বিএনপি-ছাত্রদল নেতাদের হামলায় নিহত সেই মায়ের দাফন সম্পন্ন

কক্সবাজারের উখিয়ায় ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বিএনপি-ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের হামলায় নিহত মায়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে টাইপালং এলাকায় জানাজা শেষে নিহত ছৈয়দা বেগমকে (৪৮) পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। নিহত ছৈয়দা বেগম রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকার শ্রমজীবী সাব্বির আহমদের স্ত্রী। শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় হামলার শিকার হয়ে তিনি মারা যান। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে রোববার সকালে পরিবারে হস্তান্তর করা হয়। দাফন শেষে টাইপালং স্টেশন চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ জনতা। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ছাত্র-যুব প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ অংশ নেন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল টাইপালং এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবর

বিএনপি-ছাত্রদল নেতাদের হামলায় নিহত সেই মায়ের দাফন সম্পন্ন

কক্সবাজারের উখিয়ায় ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বিএনপি-ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের হামলায় নিহত মায়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে টাইপালং এলাকায় জানাজা শেষে নিহত ছৈয়দা বেগমকে (৪৮) পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

নিহত ছৈয়দা বেগম রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকার শ্রমজীবী সাব্বির আহমদের স্ত্রী।

শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় হামলার শিকার হয়ে তিনি মারা যান। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে রোববার সকালে পরিবারে হস্তান্তর করা হয়।

দাফন শেষে টাইপালং স্টেশন চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ জনতা। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ছাত্র-যুব প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ অংশ নেন।

এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল টাইপালং এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

মানববন্ধনে সমাজকমী নুর মোহাম্মদ সিকদার, এনসিপির জেলা নেতা মোহাম্মদ হোসেন এবং এনসিপি নেতা জিনিয়া শারমিন রিয়াসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে বিএনপি নেতাদের হামলায় প্রাণ গেলো মায়ের

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেসবুকের ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী স্থানীয় ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করেন। এসময় তাকে ছাড়াতে যান তার বন্ধু ও স্থানীয় এনজিওকর্মী এসএম ইমরান। তখন ইমরানকেও মারধর করা হয়। ইমরানকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তার মা ছৈয়দা বেগম। ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিএনপি-ছাত্রদল নেতাদের হামলায় নিহত সেই মায়ের দাফন সম্পন্ন

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নিজের শরীর দিয়ে ছেলেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন মা। কিন্তু হামলাকারীরা তার ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিল-ঘুসি ও মারধরের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান ছৈয়দা বেগম। এসময় মারধরের শিকার ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে আহত অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দেন হামলাকর্মীরা।

অভিযুক্তরা হলেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসেম সিকদার জিসান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদার, দক্ষিণ রাজাপালং শ্রমিক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জুলফিকার রহমান আকাশ, বিএনপি নেতা শামসুল আলম (অ্যাম্বুলেন্স শামসু), আবদুল করিম, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান ও ছালাম সিকদারসহ আরও কয়েকজন।

এদিকে অভিযুক্তরা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিএনপি নেতা মিজান রহমান সিকদার বলেন, ‌‌‘নিহত নারীর গায়ে কেউ হাত তোলেনি, তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন এভাবে হাজার হাজার মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু হচ্ছে। আপনারা কয়জনের মৃত্যুর জন্য মামলা করতে পারবেন?’

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর আসে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা একজন নারী মারা গেছেন। প্রহারের বিষয়টি সামনে আসায় যাচাই করতে সুরতহাল করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সকালে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর আড়াইটার পর জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।’

কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow