বাংলাদেশিদের সহমর্মিতায় বাড়লো ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ঈদ আনন্দ
যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়ায় বসবাস করা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ঈদের আনন্দে সামিল করতে এগিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশিরা। মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের উদ্যোগে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাজারো অসহায় মানুষের ঘরে পৌঁছে গেছে ঈদুল আজহার আনন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পরই মিশরের রাজধানী কায়রো ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশু সংগ্রহ শুরু করে বাংলাদেশি সংগঠনগুলো। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুদান ও দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমে এ বছর অন্তত ১০টি সংগঠন অংশ নিয়েছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলহাজ শামসুল হক (আশ) ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশন, ইলমান নাফিয়া ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-প্যালেস্টাইন ফ্রেন্ডশিপ, বিএম সাবাব ফাউন্ডেশন, আত-তাইয়িব ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ইউথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন। তারা উট, গরু ও দুম্বা কোরবানি করে শরণার্থীদের মধ্যে মাংস
যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়ায় বসবাস করা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ঈদের আনন্দে সামিল করতে এগিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশিরা।
মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের উদ্যোগে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাজারো অসহায় মানুষের ঘরে পৌঁছে গেছে ঈদুল আজহার আনন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পরই মিশরের রাজধানী কায়রো ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশু সংগ্রহ শুরু করে বাংলাদেশি সংগঠনগুলো। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুদান ও দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কার্যক্রমে এ বছর অন্তত ১০টি সংগঠন অংশ নিয়েছে।
সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলহাজ শামসুল হক (আশ) ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশন, ইলমান নাফিয়া ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ-প্যালেস্টাইন ফ্রেন্ডশিপ, বিএম সাবাব ফাউন্ডেশন, আত-তাইয়িব ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ইউথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন। তারা উট, গরু ও দুম্বা কোরবানি করে শরণার্থীদের মধ্যে মাংস বিতরণ করেছে।
আশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় সংগৃহীত অর্থে কোরবানির পশু কিনে জবাই করা হয়েছে। পরে মাংস প্যাকেটজাত করে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মিশরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।’
মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মানবিক সংগঠন ইউথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলাম সাকিব বলেন, ‘গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা অনেক পরিবার ঈদে কোরবানির মাংস পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে বাংলাদেশিদের এই সহায়তা বিশেষ ভূমিকা রাখছে।’
মাংস বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবী নাইম হাসান জানান, মিশরে আশ্রয় নেওয়া অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার অত্যন্ত সীমিত আয় ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। তাদের জন্য এই সহায়তা শুধু খাদ্য নয়, বরং মানবিক সংহতি ও ভালোবাসারও একটি বার্তা বহন করছে।
আরেক স্বেচ্ছাসেবী হুজাইফা খান জানান, শুধু ঈদকে কেন্দ্র করেই নয়, ভবিষ্যতেও ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও যুদ্ধাহত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সহায়তা গ্রহণকারী ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা বাংলাদেশি জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, সংকটের এই সময়ে হাজার মাইল দূরের একটি দেশের মানুষের সহমর্মিতা ও ভালোবাসা তাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। তারা বাংলাদেশের জনগণের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান।
মানবিক এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করেছে, ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা জাতিগত বিভাজন মানবতার পথ রোধ করতে পারে না। দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে সংস্কৃতি বাংলাদেশ বহন করে, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে মিশরে আশ্রিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য এই কোরবানি কার্যক্রম।
একিউএফ/
What's Your Reaction?