বাবলু-নাছিরের পর রাজু হত্যাকাণ্ড, খুনের বদলা নাকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব?
চট্টগ্রামের রাউজান এখন আতঙ্কের নাম। গত ২৪ এপ্রিল রাউজানে কাউসার উর জামান বাবলু নামে এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুই দিন পরই ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে নাছির উদ্দীন নামের আরও এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নাছির উদ্দীন হত্যা মামলার আসামি হাসান রাজুও খুন হলেন দুই সপ্তাহের মাথায়। একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নাছির হত্যার বদলা, নাকি বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের। এসব সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে চাইছে পুলিশ। জানা গেছে, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন হাসান রাজু। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১০টার দিকে নগরের শহীদ মদিনা কলোনিতে বোনের বাসার সামনেই গুলি করে হত্যা করা হয় রাজুকে। তার বয়স মাত্র ২৪ বছর। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি আক্তার (১২) নামের এক শিশুও। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। নিহত রাজুর বাড়ি রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকায়। রাজুর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে হাসপাতালে দেখতে যান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, ছবি: সংগৃহীত রাউজানের আলোচিত নাছির উদ্দীন হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি ছিলেন এ
চট্টগ্রামের রাউজান এখন আতঙ্কের নাম। গত ২৪ এপ্রিল রাউজানে কাউসার উর জামান বাবলু নামে এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুই দিন পরই ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে নাছির উদ্দীন নামের আরও এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নাছির উদ্দীন হত্যা মামলার আসামি হাসান রাজুও খুন হলেন দুই সপ্তাহের মাথায়।
একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নাছির হত্যার বদলা, নাকি বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের। এসব সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে চাইছে পুলিশ।
জানা গেছে, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন হাসান রাজু। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১০টার দিকে নগরের শহীদ মদিনা কলোনিতে বোনের বাসার সামনেই গুলি করে হত্যা করা হয় রাজুকে। তার বয়স মাত্র ২৪ বছর। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি আক্তার (১২) নামের এক শিশুও। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। নিহত রাজুর বাড়ি রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকায়।
রাজুর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে হাসপাতালে দেখতে যান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, ছবি: সংগৃহীত
রাউজানের আলোচিত নাছির উদ্দীন হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি ছিলেন এই হাসান রাজু। দুই সপ্তাহের মাথায় তিনিও খুন হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কেউ কেউ বলছেন, নাছির উদ্দীন হত্যার বদলায় রাজু খুন হয়েছে। আবার অনেকে ধারণা করছেন, বড় সাজ্জাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণ দিতে হলো রাজুকে।
কে এই সাজ্জাদ আলী
চট্টগ্রামে অপরাধ জগতের বহুল আলোচিত নাম সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’। খুন, চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন
রাউজানে বিএনপিকর্মী বাবলু হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২
রাউজানে ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের গুলি, নিহত যুবদল কর্মী
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, নানা কৌশলে দলে লোক ভেড়ান এই সাজ্জাদ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিদেশে অবস্থান করলেও সহযোগীদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এখনো অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন সাজ্জাদ। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, রাউজান ও হাটহাজারীতে তার বাহিনীর অপতৎপরতা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য বলছে, বড় সাজ্জাদ বাহিনীতে ২০ থেকে ২২ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তাদের অনেকেই হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
হত্যাকাণ্ডের শিকার রাউজানের হাসান রাজু একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বড় সাজ্জাদ বাহিনীতে যোগ দেন। সম্প্রতি বড় সাজ্জাদের সঙ্গে রাজুর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আর সেই দ্বন্দ্বের জেরেই প্রাণ দিতে হয়েছে তাকে। এসব ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
যদিও নিহত রাজুর বোন রুমা আকতার দাবি করেন, তার ভাই পেশায় দিনমজুর। কয়েক দিন আগে বোনের বাসায় বেড়াতে আসেন। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না।
সেদিন কী ঘটেছিল?
রাজুর বোন রুমা আকতার বলেন, মুখে মাস্ক পরা পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি এসে রাজুকে ঘিরে ফেলে। রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা। এ সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে গুলিতে যুবক নিহত, গুলিবিদ্ধ শিশু হাসপাতালে
চট্টগ্রামে হাসপাতালে গিয়ে গুলিবিদ্ধ শিশুটির খোঁজ নিলেন জেলা প্রশাসক
প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানিয়েছেন, রাত ১০টার পর মুখোশ পরা কয়েকজন অস্ত্রধারী শহীদ মদিনা কলোনির সরু গলিতে এসে রাজুকে ঘিরে ফেলে। পরে খুব কাছ থেকে তার মাথা ও বুকে একাধিক গুলি করে চলে যায় তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, সেদিন হামলাকারীদের মধ্যে দুজন রাজুকে চেপে ধরে রাখে। অন্য দুজন ঠান্ডা মাথায় গুলি চালায়। পুরো ঘটনাটি ঘটে কয়েক মিনিটের মধ্যে।
এর আগে হত্যাকাণ্ডের শিকার নাছিরের ভাতিজা মো. সম্রাট বলেন, নাছির যুবদলের কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
রাজু হত্যার জেরে রায়হান ও ইমনকে খুঁজছে পুলিশ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একাধিক কর্মকর্তা জানান, হাসান রাজুর সঙ্গে সম্প্রতি বড় সাজ্জাদ বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে রায়হান ও ইমন গ্রুপের সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়ে যায়। পুলিশ ধারণা করছে, এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একাধিক সূত্র জানায়, রাজু সম্প্রতি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ কয়েক সহযোগীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে রায়হান ও ইমন গ্রুপের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই ‘নিজেদের লোকের’ হাতেই খুন হতে পারেন রাজু।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, তারা বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
রাজু হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে ‘ডেভিড ইমন’ নামের আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, ছবি: সংগৃহীত
হত্যার আগে রহস্যজনক স্ট্যাটাস
রাজু হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি সিএমপির সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, নগরের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে চাঁদাবাজি চালানো হতো এবং ভবিষ্যতের যে কোনো খুনের দায়ও কিছু ব্যক্তিকে নিতে হবে। তবে রাজু হত্যার পরপরই ‘ডেভিড ইমন’ নামের আইডি থেকে স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলা হয়। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যা বলছে সিএমপি
সিএমপির উত্তরের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, নিহত রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তার নিজস্ব একটি গ্রুপও ছিল। রাউজানের কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। হত্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। আমরা সব দিক তদন্ত করছি। তিনি বলেন, আধিপত্য বিস্তার, পুরোনো বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সবকিছুই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমআরএএইচ/এসএনআর/এমএফএ
What's Your Reaction?