বাবা-মায়ের কোলেই ছিল তিন বছরের জায়ফা, মুহূর্তেই নিভে গেল ছোট্ট প্রাণ

সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে পরিবারের সবার সঙ্গে বাসে ছিল তিন বছরের জায়ফা। বাবা-মায়ের কোলেই বসেছিল ছোট্ট শিশুটি। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই থেমে যায় তার জীবন। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশীকাপন এলাকায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।  প্রচণ্ড ধাক্কায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে একই পরিবারের প্রায় সব সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত হয় ছোট্ট জায়ফাও। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনার ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বড় বোন জান্নাতুল। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সে বলে, ছোট বোন জায়ফা তখন বাবা-মায়ের কোলে ছিল। হঠাৎ জোরে একটা শব্দ হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগে

বাবা-মায়ের কোলেই ছিল তিন বছরের জায়ফা, মুহূর্তেই নিভে গেল ছোট্ট প্রাণ

সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে পরিবারের সবার সঙ্গে বাসে ছিল তিন বছরের জায়ফা। বাবা-মায়ের কোলেই বসেছিল ছোট্ট শিশুটি। কিন্তু ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে মুহূর্তেই থেমে যায় তার জীবন। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশীকাপন এলাকায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর ইউনিক পরিবহনের বাসটির সঙ্গে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

প্রচণ্ড ধাক্কায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে একই পরিবারের প্রায় সব সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত হয় ছোট্ট জায়ফাও। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনার ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বড় বোন জান্নাতুল। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সে বলে, ছোট বোন জায়ফা তখন বাবা-মায়ের কোলে ছিল। হঠাৎ জোরে একটা শব্দ হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় জান্নাতুল ও তার ছোট ভাই মোহাম্মদ তুলনামূলক কম আহত হলেও গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও মা নুরুন্নাহার। জাহাঙ্গীর আলম ওসমানী হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং নুরুন্নাহার হাসপাতালের চতুর্থ তলায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে এবং তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় আছেন। নুরুন্নাহারের মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর আঘাত রয়েছে।

স্বজনরা জানান, আহত বাবা-মা হয়তো এখনো জানেন না, যাকে বুকে আগলে নিয়ে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন, সেই তিন বছরের কন্যা জায়ফা আর বেঁচে নেই।

জাহাঙ্গীর আলম সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় টায়ার মেরামতের ব্যবসা করেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার প্রতিবেশী ব্যবসায়ী হাসান আহমদ। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেন। এরপর তিনি কয়েকজনকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন।

হাসান আহমদ বলেন, এসে দেখি, সবাই আহত। পরে জানতে পারি, ছোট্ট মেয়েটা আর নেই।

ওসমানী হাসপাতালের করিডোরে এখন স্বজনদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠার পরিবেশ। একদিকে গুরুতর আহত বাবা-মায়ের চিকিৎসা চলছে, অন্যদিকে তাদের সন্তানদের সামলানোর চেষ্টা করছেন স্বজনেরা। তবে পরিবারের সবচেয়ে বড় শোক- বাবা-মায়ের কোলেই থাকা তিন বছরের জায়ফা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইট স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটির ডান পাশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত দুইজনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়ায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত নয়জন হলেন- কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জাহাঙ্গীর আহমদের মেয়ে ফাইজা (৩), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিয়ম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাবুল মিয়ার মেয়ে ও বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান আহমদ (১৯), কুমিল্লা জেলার বাঙ্গুরা বাজার এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি বাসই পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাস দুটির চালক পলাতক রয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১৪ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কোন কোন নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট তালিকা তার কাছে ছিল না। ফাইল দেখে পরে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow