বাংলাদেশ-পাকিস্তান বলেই কী এই মিল?
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। তবে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের সময়টা থেকে যেন মিলে-মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল এই দুই দেশ। হয়ে উঠেছিল সত্যিকারের ‘ভাই-ভাই’। যদিওবা শেষ পর্যন্ত ‘বয়কট’ নাটকের অবসান ঘটিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ঠিকই খেলেছে পাকিস্তান। তবে সেই বিশ্বকাপ এখন অতীত ঘটনা।
বিশ্বকাপ পর্ব শেষ করে পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী পাকিস্তান এখন বাংলাদেশে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। এই সিরিজেও দুই দেশের মধ্যে ঘটে গেছে দারুণ কিছু ঘটনা। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের করা সালমান আগার রান আউট তো রীতিমতো তোলপাড় তুলেছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায়। এই ঘটনার পর থেকে আরও একবার সামনে এসেছে ‘ক্রিকেটীয় চেতনা’ নাকি আইন, কোনটা আগে চিরন্তন—এই প্রশ্ন। বিশ্বকাপের আগে দারুণ বন্ধু হয়ে উঠা দুই দলের মধ্যেই যেন হঠাৎ বৈরিতার আবির্ভাব।
তবে এই সিরিজে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দারুণ মিলও আছে। কেউ কেউ তো আবার ‘কাকতাল’ নাকী ‘কোকিলতাল’ তা নিয়ে হাস্যরসও করছে।
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বি
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। তবে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের সময়টা থেকে যেন মিলে-মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল এই দুই দেশ। হয়ে উঠেছিল সত্যিকারের ‘ভাই-ভাই’। যদিওবা শেষ পর্যন্ত ‘বয়কট’ নাটকের অবসান ঘটিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ঠিকই খেলেছে পাকিস্তান। তবে সেই বিশ্বকাপ এখন অতীত ঘটনা।
বিশ্বকাপ পর্ব শেষ করে পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী পাকিস্তান এখন বাংলাদেশে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। এই সিরিজেও দুই দেশের মধ্যে ঘটে গেছে দারুণ কিছু ঘটনা। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের করা সালমান আগার রান আউট তো রীতিমতো তোলপাড় তুলেছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায়। এই ঘটনার পর থেকে আরও একবার সামনে এসেছে ‘ক্রিকেটীয় চেতনা’ নাকি আইন, কোনটা আগে চিরন্তন—এই প্রশ্ন। বিশ্বকাপের আগে দারুণ বন্ধু হয়ে উঠা দুই দলের মধ্যেই যেন হঠাৎ বৈরিতার আবির্ভাব।
তবে এই সিরিজে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দারুণ মিলও আছে। কেউ কেউ তো আবার ‘কাকতাল’ নাকী ‘কোকিলতাল’ তা নিয়ে হাস্যরসও করছে।
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই একই চিত্রনাট্য। বেরসিক ঝড়ো বৃষ্টির আগে পরে হলো একপেশে লড়াই। তবে এবার আর জয়ী দলের নামটা বাংলাদেশ নয়; দাপুটে পারফরম্যান্সে মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল পাকিস্তান।
মজার মিলটা ঘটেছে আসলে স্কোরবোর্ডে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ১১৪ রানে অলআউট হয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘটল ঠিক উল্টো। আজ বাংলাদেশ অলআউট সেই ঠিক ১১৪ রানেই। এমনটা আসলে কীভাবে সম্ভব? বাংলাদেশ-পাকিস্তান বলেই কী এই মিল?
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার প্রথমে ব্যাট করে ২৭৪ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ১১৪ রানে। ব্যাটে-বলে সমানতালে পারফর্ম করে সফরকারীদের এই জয়ের নায়ক মাজ সাদাকাত। প্রথম ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল তার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন সাদাকাত।
লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল খুবই বাজে। দলীয় ১৫ রানেই ৩ ব্যাটারকে হারায় তারা। সে ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টার বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকায় স্বাগতিকেদের সামনে ৩২ ওভারে ২৪৩ রানের নতুন লক্ষ্য দেওয়া হয়। বৃষ্টির আগে ৩ উইকেট হারানো দলটি লিটন দাসের ঝোড়ো ব্যাটে আশা দেখছিল। কিন্তু এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার প্যাভিলিয়নে হাঁটার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। ৪১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় তারা।
চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৩৩ বলে ৪১ রান করেন লিটন। বাংলাদেশের হয়ে এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ২৮ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার পাকিস্তানি বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। তিনটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনের অর্ধেকের বেশি ধসিয়ে দেন সাদাকাতা ও হারিস রউফ। শাহিনের শিকার দুটি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল উড়ন্ত। কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলাররা লাগাম টেনে ধরায় পৌনে তিনশর আগেই থামে অতিথিরা। মাজ সাদাকাত ৭৫ এবং সালমান আলী আগা করেন ৬৪ রান। ফিফটির দেখা না পেলেও তাদের যোগ সঙ্গে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান (৪৪ রান) এবং সাহিবজাদা ফারহান (৩১ রান)। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ হোসেন ৩ এবং মিরাজ নেন ২ উইকেট।