বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আচরণে
ঝিনাইদহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার চারটি আসনের মধ্যে অন্তত তিনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সবগুলো আসনেই মূল লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে। একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ জেলায় পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ প্রভাব বিস্তার করলেও এবার সেই জায়গায় ভাগ বসাতে চাইছে জামায়াত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে পারলে চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তরুণ ভোটাররা এবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতির দাবিতে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড এক বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এ কারণে তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ জামায়াতের প্রার্থীদের প্রতি অনুকূল মনোভাব পোষণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বিঘ্নে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় জামায়াতের জনশক্তি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে বলেও দাবি দলটির নেতাদের। ঝিনাইদহ-১ আসন: জামায়াত-বিএনপির হ
ঝিনাইদহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার চারটি আসনের মধ্যে অন্তত তিনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সবগুলো আসনেই মূল লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে।
একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ জেলায় পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ প্রভাব বিস্তার করলেও এবার সেই জায়গায় ভাগ বসাতে চাইছে জামায়াত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখতে পারলে চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তরুণ ভোটাররা এবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতির দাবিতে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড এক বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এ কারণে তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ জামায়াতের প্রার্থীদের প্রতি অনুকূল মনোভাব পোষণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বিঘ্নে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় জামায়াতের জনশক্তি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে বলেও দাবি দলটির নেতাদের।
ঝিনাইদহ-১ আসন: জামায়াত-বিএনপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
৮১ ঝিনাইদহ-১ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। বৈধ প্রার্থীরা হলেন-বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের আসাদুজ্জামান, আমার বাংলাদেশ পার্টির মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান, জাতীয় পার্টির মনিকা আলম এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলম বিশ্বাসের মনোনয়নপত্র ঋণ খেলাপি হওয়া এবং সম্ভাব্য ব্যয় বিবরণী ও আয়কর প্রত্যয়নপত্র না থাকায় বাতিল করা হয়।
এ আসনে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল বিএনপির প্রার্থী আসাদুজ্জামান বিএনপির একাংশের কাছে জনপ্রিয় হলেও এ আসনে খুলনা বিভাগীয় বিএনপির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু মনোনয়ন না পাওয়ায় তার অনুসারীরা বিএনপির প্রার্থীকে বয়কট করতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটার ও প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণদের একটি অংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এ আসনে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঝিনাইদহ-২ আসন: বিভক্ত বিএনপি, এগিয়ে জামায়াত
৮২ ঝিনাইদহ-২ আসনে দাখিলকৃত ছয়টি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর , বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি এইচ এম মমতাজুর রহমান বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ),আসসাদুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তোয়াব, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাওগাতুল ইসলাম।
এ আসনে বিএনপির ভেতরে বিভাজন স্পষ্ট। সম্প্রতি সাবেক এমপি মৃত মশিউর রহমানের ছেলে ডা. ইব্রাহিম রহমান বাবু ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার মধ্যে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।
হরিনাকুন্ডু উপজেলা এবং সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী। সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে জামায়াত প্রার্থীর বাড়ি হওয়ায় পূর্বাঞ্চলের ভোটারদের সমর্থনও পাচ্ছেন তিনি। একটি বেসরকারী কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ বছর চাকরী করায় তার অগণিত শিক্ষার্থীরা তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া নারী ভোটারদের বড় একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঝিনাইদহ-৩ আসন: সাংগঠনিক শক্তিতে ভরসা জামায়াতের
৮৩ ঝিনাইদহ-৩ আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী।
এ আসনে জামায়াতের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দলের প্রতিনিধিত্ব দীর্ঘ দিনের। এদিকে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সুপরিচিত ইসলামী বক্তা। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী মেহেদী হাসান তার পিতা সাবেক সংসদ সদস্য মাস্টার শহীদুল ইসলামের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনে জামায়াতের বিজয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ঝিনাইদহ-৪ আসন: বিএনপির বিভাজনের সুযোগে জামায়াতের সম্ভাবনা উজ্জ্বল
৮৪ ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মাওলানা আবু তালিব। বিএনপি এ আসনে ত্রিধারায় বিভক্ত হওয়ায় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারাই।
মাওলানা আবু তালিব একজন বর্ষীয়ান, সদালাপী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকায় তার সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। নারী ভোটারদের মাঝেও তার গ্রহণযোগ্যতা বেশি বলে জানা গেছে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও জামায়াতের সুসংগঠিত নির্বাচনী পরিকল্পনার কারণে এ আসনে বড় ব্যবধানে জামায়াতের বিজয় হতে পারে-এমন গুঞ্জন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চায়ের দোকানে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
What's Your Reaction?