বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে থানায় হাজির এসএসসি পরীক্ষার্থী

এসএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন তহমিনা আক্তার নামে এক কিশোরী। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পিরোজপুর জিয়ানগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জন্ম সনদ অনযায়ী ওই কিশোরীর বয়স ১৬ বছর ৪ মাস। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আলম হাওলাদারের মেয়ে তহমিনা আক্তার জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মেধাবী এই শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিন্তু পারিবারিকভাবে বাল্যবিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সে তা প্রতিরোধে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে কথা বললেও সমাধান না হওয়ায় দুই দফায় ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। সহপাঠীরা জানায়, তহমিনা একজন মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী শিক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, ‘আমরা চাই সে লেখাপড়া চালিয়ে যাক, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। বাল্যবিয়ে তার জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, এটা আমরা কেউই চাই না।’ প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণেই হয়ত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিলো। তবে বাল্যবিয়ে কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না, এটি একটি মেয়ের ভবিষ

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে থানায় হাজির এসএসসি পরীক্ষার্থী

এসএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন তহমিনা আক্তার নামে এক কিশোরী।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) পিরোজপুর জিয়ানগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জন্ম সনদ অনযায়ী ওই কিশোরীর বয়স ১৬ বছর ৪ মাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আলম হাওলাদারের মেয়ে তহমিনা আক্তার জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মেধাবী এই শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কিন্তু পারিবারিকভাবে বাল্যবিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সে তা প্রতিরোধে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে কথা বললেও সমাধান না হওয়ায় দুই দফায় ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।

সহপাঠীরা জানায়, তহমিনা একজন মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী শিক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, ‘আমরা চাই সে লেখাপড়া চালিয়ে যাক, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। বাল্যবিয়ে তার জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, এটা আমরা কেউই চাই না।’

প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণেই হয়ত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিলো। তবে বাল্যবিয়ে কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না, এটি একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়।’

তহমিনা আক্তারের ভাষ্য, ‘আমার পরিবার আমাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাইছে। আমি এখন বিয়ে করতে চাই না। সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা, আমি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তাই আমি দুইবার থানায় গিয়ে সাহায্য চেয়েছি।’

অন্যদিকে তহমিনার বাবা আলম হাওলাদার জানান, মেয়ের বয়স ১৮ বছরের বেশি হয়ে গেছে ও একটি ভালো বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা চাই ওর ভবিষ্যৎ নিরাপদ হোক, সংসার করুক।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাকির হোসেন বলেন, ‘তহমিনাকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করতে আমরা চেষ্টা করছি। কোনো শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়তে দেওয়া হবে না।’

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার জানান, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। অভিভাবকদের থানায় ডেকে লিখিতভাবে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রাখা হয়েছে।

মো. তরিকুল ইসলাম/এমএন/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow