বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রকল্পে কাজ না করেই টাকা উত্তোলন

বাগেরহাট জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকল্পে মোটেও কাজ না করে আবার কোনোটি আংশিক কাজ করে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলম, সার্ভেয়ার ইমরানসহ তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি চক্র পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে ৬টি প্যাকেজের ৩টির কাজ সমাপ্ত না করে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন। অন্য ৩টির চেক অনুমোদন দিয়ে চেক প্রস্তুত করে রাখেন। আরএফকিউ (রিকুয়েস্ট ফর কোটেশন) নোটিশে এই ছয়টি প্রকল্প নেওয়া হয়, যার প্রাক্কলিত মূল্য ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের দরপত্র অনুযায়ী কাজ শুরুর তারিখ চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি এবং সমাপ্তের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। এক মাসের মধ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত থাকলেও নির্বাচনের মাত্র ২দিন আগে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে বিল তুলে নেওয়া হয়। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১নং থেকে ৬নং প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে চিতলমারী ডাকবাংলোর স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজ আধুনিকায়ন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে আসবাবপত্র সরবরাহ, ২নং প্যাকেজে ফকিরহাট এবং কচুয়া উপজেলা ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন, ৩নং প্যাকেজ রামপাল

বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রকল্পে কাজ না করেই টাকা উত্তোলন

বাগেরহাট জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকল্পে মোটেও কাজ না করে আবার কোনোটি আংশিক কাজ করে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলম, সার্ভেয়ার ইমরানসহ তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি চক্র পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে ৬টি প্যাকেজের ৩টির কাজ সমাপ্ত না করে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন। অন্য ৩টির চেক অনুমোদন দিয়ে চেক প্রস্তুত করে রাখেন।

আরএফকিউ (রিকুয়েস্ট ফর কোটেশন) নোটিশে এই ছয়টি প্রকল্প নেওয়া হয়, যার প্রাক্কলিত মূল্য ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের দরপত্র অনুযায়ী কাজ শুরুর তারিখ চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি এবং সমাপ্তের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। এক মাসের মধ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত থাকলেও নির্বাচনের মাত্র ২দিন আগে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে বিল তুলে নেওয়া হয়।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১নং থেকে ৬নং প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে চিতলমারী ডাকবাংলোর স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজ আধুনিকায়ন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে আসবাবপত্র সরবরাহ, ২নং প্যাকেজে ফকিরহাট এবং কচুয়া উপজেলা ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন, ৩নং প্যাকেজ রামপাল ডাকবাংলোর কক্ষ আধুনিকায়ন ও জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ, ৪নং প্যাকেজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন মেরামত, ৫নং প্যাকেজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ আধুনিকায়ন এবং ৬নং প্যাকেজ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ রং ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে ৪, ৫ এবং ৬নং প্যাকেজের কোনো কাজ হয়নি। বাকি ১, ২ এবং ৩নং প্যাকেজের কাজও হয়েছে আংশিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী শহিদুল আলম তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান। সরকারি কাজের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অফিস আংশিক বা সম্পূর্ণ বিল বা চেক প্রদান করতে পারে না। কীভাবে বিল দেওয়া হলো জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।

খোদ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ আধুনিকায়নে দুটি প্রকল্পে ১৬ লাখ টাকার কাজ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাজ করা হয়েছে বলে জানান। তাৎক্ষণিক পাশের রুমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষে গিয়ে দেখা যায় তার রুমে কোনো কাজ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শেখ মো. জাকির হোসেন বলেন, যে প্রকল্পগুলো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্তের জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রিয়াদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও অভিযোগের বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্য চেক তিনটি স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ ফরাজী/এফএ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow