বাবর আজমে তাকিয়ে পাকিস্তান, বাংলাদেশের চোখ হোয়াইটওয়াশে

বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন এক টেস্ট যুগের হাতছানি। আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট খেলার যে সাহসী পরিকল্পনা দলটি করছে, সেখানে পাকিস্তান যেন হয়ে উঠেছে আদর্শ প্রতিপক্ষ। টানা তিন টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যার সবশেষটি এসেছে মিরপুরে, ১০৪ রানের জয়। প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটতে থাকা টাইগাররা এবার হোয়াইটওয়াশ মিশনে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে সকাল দশটায়। সাম্প্রতিক টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের স্বচ্ছন্দ মানসিকতা। অতীতে যেখানে দলটি ভেঙে পড়তো, এবার সেখানে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দৃঢ়তার সঙ্গে। ড্রয়ের নিরাপদ পথে না হেঁটে জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। এমনকি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী পাকিস্তানকেও তারা আর ভয় পায় না; বরং আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে। ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও বাংলাদেশের আসল শক্তি ছিল দল গঠনের ভারসাম্যে। মিরপুরের উইকেট ছিল সবুজাভ, তবে শেষের দিকে ধীরগতিরও। এমন কন্ডিশনে নাহ

বাবর আজমে তাকিয়ে পাকিস্তান, বাংলাদেশের চোখ হোয়াইটওয়াশে

বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন এক টেস্ট যুগের হাতছানি। আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট খেলার যে সাহসী পরিকল্পনা দলটি করছে, সেখানে পাকিস্তান যেন হয়ে উঠেছে আদর্শ প্রতিপক্ষ।

টানা তিন টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যার সবশেষটি এসেছে মিরপুরে, ১০৪ রানের জয়। প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটতে থাকা টাইগাররা এবার হোয়াইটওয়াশ মিশনে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে সকাল দশটায়।

সাম্প্রতিক টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের স্বচ্ছন্দ মানসিকতা। অতীতে যেখানে দলটি ভেঙে পড়তো, এবার সেখানে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দৃঢ়তার সঙ্গে। ড্রয়ের নিরাপদ পথে না হেঁটে জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। এমনকি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী পাকিস্তানকেও তারা আর ভয় পায় না; বরং আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে।

ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও বাংলাদেশের আসল শক্তি ছিল দল গঠনের ভারসাম্যে। মিরপুরের উইকেট ছিল সবুজাভ, তবে শেষের দিকে ধীরগতিরও। এমন কন্ডিশনে নাহিদ রানার গতির ঝড়ের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনকে ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি এক স্পিনারেই থেমে থাকেনি দল। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের সঙ্গে অফস্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে খেলিয়ে সব ধরনের কন্ডিশনের জন্য পূর্ণাঙ্গ কম্বিনেশন তৈরি করেছে তারা।

অন্যদিকে পাকিস্তানকে দল নির্বাচন করতেই কাঠখড় পোহাতে হয়েছে বেশ। নোমান আলি ও সাজিদ খানের মধ্যে কেবল একজনকে খেলানোর সুযোগ ছিল, আর নাহিদ রানার মতো গতির বোলারের জবাবও তাদের হাতে নেই। ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞতার অভাব ও ভঙ্গুরতা স্পষ্ট।

দ্বিতীয় টেস্টে বাবর আজম ফিরছেণ। তার ফেরা মানসিক শক্তি বাড়াতে পারে ঠিকই, কিন্তু তা কাজে লাগাতে হলে তাকে রানও করতে হবে—যেটা সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত দেখা যায়নি।

পাকিস্তানের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় তাদের বোলিং আক্রমণ। একসময় শক্তিশালী পেস আক্রমণের জন্য পরিচিত দলটি এখন ২০ উইকেট নেওয়ার মতো ধার হারিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। প্রথম টেস্টের শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসেছিল পাকিস্তানের পেসাররা, আর সেই ম্যাচে আর কখনোই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি।

আত্মবিশ্বাসহীন পাকিস্তানের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। সামনে রয়েছে আরও পাঁচটি অ্যাওয়ে টেস্ট। তাই এই সিরিজে ইতিবাচক ফল পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বাংলাদেশ চাইবে নিজেদের নতুন টেস্ট দর্শনের আরও একটি শক্ত বার্তা বিশ্ব ক্রিকেটকে পৌঁছে দিতে।

এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow