চোখের পাপের কারণে অন্তর আলোহীন ও অন্ধ হয়ে যায়: ড. ইয়াসির আদ-দাওসারি
সমস্ত প্রশংসা কেবলই আল্লাহর যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই গোপন থাকে না, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় সম্পর্কেও সম্যক অবগত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তাঁর রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ ও সর্বোচ্চ গুণাবলী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি সৃষ্টির সেরা। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তার ওপর, তার পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবি এবং যারা কেয়ামত পর্যন্ত তাঁদের সঠিক পথ অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর। আমি আপনাদের ও নিজেকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। তাকওয়াই হলো মুক্তি ও নিরাপত্তার পথ, সফলতা ও মর্যাদা লাভের মাধ্যম। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহাসফলতা অর্জন করে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেসব মহান নেয়ামত দান করেছেন এবং যার মাধ্যমে অশেষ অনুগ্রহ ও ইহসান করেছেন, দৃষ্টিশক্তি তার অন্যতম। এই নেয়ামত কত বড় এবং এর হক কত বেশি তা বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমেই মানুষ ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে, বিপদ-আপদ এড়াতে পারে এবং আত্মরক্ষা কর
সমস্ত প্রশংসা কেবলই আল্লাহর যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই গোপন থাকে না, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় সম্পর্কেও সম্যক অবগত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তাঁর রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ ও সর্বোচ্চ গুণাবলী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি সৃষ্টির সেরা। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তার ওপর, তার পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবি এবং যারা কেয়ামত পর্যন্ত তাঁদের সঠিক পথ অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর।
আমি আপনাদের ও নিজেকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি। তাকওয়াই হলো মুক্তি ও নিরাপত্তার পথ, সফলতা ও মর্যাদা লাভের মাধ্যম। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহাসফলতা অর্জন করে।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেসব মহান নেয়ামত দান করেছেন এবং যার মাধ্যমে অশেষ অনুগ্রহ ও ইহসান করেছেন, দৃষ্টিশক্তি তার অন্যতম। এই নেয়ামত কত বড় এবং এর হক কত বেশি তা বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমেই মানুষ ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে, বিপদ-আপদ এড়াতে পারে এবং আত্মরক্ষা করতে পারে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আমি কি তাকে দুটি চোখ দিইনি?’
এজন্যই দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরীক্ষায় যে ধৈর্য ধরে, তার জন্য রয়েছে মহাপ্রতিদান। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি যখন আমার কোনো বান্দাকে তার প্রিয় দুটি জিনিস (অর্থাৎ চোখ) দিয়ে পরীক্ষায় ফেলি এবং সে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আমি তার বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করব।’
সুতরাং দৃষ্টিশক্তি এমন এক নেয়ামত, যার জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাদের পেট থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদের দিয়েছেন কান, চোখ ও হৃদয়, যাতে তোমরা শোকর আদায় করো।’
চোখের নেয়ামতের শোকর আদায়ের অন্যতম উপায় হলো, এই চোখকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার না করা এবং কেবল নিজের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে ব্যবহার করা। দৃষ্টিকে হারাম কাজ থেকে হেফাজত করা এবং গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা জরুরি। অন্তরের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে চোখের পাপ। চোখ হলো অন্তরের দূত বা বার্তাবাহক। চোখ যখন কিছু দেখে, অন্তর তখন তাতে আটকে যায়। আর অন্তর আটকে গেলে কুপ্রবৃত্তি জেগে ওঠে, একের পর এক চিন্তা ও কুমন্ত্রণা জমা হতে থাকে।
যেহেতু ইসলাম পাপাচারের পথ বন্ধ করতে চায়, তাই ইসলাম কেবল ব্যভিচারকেই হারাম করেনি; বরং ব্যভিচারের দিকে নিয়ে যায় এমন সব মাধ্যম ও পথকেও নিষিদ্ধ করেছে। এজন্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে হারাম দৃষ্টিপাত ফিরিয়ে রাখার স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে। এমনকি লজ্জাস্থান হিফাজতের আগেই দৃষ্টি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ এদের একটির সঙ্গে অপরটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত। আর মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’
হারাম দৃষ্টিপাত হলো শয়তানের বিষাক্ত তীরগুলোর একটি এবং তার বিছানো ভয়ংকর জাল। এই তীর যখন অন্তরে বিদ্ধ হয়, তখন অন্তরকে ধ্বংস করে দেয়, অন্তরের নূর নিভিয়ে অন্ধ করে দেয়। অন্তর যখন এই বিষাক্ত তীরে বিদ্ধ হয়, তখন সে কামনার দাসে পরিণত হয়; সত্যকে চেনার ও অন্যায়কে প্রতিহত করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
চোখ এমন সব জিনিস সুন্দর করে দেখায় যা হয়তো সে কখনো পাবে না। ফলে বাস্তবতার বিপরীতে এক মিথ্যা রূপ ভেসে ওঠে। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত দৃষ্টিকে অনিয়ন্ত্রিত না রাখা। দৃষ্টি সংযত রাখার কষ্ট পরের মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণার চেয়ে অনেক সহজ।
বর্তমান জামানায় এই প্রলোভন ও বিভ্রান্তির নানা পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এগুলো এখন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে কোনো অনুমতি, সামাজিক বা ধর্মীয় রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে মানুষের ঘরে ও মস্তিষ্কে প্রবেশ করছে।
এই সময়ে আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার দৃষ্টি সংযমের নির্দেশ মনে রাখা। এই যুগে দৃষ্টি সংযত রাখাই হলো তাকওয়ার অন্যতম সেরা রূপ।
হে মুমিনগণ! দৃষ্টি সংযত রাখলে অন্তর পবিত্র হয়। অন্তর ইবাদতে মনযোগী হয়। এটি মানুষকে প্রবৃত্তি ও বিভ্রান্তির সাগরে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে বান্দা শারীরিক প্রশান্তি, আত্মিক সুখ, ইমানের স্বাদ ও আনুগত্যের আনন্দ লাভ করে। এটি জ্ঞানের দুয়ার উন্মুক্ত করে দেয় এবং মানুষকে প্রজ্ঞা, সঠিক দিকনির্দেশনা, অন্তর্দৃষ্টি, সাহসিকতা ও অন্তরের নূর দান করে। হারাম থেকে দৃষ্টিকে যত বেশি সংযত রাখা যাবে, অন্তরে তত বেশি নূর বা আলো লাভ হবে।
দৃষ্টি সংযমের আরেকটি সুফল হলো, বান্দা তার দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণমূলক কাজে মন দিতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি মানুষের চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে, মনকে অশান্ত করে, অঙ্গপ্রতঙ্গকে ক্লান্ত করে। বুদ্ধিমান মানুষ পরিণাম চিন্তা করে। সে জানে চোখের ক্ষণিক স্বাদের চেয়ে বছরের পর বছর অনুশোচনার কষ্ট বেশি। আল্লাহর কাছে যা আছে, তা-ই সর্বোত্তম ও স্থায়ী।
আল্লাহ তাআলা বলেন, `তুমি কখনো চোখ প্রসারিত করো না ওই সব বস্তুর দিকে যা আমি তাদের বিভিন্ন দলকে পার্থিব জীবনে উপভোগের জন্য সৌন্দর্য স্বরূপ দিয়েছি, এসব দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। তোমার প্রতিপালকের দেয়া রিজকই হলো সবচেয়ে উত্তম ও সবচেয়ে বেশি স্থায়ী।’
আল্লাহ তাআলা আমাকে ও আপনাদেরকে তাঁর কিতাব ও রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর হেদায়াতের মাধ্যমে উপকৃত করুন। আমি আমার কথা শেষ করছি এবং আমার, আপনাদের ও সকল মুসলিমের পাপ মোচনের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারাও তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
(৩০ জুলাই ২০২৬ মসজিদুল হারামে জুমার নামাজের আগে এই খুতবাটি প্রদান করেন ড. ইয়াসির আদ-দাওসারি। তার প্রদত্ত আরবি খুতবাটি অনুবাদ করেছে জাগো নিউজের ইসলাম ডেস্ক।)
সূত্র: The official youtube channel of KSA Qur’an TV
ওএফএফ
What's Your Reaction?