বাসের ধাক্কায় আহত মাসুদকে বাঁচানো গেল না

বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে ২০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মারা গেছেন মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য মাসুদ রানা (৩৮)। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।  রোববার (২৮ জুন) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাসুদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। ছোট্ট দুই সন্তানসহ স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন, মাসুদ সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। নিহত মাসুদের বাবার নাম আবু তালেব মোল্লা। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল গ্রামে। পুলিশ, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মাসুদ রানা মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন সদস্য ছিলেন। গত ৮ জুন সহকর্মীদের সঙ্গে মানিকগঞ্জের বেথুয়া এলাকায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজে যান তিনি। সেখানে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে বিদ্যুতের লাইনে কাজ করা সহকর্মীর কাজ তদারকি করছিলেন। এসময় দ্রুতগতির শুকতারা পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এ

বাসের ধাক্কায় আহত মাসুদকে বাঁচানো গেল না

বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে ২০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মারা গেছেন মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য মাসুদ রানা (৩৮)। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। 

রোববার (২৮ জুন) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাসুদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। ছোট্ট দুই সন্তানসহ স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন, মাসুদ সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

নিহত মাসুদের বাবার নাম আবু তালেব মোল্লা। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল গ্রামে।

পুলিশ, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মাসুদ রানা মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন সদস্য ছিলেন। গত ৮ জুন সহকর্মীদের সঙ্গে মানিকগঞ্জের বেথুয়া এলাকায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজে যান তিনি। সেখানে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে বিদ্যুতের লাইনে কাজ করা সহকর্মীর কাজ তদারকি করছিলেন।

এসময় দ্রুতগতির শুকতারা পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পঙ্গু হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। কিন্তু এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ চালানো তার পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মাত্র দুই দিনের বিল পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হয় স্বজনদের। 

পরে তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

মাসুদের মামাতো ভাই মাসুম জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মাসুদ রানা। ৮ বছরের ছেলে মাহির ও আড়াই বছরের মেয়ে মাইশাসহ পরিবারের সবাই তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাকে বাঁচাতে দীর্ঘ ২০ দিন সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসার খরচ চালাতে গ্রামের জমি বিক্রি করা হয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্নজনের কাছ থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow