বিএনপি নেতার বাড়ির সামনে কীটনাশক খেয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

স্ত্রীর অধিকার পেতে থানা পুলিশ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্না দিয়েও বিচার না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন জান্নাতুন বাবলি (২৯) নামের এক গৃহবধূ। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গৌরনদী বন্দরে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুলের বাসার সামনের খালপাড়ে বসে তিনি বিষপান করেন। এসময় তিনি গৌরনদী থানার ওসিসহ পুলিশেরও বিচার দাবি করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় এক নারী নেত্রী এবং স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাবলি দিনাজপুর সদর থানার গোবরাপাড়া এলাকার জিয়াউর রহমানের কন্যা। তিনি বাবলি শঙ্কা মুক্ত নন বলে জানিয়ে চিকিৎসক। গৃহবধূর থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানাগেছে, জান্নাতুন বাবলির সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বাদলের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম আশিকের। পরিচয়ের সূত্রধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাধে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তৌহিদুল ইসলাম আশিকের বাড়িতে আসে জান্নাতুন বাবলি। ওইদিনই তাদের বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই যৌতুকের জন্য

বিএনপি নেতার বাড়ির সামনে কীটনাশক খেয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা
স্ত্রীর অধিকার পেতে থানা পুলিশ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্না দিয়েও বিচার না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন জান্নাতুন বাবলি (২৯) নামের এক গৃহবধূ। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গৌরনদী বন্দরে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুলের বাসার সামনের খালপাড়ে বসে তিনি বিষপান করেন। এসময় তিনি গৌরনদী থানার ওসিসহ পুলিশেরও বিচার দাবি করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় এক নারী নেত্রী এবং স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাবলি দিনাজপুর সদর থানার গোবরাপাড়া এলাকার জিয়াউর রহমানের কন্যা। তিনি বাবলি শঙ্কা মুক্ত নন বলে জানিয়ে চিকিৎসক। গৃহবধূর থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানাগেছে, জান্নাতুন বাবলির সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বাদলের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম আশিকের। পরিচয়ের সূত্রধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাধে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তৌহিদুল ইসলাম আশিকের বাড়িতে আসে জান্নাতুন বাবলি। ওইদিনই তাদের বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই যৌতুকের জন্য বাবলির স্বামী তৌহিদুল, ননদ তামিমা ইসলাম, শাশুড়ি ফাহমিদা খানম, শ্বশুর তরিকুল ইসলাম তাকে (বাবলি) শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী বাবলি ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৩/২৬)। পরে পুলিশ এবং স্থানীয়দের মধ্যস্ততায় সালিশ মিমাংসার পর নির্যাতন না করার শর্তে স্বামীসহ মামলার অন্য আসামিদের জামিন করান বাবলি। জামিনে এসে ফের বাবলির ওপর অমানুসিক নির্যাতন চালায় স্বামী তৌহিদুল ও তার পরিবারের লোকেরা। এতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে গত ১৪ মার্চ স্বামী তৌহিদুল ও তার পরিবারের লোকজনকে অভিযুক্ত করে গৌরনদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন জান্নাতুন বাবলি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে স্ত্রীর অধিকার এবং নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে অসহায় বাবলি অসংখ্যবার ধর্না দিয়েও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) বাবলি বিচারের আশায় বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুলের গৌরনদী বন্দরের বাসার সামনে খালপাড়ে বসে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বাবলি। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক টিপু সুলতান বলেন, বর্তমানে ওই যুবতী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি শঙ্কামুক্ত নন। তাকে ২৪ ঘণ্টার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রাতে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল ও গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ তারিক হাসান রাকিবকে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow