বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ে শিক্ষার্থীদের

ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সারিবদ্ধভাবে হাঁটার দৃশ্য। একে অপরকে ধরে পানির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। সবার পরনে স্কুলের পোশাক। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, তারা হয়তো পানিতে খেলছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য হাঁটুপানি পেরোতে হয় এসব শিক্ষার্থদের। এমন চিত্র দেখা গেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্ষা এলেই বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে যাতায়াত হয়ে ওঠে দুর্ভোগের। হাঁটুপানি পেরিয়ে, কাঁধে স্কুলব্যাগ আর হাতে জুতা নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাদের। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির পর হাঁটুপানি পেরিয়ে বাড়ি ফিরছে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। তারা একে অপরকে ধরে সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। এরপরও কারও জামাকাপড় ভিজে গেছে, কারও হাত-পায়ে লেগেছে কাদা। উপজেলা সদর থেকে খুব বেশি দূরে নয় বিদ্যালয়টি। অথচ বর্ষাকালে সেখানে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেকেই বই-খাতা ভিজে যাওয়ার ভয়ে স্কুলব্যাগ মাথার ওপরে তুলে কিংবা কাঁধে ঝুলিয়ে পানির মধ্য দিয়ে পথ পাড়ি দেয়। জুতা খুলে হাতে নিয়েই হাঁটতে হয় তাদে

বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ে শিক্ষার্থীদের

ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সারিবদ্ধভাবে হাঁটার দৃশ্য। একে অপরকে ধরে পানির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। সবার পরনে স্কুলের পোশাক। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, তারা হয়তো পানিতে খেলছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য হাঁটুপানি পেরোতে হয় এসব শিক্ষার্থদের।

এমন চিত্র দেখা গেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্ষা এলেই বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে যাতায়াত হয়ে ওঠে দুর্ভোগের। হাঁটুপানি পেরিয়ে, কাঁধে স্কুলব্যাগ আর হাতে জুতা নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাদের।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির পর হাঁটুপানি পেরিয়ে বাড়ি ফিরছে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। তারা একে অপরকে ধরে সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। এরপরও কারও জামাকাপড় ভিজে গেছে, কারও হাত-পায়ে লেগেছে কাদা।

উপজেলা সদর থেকে খুব বেশি দূরে নয় বিদ্যালয়টি। অথচ বর্ষাকালে সেখানে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেকেই বই-খাতা ভিজে যাওয়ার ভয়ে স্কুলব্যাগ মাথার ওপরে তুলে কিংবা কাঁধে ঝুলিয়ে পানির মধ্য দিয়ে পথ পাড়ি দেয়। জুতা খুলে হাতে নিয়েই হাঁটতে হয় তাদের।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ চললেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন পানির মধ্যে দিয়ে যাতায়াতের কারণে বই-খাতা ও স্কুলের পোশাক নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা জানান, কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শুধু যাতায়াতের পথই নয়, বিদ্যালয়ের পুকুরসংলগ্ন একটি ভবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যথাসময়ে সংস্কার করা না হলে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি। অথচ এই পথ দিয়ে শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকই নন, আশপাশের গ্রামের মানুষও চলাচল করেন।

গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ধরে রাখতে শিক্ষার্থীরা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই স্কুলে আসছে। কিন্তু নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে যদি প্রতিদিন হাঁটুপানি পেরোতে হয়, তবে তা শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়, এটি শিক্ষা অবকাঠামোর দুর্বলতারও প্রতিচ্ছবি।’

বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছি। শিশুরা খুব কষ্ট করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ৩৪টি বিদ্যালয়ের নতুন রাস্তা নির্মাণের চাহিদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দিয়েছি। দ্রুত কাজ হওয়ার কথা।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, উপজেলায় অন্তত ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতিও তার নজরে এসেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩২ শিক্ষার্থীর প্রশ্ন এখন একটাই, শিক্ষার পথে জলাবদ্ধতার এই বাধা কবে দূর হবে?

শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আর আশ্বাস নয়, দ্রুত রাস্তা সংস্কার এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow