‘বসনিয়া কোথায় জানি না, জানতেও চাই না’: মার্কিন নারী সাংবাদিকের মন্তব্যে নিন্দার ঝড়

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্ব তথা শেষ ৩২-এর ঐতিহাসিক ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ফুটবল মহোৎসবের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আবহ তৈরি হওয়ার আগেই মাঠের বাইরে এক বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এক মার্কিন টেলিভিশন সাংবাদিক।  এবিসি সেভেন লস অ্যাঞ্জেলেসের রিপোর্টার অ্যাবিগেল ভেলেজ সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বসনিয়াকে নিয়ে চরম অবমাননাকর ও অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের তোপের মুখে পড়েছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী বুধবার বসনিয়ার মুখোমুখি হবে, কিন্তু বসনিয়া সম্পর্কে তিনি মানচিত্রে সেটি কোথায় তা সুনির্দিষ্ট করে দেখাতে পারবেন না এবং দেশটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না ও জানতেও চান না। তার এই অহংকারী ও অপেশাদার মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ভক্তসহ আন্তর্জাতিক ফুটবল মহল এই নারী সাংবাদিকের তীব্র সমালোচনা করছেন। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, একজন সাংবাদিক হিসেবে কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান না জানাটা

‘বসনিয়া কোথায় জানি না, জানতেও চাই না’: মার্কিন নারী সাংবাদিকের মন্তব্যে নিন্দার ঝড়

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্ব তথা শেষ ৩২-এর ঐতিহাসিক ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ফুটবল মহোৎসবের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আবহ তৈরি হওয়ার আগেই মাঠের বাইরে এক বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এক মার্কিন টেলিভিশন সাংবাদিক। 

এবিসি সেভেন লস অ্যাঞ্জেলেসের রিপোর্টার অ্যাবিগেল ভেলেজ সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বসনিয়াকে নিয়ে চরম অবমাননাকর ও অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের তোপের মুখে পড়েছেন। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী বুধবার বসনিয়ার মুখোমুখি হবে, কিন্তু বসনিয়া সম্পর্কে তিনি মানচিত্রে সেটি কোথায় তা সুনির্দিষ্ট করে দেখাতে পারবেন না এবং দেশটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না ও জানতেও চান না। তার এই অহংকারী ও অপেশাদার মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ভক্তসহ আন্তর্জাতিক ফুটবল মহল এই নারী সাংবাদিকের তীব্র সমালোচনা করছেন। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, একজন সাংবাদিক হিসেবে কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান না জানাটা লজ্জাজনক, কিন্তু ‘জানতে না চাওয়া’র মতো ঔদ্ধত্য প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতি ও সম্পাদকীয় মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন। 

অনেক মার্কিন ফুটবল সমর্থকও এই মন্তব্যে গভীর হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতি এমন অজ্ঞতা ও অহংকার অত্যন্ত হতাশাজনক। সমালোচনার মুখে পড়ে ইতোমধ্যে ওই সাংবাদিক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টটি ‘প্রাইভেট’ বা ব্যক্তিগত করতে বাধ্য হয়েছেন। 

বসনিয়ান ফুটবল ভক্তরা একে সস্তা ট্র্যাশ টক বা কুৎসিত মন্তব্য হিসেবে দেখছেন, যা মূলত বসনিয়া দলের খেলোয়াড়দের আগামী ম্যাচে আমেরিকার বিরুদ্ধে মাঠের লড়াইয়ে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া বসনিয়ার জন্য এই ম্যাচটি অত্যন্ত আবেগের এবং গৌরবের। ১৯৯২ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করা এবং দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও গণহত্যা থেকে বেঁচে ফেরা এই দেশটি এবার গ্রুপ পর্বে কানাডাকে স্তব্ধ করে দিয়ে শেষ ৩২-এ পা রেখেছে। আগামী বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক হিসেবে মৌরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে থাকা মার্কিন দল গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেললেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে নকআউট পর্বের নকশায় কাগজে-কলমে আমেরিকাকে এগিয়ে রাখা হলেও, মাঠের লড়াইয়ের আগে এই মার্কিন সাংবাদিকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তি পুরো ম্যাচটিকে এক অন্যরকম স্নায়ুযুদ্ধে রূপ দিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow