বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে ধুলার দাপট, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ
শুকনো মৌসুমে ধুলোবালির রাজ্যে পরিণত হওয়া শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় বেড়েছে বায়ু দূষণের মাত্রা কয়েকগুণ। শীতের কুয়াশার মতো ধুলায় আচ্ছাদিত রাস্তা। চলন্ত যানবাহনের পেছনে কুণ্ডলি পাকিয়ে বাতাসে উড়ছে ধুলা-বালু। সড়কে দুই পাশের দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি ঘর ধুলায় সয়লাব। সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি নিজেরা সচেতন না হলে অদূর ভবিষ্যতে একদিকে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান স্বাস্থ্যবিদ ও পরিবেশবিদরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,রাস্তায় নেমেই নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা। নাকে-মুখে, চোখে ধুলা ঢুকে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম। দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দূষিত পরিবেশে বাড়ছে রোগ-বালাই। বিশেষ করে অ্যাজমা, এলার্জি, কাশিসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর সড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। ঢাকা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন চলাচল করে হাজারও পণ্যবাহী যান, গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষ। এই সড়কের ওপর দিয়
শুকনো মৌসুমে ধুলোবালির রাজ্যে পরিণত হওয়া শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় বেড়েছে বায়ু দূষণের মাত্রা কয়েকগুণ। শীতের কুয়াশার মতো ধুলায় আচ্ছাদিত রাস্তা। চলন্ত যানবাহনের পেছনে কুণ্ডলি পাকিয়ে বাতাসে উড়ছে ধুলা-বালু। সড়কে দুই পাশের দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি ঘর ধুলায় সয়লাব। সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি নিজেরা সচেতন না হলে অদূর ভবিষ্যতে একদিকে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান স্বাস্থ্যবিদ ও পরিবেশবিদরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,রাস্তায় নেমেই নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা। নাকে-মুখে, চোখে ধুলা ঢুকে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম। দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দূষিত পরিবেশে বাড়ছে রোগ-বালাই। বিশেষ করে অ্যাজমা, এলার্জি, কাশিসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর সড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। ঢাকা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন চলাচল করে হাজারও পণ্যবাহী যান, গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষ। এই সড়কের ওপর দিয়েই তৈরি হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এর ফলে এই জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে ঠিকই, তবে বর্তমান ভোগান্তির শেষ নেই জনসাধারণের। রাস্তা সংকীর্ণ, তীব্র যানজট ও অতিরিক্ত ধুলাবালিতে অতিষ্ট সাধারণ ও পথচারী। কাজ চলাকালীন সময়ে নিম্ন মানের মেরামত ও সংস্কারের কাজ করে ধুলাবালির শহরে পরিনত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।।
গণপরিবহনের যাত্রীরা ধুলায় নাকাল হচ্ছেন। গায়ের পোশাক, মাথার চুল বিবর্ণ হচ্ছে ধুলায়। সড়কের পাশের শো-রুম, খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তোঁরা ধুলা বালুতে একাকার। আশপাশের ভবন আর গাছপালায় জমেছে ধুলার আস্তরণ। সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হচ্ছেন রাস্তায় দায়িত্বরত পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, ভ্যানগাড়ি, রিকশা চালকসহ গণপরিবহনের চালক ও যাত্রীরা।
পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দাবি এই সড়কে কোনো প্রকার পানি দেয়া হচ্ছে না। যদি প্রতিদিন সড়কে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।
টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজর অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা মো: আব্দুল লতিফ বলেন,এই ধুলাবালিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্তসহ শিক্ষার্থীরা নানা অসুখবিসুখে ভোগছেন।
এদিকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে প্রতিদিন ট্রাকে করে পানি দেয়া হচ্ছে কিনা এবিষয়ে মুঠোফোন কলে দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।
এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে ধুলোবালি থেকে রেহাই পেতে ও সাধারনকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাক্স বিতরণ করেছেন আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হাবিব। সেই সাথে সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারের আহ্বানও জানান।
গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর ডা.শাকিল মাহমুদ জানান,বায়ু দূষণের মারাত্মক শিকার হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। এ সময়ে শিশু অ্যাজমাসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। আমাদের কাছে রোগী আসার হার আগের তুলনায় বেড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে শীত মওসুমে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাদাত বলেন,অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি, উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি এবং তাদের উদাসীনতায় ধুলা-বালুতে এমন দমবদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে যানবাহন ও কল-কারখানার কালো ধোঁয়া। বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে ট্রান্সপোর্ট এবং কনস্ট্রাকশন।
সাভার উপজেলা ইউএনও মো.সাইফুল ইসলাম বলেন,আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে যদি সকাল-সন্ধ্যা পানি না ছিটায় তাহলে সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা: দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন,পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পেতে সাভার ও আশুলিয়াকে ক্লীন এন্ড গ্রীণ গড়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
What's Your Reaction?