বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা তরুণীর

নেত্রকোনার পূর্বধলায় জীবিত বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক তরুণী (১৮)। ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের শালদিঘা গ্রামে। অভিযুক্ত তরুণীর নাম রুমা বেগম। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোটার নিবন্ধনের আবেদন যাচাইয়ের সময় তথ্যগত অসংগতি ধরা পড়ে। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবেদনপত্রে মৃত দেখানো হলেও রুমা বেগমের বাবা মো. জামাল মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগম দুজনই জীবিত রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, জামাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শ্যামগঞ্জ বাজারে মাংসের ব্যবসা করছেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছেন। গোহালাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পালন করেন। তারা নথি যাচাই করে আনলে তাতে তিনি সই করেন বলে দাবি করেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাসিন ইসরাক বলেন, ‘অনেক সময় উদ্যোক্তাদের কাছেও অনলাইন পোর্টালের আইডি ও পাসওয়ার্ড থা

বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা তরুণীর

নেত্রকোনার পূর্বধলায় জীবিত বাবা-মাকে মৃত দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এক তরুণী (১৮)। ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এমনই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের শালদিঘা গ্রামে। অভিযুক্ত তরুণীর নাম রুমা বেগম।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোটার নিবন্ধনের আবেদন যাচাইয়ের সময় তথ্যগত অসংগতি ধরা পড়ে। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবেদনপত্রে মৃত দেখানো হলেও রুমা বেগমের বাবা মো. জামাল মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগম দুজনই জীবিত রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, জামাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শ্যামগঞ্জ বাজারে মাংসের ব্যবসা করছেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছেন।

গোহালাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পালন করেন। তারা নথি যাচাই করে আনলে তাতে তিনি সই করেন বলে দাবি করেন তিনি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাসিন ইসরাক বলেন, ‘অনেক সময় উদ্যোক্তাদের কাছেও অনলাইন পোর্টালের আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকে। সে সুযোগে কেউ অপব্যবহার করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।’

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় নথির পরিবর্তে অসম্পূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে অনলাইনে তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে রুমা বেগম বলেন, বয়স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি আগে ভোটার হতে পারেননি। পরে স্থানীয় এক উদ্যোক্তার সহায়তায় আবেদন করেন।

তবে এর আগে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি গ্রামপুলিশ সদস্য রুবেল মিয়ার মাধ্যমে মৃত্যু সনদ সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উদ্যোক্তা জেবিন বেগম ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে জানানোর আগে তারা বিষয়টি জানতেন না।

গ্রামপুলিশ সদস্য রুবেল মিয়াও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি নির্বাচন অফিসে সঠিক তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, রুমা বেগমের জন্ম সাল ২০০৪। অথচ তার মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম সাল ১৯৯০ হলেও মৃত্যু সাল দেখানো হয়েছে ১৯৭৫। বাবার তথ্যেও একই ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। এছাড়া যাদের মৃত দেখানো হয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে ভোটার এলাকা স্থানান্তরও করেছেন।

পূর্বধলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান বলেন, ‘জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে সরকারি নথি তৈরি করা গুরুতর অপরাধ। ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে যারা এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এইচ এম কামাল/এসআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow