বর্ষার শেষদিকেও নৌকা তৈরির ব্যস্ততা

বর্ষা প্রায় শেষের পথে। অনেক খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও কমেনি কারিগরদের নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। কাঠে বাটালির আঘাত, হাতুড়ির টোকা আর নিখুঁত মাপে কাঠ জোড়া লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক নৌকা। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইঘর গ্রামে এমন চিত্র দেখা মিলেছে।  কয়েক বছর আগেও বর্ষা মৌসুমে হাতেগোনা কয়েকটি নৌকার অর্ডার মিলত। এখন বর্ষার শেষ দিকেও কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় এ উপজেলার মানুষকে। সেই অভিজ্ঞতাই আবার ফিরিয়ে এনেছে নৌকার কদর। এক সময় ব্রাহ্মণপাড়ায় নৌকার ব্যবহার ছিল বেশ পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে নৌকার প্রয়োজনীয়তা। নদী-খালনির্ভর জীবনযাত্রার পরিবর্তনে স্থানীয় কারিগরদের কাছেও নৌকা তৈরি গুরুত্ব হারায়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে গোমতী ও শালদা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা সেই চিত্র বদলে দেয়। আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষ নৌকার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন অনেক পরিবার বর্ষা এলেই আগেভাগে একটি নৌকা কিনে রাখেন। ফলে ২০২৪ সালের পর থেকে প্

বর্ষার শেষদিকেও নৌকা তৈরির ব্যস্ততা

বর্ষা প্রায় শেষের পথে। অনেক খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও কমেনি কারিগরদের নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। কাঠে বাটালির আঘাত, হাতুড়ির টোকা আর নিখুঁত মাপে কাঠ জোড়া লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক নৌকা। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইঘর গ্রামে এমন চিত্র দেখা মিলেছে। 

কয়েক বছর আগেও বর্ষা মৌসুমে হাতেগোনা কয়েকটি নৌকার অর্ডার মিলত। এখন বর্ষার শেষ দিকেও কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় এ উপজেলার মানুষকে। সেই অভিজ্ঞতাই আবার ফিরিয়ে এনেছে নৌকার কদর।

এক সময় ব্রাহ্মণপাড়ায় নৌকার ব্যবহার ছিল বেশ পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে নৌকার প্রয়োজনীয়তা। নদী-খালনির্ভর জীবনযাত্রার পরিবর্তনে স্থানীয় কারিগরদের কাছেও নৌকা তৈরি গুরুত্ব হারায়।

তবে ২০২৪ সালের আগস্টে গোমতী ও শালদা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যা সেই চিত্র বদলে দেয়। আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষ নৌকার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এখন অনেক পরিবার বর্ষা এলেই আগেভাগে একটি নৌকা কিনে রাখেন। ফলে ২০২৪ সালের পর থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়ে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, নাইঘর গ্রামে ব্রাহ্মণপাড়া-শশীদল সড়কের পাশে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত দুই ভাই সুভাষ ও সাদন সূত্রধর। পৃথক কর্মশালায় চলছে তাদের নৌকা তৈরির কাজ। বছরের অধিকাংশ সময় তারা কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেন। কিন্তু বর্ষা এলেই নৌকা তৈরিতে মনোযোগ দেন। চলতি বর্ষার শুরু থেকে কয়েকটি নৌকা তৈরির কাজ পেয়েছৈন তারা। 

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। তাই নৌকাকে দুর্যোগের সময় পরিবারের নিরাপত্তার অন্যতম উপকরণ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে বর্ষার শেষদিকেও নৌকা কিনছেন অনেকে। 

নৌকার কারিগর সুভাষ সূত্রধর বলেন, আগে বর্ষা এলেও দুই-চারটির বেশি নৌকা বিক্রি হতো না। নৌকা তৈরি ছিল অতিরিক্ত একটি কাজ। কিন্তু ২০২৪ সালের বন্যার পর থেকে মানুষ নৌকার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বুঝেছে। এখন বর্ষাকালে আগের তুলনায় নৌকার বিক্রি বেশি। এবারও ভালোই কাজ পেয়েছি। 

স্থানীয় এক নৌকার ক্রেতা জহির মিয়া বলেন, কিছুদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কয়েকদিন আগে শুনেছি গোমতী নদীর পানি বাড়ছে। এটা শুনে ২০২৪ সালের আগস্টের বন্যার ভয়াবহতা আর নৌকার অভাবে কষ্টের কথা মনে পড়ে যায়। এ জন্য একটা নৌকার অর্ডার করেছিলাম। আজকে নিতে এসেছি।

নৌকার আরেক কারিগর সাদন সূত্রধর বলেন, উপজেলায় কিছু এলাকায় নৌকার প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। তবে ২৪ সালের বন্যায় নৌকা না থাকায় মানুষ অনেক কষ্ট পেয়েছে। ফলে বর্ষা এলেই মানুষ নৌকা কিনছে। তাই নিয়মিত কাজের পাশাপাশি নৌকা তৈরিতে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে।  

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow