
আপিলে হ্যানসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত হওয়া উচিত। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে গ্রিনস পার্টির উপনেতা মেহরিন ফারুকি বলেন, আজকের এই বিজয় সেই সব মানুষের জন্য, যাদের কখনো না কখনো মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই দেশে তাদের অবস্থান শর্তসাপেক্ষ।
তিনি আরও বলেন, এই মামলার উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবাদের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ঘৃণামূলক বক্তব্য কখনোই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর দিন। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রানি এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক প্রকাশকারীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ফারুকি লেখেন, তিনি এমন একটি ‘বর্ণবাদী সাম্রাজ্যের’ নেতার জন্য শোক প্রকাশ করতে পারেন না, যে সাম্রাজ্য উপনিবেশিত মানুষের জীবন, ভূমি ও সম্পদ দখলের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল।
এর জবাবে হ্যানসন তাকে ‘পাকিস্তানে ফিরে যেতে’ বলেন। ২০২৪ সালের রায়ে বিচারপতি স্টুয়ার্ট মন্তব্য করেন, এটি মূলত ‘যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফিরে যাও’ ধরনের বহুল ব্যবহৃত বর্ণবাদী স্লোগানেরই একটি রূপ। আদালতের মতে, এই মন্তব্যে মুসলিমদেরও পরোক্ষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
রায়ে হ্যানসনকে ওই পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ফারুকির আইনি ব্যয় বহনের আদেশ দেওয়া হয়।
ফারুকি আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, হ্যানসনের মন্তব্য বর্ণ, গায়ের রং এবং জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এটি একজন ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে অপমান, হেয়, ভয়ভীতি বা মানসিকভাবে আঘাত করার মতো মন্তব্য, যা অস্ট্রেলিয়ার বর্ণবৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘন করে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হ্যানসন বলেন, তিনি এ সিদ্ধান্তে হতাশ। তিনি ও তার আইনজীবীরা রায় পর্যালোচনা করে অস্ট্রেলিয়ার হাই কোর্টে আপিল করবেন কি না, তা বিবেচনা করবেন।
পলিন হ্যানসন এর আগেও মুসলিম অভিবাসন নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘ভালো মুসলিম’ বলে কিছু নেই, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এ ছাড়া চলতি মাসে ব্রিটিশ কট্টর ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসনের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে হ্যানসন ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া’ নীতির প্রত্যাবর্তনের পক্ষে নন বলে দাবি করেন। তবে ওই আলোচনায় রবিনসন যখন প্রশ্ন করেন, কীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় পাকিস্তানি, সোমালি ও আফ্রিকান অভিবাসীদের আগমন ঘটল, তখন হ্যানসন জবাবে বলেন, ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতি বাতিল করার পরই এসব শুরু হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ‘হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া’ নীতির আওতায় ১৯০১ সাল থেকে ১৯৭০’র দশক পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসন কার্যত নিষিদ্ধ ছিল।
What's Your Reaction?