বাকৃবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষা জোরদারকরণে হিট প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি বিজ্ঞানে তৃতীয় স্তরের শিক্ষা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)-একাডেমিক ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (এটিএফ) প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক কার্যালয়ের আয়োজনে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এবং সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা ও হিট প্রকল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয়ক মুহা. মুনাব্বেরুর রশীদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মুহা: ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া। এসময় ভেটেরিনারিসহ বিভিন্ন অনুষদের বিভিন

বাকৃবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষা জোরদারকরণে হিট প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি বিজ্ঞানে তৃতীয় স্তরের শিক্ষা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)-একাডেমিক ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (এটিএফ) প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক কার্যালয়ের আয়োজনে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এবং সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা ও হিট প্রকল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয়ক মুহা. মুনাব্বেরুর রশীদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মুহা: ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া। এসময় ভেটেরিনারিসহ বিভিন্ন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন, প্রকল্পের সহকারী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য অধ্যাপক ড. ফাতেমা আক্তার।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, এই গ্রান্ট পাওয়ার প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ ছিল না। এটি ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া। আমাদের দেশে একটা সংস্কৃতি আছে যে প্রজেক্ট না পেলেই অনেকে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি ৫ই আগস্টের পরবর্তী এই সময়ে আমরা সেই পুরনো অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বাইরে এসে সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নির্বাচন করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা উচ্চশিক্ষাকে অনেক সময় বিচ্ছিন্নভাবে দেখি। কিন্তু আমেরিকা বা চীনের মতো দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় তারা শিক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। হিউম্যান সিকিউরিটির জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি-এই তিনটি খাতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। অর্থাৎ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিই জাতীয় নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তি।

অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জিডিপির তুলনায় শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের হার অত্যন্ত হতাশাজনক। এই বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণ না করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরের দিকে দেখার প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ে যেতে হবে।

প্রধান পৃষ্টপোষকের বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য বলেন, শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত। একজন সফল শিক্ষক তাঁর মেধা ও আন্তরিকতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের হৃদয়পটে স্থান করে নিতে পারেন। যুগের পরিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও পাঠদানের মূল শক্তি হলো শিক্ষকের আন্তরিকতা ও বিষয়ের গভীর জ্ঞান।

​তিনি আরও বলেন, স্মার্টনেস কেবল পোশাকে নয় বরং চিন্তা ও কর্মে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বাকৃবির শিক্ষকরা জাতীয় দায়িত্ব পালনে সর্বদা সচেষ্ট। মানসম্মত শিক্ষাই আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উচ্চ শিখরে নিয়ে যাব।

উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মুহা: ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভেটেরিনারি শিক্ষাকে সময়োপযোগী প্রযুক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা যাতে শেখা, গবেষণা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মান আরও উন্নত হয় এবং দেশ দক্ষ পেশাজীবী পায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কয়েকটি বিশেষ দিককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলো আধুনিক করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পায়। পাশাপাশি স্থাপন করা হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ও উন্নত গবেষণা সুবিধা যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণার মান বাড়াতে সহায়তা করবে। অনুষদের লাইব্রেরি ডিজিটাল অবকাঠামো দিয়ে সমৃদ্ধ করা হবে যাতে তথ্যপ্রাপ্তি ও শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে গতি আসে। একই সঙ্গে নেওয়া হবে ই-ক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি ভেটেরিনারি শিক্ষায় একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow