বাইপাস চার্জিং যেভাবে স্মার্টফোনকে আরও নিরাপদ করে তুলছে

স্মার্টফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া বা ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় থাকেন ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে গেমিং, লাইভ ভিডিও দেখা কিংবা একসাথে অনেকগুলো কাজ করার সময় এই সমস্যা বেশি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফোন নির্মাতারা পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখাকেও অনেক বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সে কারণেই এখন ফোনে যুক্ত হচ্ছে ‘বাইপাস চার্জিং’ প্রযুক্তি। স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স তাদের জিটি ৩০ প্রো, নোট ৬০ সিরিজ এবং নতুন আসা হট ৭০ মডেলে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সহজ কথায়, ভারী কাজের সময় ফোনের ভেতর বিদ্যুৎ কীভাবে কাজ করবে-বাইপাস চার্জিং মূলত সেই নিয়মটাই বদলে দেয়। সাধারণ ফোনে চার্জার প্লাগ-ইন করা বা কানেক্ট করা থাকলে বিদ্যুৎ প্রথমে ব্যাটারিতে যায় এবং ব্যাটারি থেকে সেই পাওয়ার নিয়ে ফোন চলে। চার্জে লাগিয়ে ফোন ব্যবহার করলে এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। অর্থাৎ, ব্যাটারি একই সাথে চার্জ এবং ডিসচার্জ হতে থাকে। এই দ্বিমুখী চাপের কারণে ফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়, যা সময়ের সাথে সাথে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বাইপাস চার্জিং মূলত বিদ্যুতের এই প্রবাহের দিকটি পরিবর্তন করে সমস

বাইপাস চার্জিং যেভাবে স্মার্টফোনকে আরও নিরাপদ করে তুলছে

স্মার্টফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া বা ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় থাকেন ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে গেমিং, লাইভ ভিডিও দেখা কিংবা একসাথে অনেকগুলো কাজ করার সময় এই সমস্যা বেশি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ফোন নির্মাতারা পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখাকেও অনেক বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সে কারণেই এখন ফোনে যুক্ত হচ্ছে ‘বাইপাস চার্জিং’ প্রযুক্তি। স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স তাদের জিটি ৩০ প্রো, নোট ৬০ সিরিজ এবং নতুন আসা হট ৭০ মডেলে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

সহজ কথায়, ভারী কাজের সময় ফোনের ভেতর বিদ্যুৎ কীভাবে কাজ করবে-বাইপাস চার্জিং মূলত সেই নিয়মটাই বদলে দেয়। সাধারণ ফোনে চার্জার প্লাগ-ইন করা বা কানেক্ট করা থাকলে বিদ্যুৎ প্রথমে ব্যাটারিতে যায় এবং ব্যাটারি থেকে সেই পাওয়ার নিয়ে ফোন চলে। চার্জে লাগিয়ে ফোন ব্যবহার করলে এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। অর্থাৎ, ব্যাটারি একই সাথে চার্জ এবং ডিসচার্জ হতে থাকে। এই দ্বিমুখী চাপের কারণে ফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়, যা সময়ের সাথে সাথে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

বাইপাস চার্জিং মূলত বিদ্যুতের এই প্রবাহের দিকটি পরিবর্তন করে সমস্যার সমাধান করে। ফোন চার্জারে কানেক্ট থাকা অবস্থায় ফিচারটি চালু করলে ডিভাইসটি সরাসরি চার্জার থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে মাদারবোর্ড এবং প্রসেসরে পৌঁছে দেয়। ফলে ভারী কাজের সময় ব্যাটারির আর কোনো ভূমিকাই থাকে না এবং এর ওপর কোনো চাপ পড়ে না। চার্জিং প্লাগ-ইন থাকা অবস্থায় এই ফিচারের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ফোন ব্যবহার করলেও ব্যাটারির ওপর বাড়তি কোনো চাপ পড়ে না এবং ফোনটি স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে।

ইনফিনিক্স তাদের বিভিন্ন দামের ও ক্যাটাগরির ফোনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। গেমারদের জন্য তৈরি ‘ইনফিনিক্স জিটি ৩০ প্রো’ ফোনে বাইপাস চার্জিং রাখা হয়েছে, যাতে চার্জে লাগিয়ে দীর্ঘ সময় গেম খেললেও ফোন গরম না হয়। একইভাবে, অফিশিয়াল কাজের সময় পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে ‘নোট ৬০ সিরিজ’-এ এই প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতিদিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি নিয়ে আসা হয়েছে ‘হট ৭০’ মডেলে।

বাস্তব জীবনে গেম খেলার সময় এই প্রযুক্তির সুবিধা সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়। ভারী গেমগুলো স্মুথলি খেলার জন্য প্রসেসরের একটানা শক্তির প্রয়োজন হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই ফোনের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় বাইপাস চার্জিং চালু করলে বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে না গিয়ে সরাসরি মাদারবোর্ডে চলে যায়। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হয় না এবং হ্যাং করার ঝুঁকি থাকে না। ফলে গেমাররা যেমন চমৎকার পারফরম্যান্স পান, তেমনি ব্যাটারিও সুরক্ষিত থাকে।

গেমিং ছাড়াও প্রতিদিনের নানা কাজে এর বড় সুবিধা রয়েছে। ফোন চার্জে রেখে দীর্ঘ সময় ভিডিও কল করা বা ভিডিও দেখার কারণে ব্যাটারির ওপর বেশ ধকল যায়। এমন ব্যবহারের সময় সরাসরি ব্যাটারি চার্জ হওয়ার প্রক্রিয়াটি বন্ধ রেখে বাইপাস চার্জিং ফোনের ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।

স্মার্টফোন এখন আমাদের সারাদিনের ও সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তাই আগামী দিনে এই বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তি কেবল কোনো প্রিমিয়াম ফিচার হিসেবে থাকবে না, বরং সব ধরনের ফোনেই এটি একটি সাধারণ ও জরুরি সুবিধা হিসেবে জায়গা করে নেবে। যা এরইমধ্যে ইনফিনিক্স করে দেখিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow