বাঘ বাঁচাতে সুন্দরবনে বিশেষ টিলা
উঁচু জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের প্রাণীগুলো পড়ে বিপাকে। নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে অনেক প্রাণী মারাও যায়। বনের লবণাক্ত পানিও এসব প্রাণীর জন্য হুমকি। এসব দিক বিবেচনায় সুন্দরবনের প্রাণী রক্ষায় এগিয়ে এসেছে বনবিভাগ। বনের ভেতর নির্মাণ করা হয়েছে উঁচু টিলা। টিলার অন্য পাশে খনন করা হয়েছে পুকুর। যেখানে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষিত হবে। এই পুকুরগুলো শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনের প্রাণীদের সুপেয় মিঠা পানির ‘ভান্ডার’ হিসেবে করবে কাজ। এমন টিলা ও পুকুর নির্মাণ করা হয়েছে বনের ২০টি পয়েন্টে। বিশেষ করে বাঘ রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ৬ মাসের চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনে ফিরলো সেই বাঘিনী তবে পরিবেশ আন্দোলনকারীদের মতে, বিস্তৃত এই বনে মাত্র ২০টি স্থানে টিলা নির্মাণ যথেষ্ট না। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরও টিলা নির্মাণ প্রয়োজন। একইসঙ্গে বন সংরক্ষণ আইনও বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে বৃষ্টিপাত এবং উঁচু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের ভেতরে কোথাও কোথাও তিন ফুট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক প্রাণী মারা যায়। এসব প্রাণীর কথা বিবেচনায় বনের ভেতর উঁচু টিলা নির্মাণ করা হ
উঁচু জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের প্রাণীগুলো পড়ে বিপাকে। নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে অনেক প্রাণী মারাও যায়। বনের লবণাক্ত পানিও এসব প্রাণীর জন্য হুমকি। এসব দিক বিবেচনায় সুন্দরবনের প্রাণী রক্ষায় এগিয়ে এসেছে বনবিভাগ।
বনের ভেতর নির্মাণ করা হয়েছে উঁচু টিলা। টিলার অন্য পাশে খনন করা হয়েছে পুকুর। যেখানে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষিত হবে। এই পুকুরগুলো শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনের প্রাণীদের সুপেয় মিঠা পানির ‘ভান্ডার’ হিসেবে করবে কাজ। এমন টিলা ও পুকুর নির্মাণ করা হয়েছে বনের ২০টি পয়েন্টে। বিশেষ করে বাঘ রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে পরিবেশ আন্দোলনকারীদের মতে, বিস্তৃত এই বনে মাত্র ২০টি স্থানে টিলা নির্মাণ যথেষ্ট না। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরও টিলা নির্মাণ প্রয়োজন। একইসঙ্গে বন সংরক্ষণ আইনও বাস্তবায়ন করতে হবে।
‘বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে বৃষ্টিপাত এবং উঁচু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের ভেতরে কোথাও কোথাও তিন ফুট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক প্রাণী মারা যায়। এসব প্রাণীর কথা বিবেচনায় বনের ভেতর উঁচু টিলা নির্মাণ করা হচ্ছে। টিলাগুলো নির্মাণের ফলে বনে পানি বাড়লে প্রাণীগুলো আশ্রয় নিতে পারবে’
খুলনার বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ২০২২ সালের এপ্রিলে ৩৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের দুটি অংশের কাজের একটি বাঘ জরিপ, অন্যটি বাঘ সংরক্ষণ। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল। কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চে কাজ সম্পন্ন হয়।

সুন্দরবনে ৫ বছরে মধু আহরণ কমেছে ৬০ শতাংশ
প্রকল্পের আওতায় বনের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মাণ করা হয় ২০টি টিলা। এরমধ্যে ১২টি টিলা প্রথম দুই বছরে নির্মাণ করা হয়। বাকি আটটি টিলার কাজ সম্পন্ন হয় চলতি বছরে। এর মধ্যে দুটি টিলা সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের মধ্যে রয়েছে।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। টিলাগুলো আকারে ৫০ মিটার লম্বা। তিন মিটার উঁচু। পুকুর খনন করে মাটি দিয়ে টিলাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সুন্দরবনের চাঁদপাই, শরণখোলা, খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের প্রতিটিতে তিনটি করে মোট ১২টি, খুলনা রেঞ্জের কয়রা উপজেলার আওতাধীন নীলকমল অভয়ারণ্য কেন্দ্রে একটি; সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্ট, ভোমরণালী, সাতক্ষীরা রেঞ্জের পুষ্পাকাটি, মান্দারবাড়িয়া ও নোটাবেকী এবং চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের কটকা, কচিখালী, কোকিলমুনি, সুপতি, টিয়ারচর ও দুধমুদিতে টিলা নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলোর পাশেই খনন করা হয়েছে মিঠাপানির পুকুর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখে পুকুরের চারপাশে উঁচু পাড় দিয়ে টিলা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
‘বনে হরিণের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখেই বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন জায়গায় উঁচু টিলা তৈরি করা হয়েছে। যাতে করে বনে পানি বাড়লে বন্যপ্রাণীগুলো সেসব উঁচু টিলায় আশ্রয় নিতে পারে। এসব টিলা সংরক্ষণের জন্য আমরা কাজ করছি। কোনো জায়গায় সমস্যা হলে দ্রুত তা সমাধান করা হচ্ছে’
বন কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে বৃষ্টিপাত এবং উঁচু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের ভেতরে কোথাও কোথাও তিন ফুট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক প্রাণী মারা যায়। এসব প্রাণীর কথা বিবেচনায় বনের ভেতর উঁচু টিলা নির্মাণ করা হচ্ছে। টিলাগুলো নির্মাণের ফলে বনে পানি বাড়লে প্রাণীগুলো আশ্রয় নিতে পারবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের খুলনা শাখার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘টিলা নির্মাণ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর খননের উদ্যোগ ঠিক আছে। তবে বৃষ্টির পানির আধার অরক্ষিত থাকলে জলোচ্ছ্বাসে লবণাক্ত পানি ফের বৃষ্টির পানির আধারে প্রবেশ করবে। বন্যপ্রাণী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না। এজন্য আধার থেকে পানি পান করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

সুন্দরবনে ‘কোণঠাসা’ দস্যুবাহিনী
এই পরিবেশকর্মীর মতে, শুধু টিলা নির্মাণ ও পুকুর খনন করলেই হবে না, এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে। অন্যথায় এর সুফল মিলবে না।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় গহিন অরণ্যে সম্পদ আহরণের জন্য মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু টিলার জায়গাগুলো মানুষের যাতায়াত শূন্য রাখতে হবে। শব্দদূষণ মুক্ত রাখতে হবে। অনেক সময় দূষণের কারণে বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা হারায়। এজন্য গহিন অরণ্যে পুরোপুরি অভয়ারণ্য ঘোষণা করতে হবে। একইসঙ্গে বন সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন
‘বিস্তৃত এই বনে মাত্র ২০টি জায়গায় টিলা ও মিষ্টি পানির আধার নির্মাণ যথেষ্ট না। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত টিলা নির্মাণ করতে হবে। তাহলে জলোচ্ছ্বাসের সময় সব প্রাণী নিরাপদে থাকতে পারবে’—বলেন বাবুল হাওলাদার।
সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক এ জেড এম হাছানুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বনে হরিণের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখেই বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন জায়গায় উঁচু টিলা তৈরি করা হয়েছে। যাতে করে বনে পানি বাড়লে বন্যপ্রাণীগুলো সেসব উঁচু টিলায় আশ্রয় নিতে পারে। এসব টিলা সংরক্ষণের জন্য আমরা কাজ করছি। কোনো জায়গায় সমস্যা হলে দ্রুত তা সমাধান করা হচ্ছে।’
এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?

