বাংলা সাহিত্য রবীন্দ্রনাথের কাছে ঋণী: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে বাংলা সাহিত্য ঋণী বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির আকাশে তিনি (রবীন্দ্রনাথ) তার যে বিচরণ এটি বক্তৃতা দিয়ে বলে বোঝাবার অবকাশ আছে বলে আমি অন্তত মনে করি না। তবে তিনি যেভাবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, বাংলা ভাষার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং বাংলাকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছেন সেটার জন্য আমরা তার কাছে ঋণী হয়ে থাকব।  শুক্রবার (৮ মে) নওগাঁর পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।  তিনি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে ১৫৭টি গীতি কবিতার সমৃদ্ধ যে বই গীতাঞ্জলী তিনি নিজে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন এবং যার কারণে তিনি শুধু এই কাব্যগ্রন্থটি স্বাভাবিকভাবেই সামনে ছিল এই কবিতার গ্রন্থটি। সে জন্যই কারণে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিশ্বসভায় বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশের সাহিত্য এবং বাংলাদেশের কবিতা-গানকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যতদিন এই ভূখণ্ড থাকবে, এই ভাষা এব

বাংলা সাহিত্য রবীন্দ্রনাথের কাছে ঋণী: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে বাংলা সাহিত্য ঋণী বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

তিনি বলেন, উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির আকাশে তিনি (রবীন্দ্রনাথ) তার যে বিচরণ এটি বক্তৃতা দিয়ে বলে বোঝাবার অবকাশ আছে বলে আমি অন্তত মনে করি না। তবে তিনি যেভাবে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, বাংলা ভাষার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং বাংলাকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছেন সেটার জন্য আমরা তার কাছে ঋণী হয়ে থাকব। 

শুক্রবার (৮ মে) নওগাঁর পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে ১৫৭টি গীতি কবিতার সমৃদ্ধ যে বই গীতাঞ্জলী তিনি নিজে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন এবং যার কারণে তিনি শুধু এই কাব্যগ্রন্থটি স্বাভাবিকভাবেই সামনে ছিল এই কবিতার গ্রন্থটি। সে জন্যই কারণে তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিশ্বসভায় বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশের সাহিত্য এবং বাংলাদেশের কবিতা-গানকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যতদিন এই ভূখণ্ড থাকবে, এই ভাষা এবং এই সংস্কৃতি থাকবে রবীন্দ্রনাথ সবসময় চির জাগরূক হয়ে থাকবেন।

রাষ্ট্রদূত আনসারী বলেন, আমরা দুই ধরনের সংশয়ের মধ্যে থাকি। আমাদের নিজস্ব যে সংস্কৃতি আমরা তাকে ধারণ করবো কি করব না এই ধরনের একটা শ্রেণি আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে। আমি তো এভাবে যদি বলি যেমন আমরা অনেক সময় সংশয়বাদী হই। কাজী নজরুল ইসলাম যখন অনশন করছিলেন আপনারা জানেন ধূমকেতুর কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। ৩৯ দিনের মত তাকে অনশন করতে হয়েছে এবং ৩৩ দিনের মাথায় রবীন্দ্রনাথ তাকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন। সুতরাং এইভাবে নজরুলও রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেছিলেন। সুতরাং তাদের মধ্যে যদি কোনো সংশয় না থাকে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে তাহলে আমরা কেনো একজনের চেয়ে আরেকজনকে উঁচু স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সংকীর্ণ হবো অথবা আমরা সংশয়ের পরিচয় দিবো?

তিনি নামোল্লেখ না করে আরও বলেন, বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল আছে তারাও নিজেরা সংশয়ের মধ্যে থাকেন। যেমন কোনো সময় মনে করেন শহীদ মিনারে যাওয়াটা হয়তো আমাদের কিভাবে যায়? এটা তো যাওয়া যায় না। স্মৃতিসৌধে যাওয়া যায় না। আবার যদি বলে যদি না যাই তাহলে বোধহয় আমরা পিছিয়ে পড়লাম। এই যে বিভ্রান্তি এবং এই বিভ্রান্তির বিশ্বাসও কিন্তু সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে এই যে আমাদের একটা সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতির মূলে এটাও কিন্তু এক ধরনের আঘাত। সুতরাং আমি মনে করি এখন বাংলাদেশে সময় এসেছে বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করবার জন্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। যেমন বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করতে হবে তিনি বাংলাদেশের সুস্থ ধারার সংস্কৃতিকেও বিনির্মাণ করতে হবে। সেই সঙ্গে নজরুল-রবীন্দ্রনাথের যে স্থান সেটি আমাদেরকে সঠিক জায়গায় দিতে হবে।

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow