বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তর : দুই সচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে আদালতের রায় অবজ্ঞার অভিযোগে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালত অবমাননার (কনটেম্পট নোটিশ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৪ মে) চারজন আইনজীবীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের পক্ষে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন- আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা। নোটিশে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের কার্যক্রম থেকে বিরত না থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করা হবে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হয় এবং ১১ ডিসেম্বর সচিবালয়টি উদ্বোধনের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করে কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবাল

বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তর : দুই সচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে আদালতের রায় অবজ্ঞার অভিযোগে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালত অবমাননার (কনটেম্পট নোটিশ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) চারজন আইনজীবীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের পক্ষে এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন- আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।

নোটিশে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের কার্যক্রম থেকে বিরত না থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করা হবে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হয় এবং ১১ ডিসেম্বর সচিবালয়টি উদ্বোধনের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ করে কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন’ পাস হওয়ার পর সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা আদালতের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশ পাঠানোর পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “মাসদার হোসেন মামলার রায়ে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে হাইকোর্টও ৯০ দিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।”

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের রায় বহাল থাকা সত্ত্বেও সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

সরাসরি মামলা না করে আগে নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আইনের বিধান অনুযায়ী আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার আগে নোটিশ দিয়ে সতর্ক করতে হয়। এটি একটি সতর্কবার্তা। তারা বিরত না হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করব।”

সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দিয়ে শিশির মনির বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কঠিন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow