বিজ্ঞান ও কল্পনার মেলবন্ধনে নতুন জগৎ নির্মাণ করতে চাই

বাংলা সাহিত্যে সায়েন্স ফিকশন ধারায় কাজ করা লেখকদের মধ্যে কথাসাহিত্যিক বদরুল আলম একটি পরিচিত নাম। বিজ্ঞান ও কল্পনার সমন্বয়ে নতুন ভাবনার জগৎ নির্মাণে তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার ও উপন্যাস— বিভিন্ন ধারায় তার লেখালেখি বিস্তৃত। সাহিত্যচর্চা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি মৃধা আলাউদ্দিন। মৃধা : আপনার ঈদ কেমন কাটল? ঈদ কোথায় করেছেন? বদরুল আলম : খুব বেশি ভালো কাটেনি। মা-বাবাকে ছাড়া এটাই প্রথম ঈদ, তাই মনটা একটু খারাপ ছিল। আমরা সাধারণত নারায়ণগঞ্জেই ঈদ উদযাপন করি। মা-বাবার কবরও সেখানে হওয়ায় ঈদের নামাজ শেষে তাঁদের কবর জিয়ারত করতে পেরেছি। মৃধা : লেখালেখি কেমন চলছে? আগামী বইমেলার প্রস্তুতি কেমন? বদরুল আলম : বইমেলার প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার ও উপন্যাস— মিলে কয়েকটি পাণ্ডুলিপির কাজ চলছে এবং সেগুলো বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। সব মিলিয়ে আমি আশাবাদী। মৃধা : সাহিত্যের কোন মাধ্যমে কাজ করতে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? বদরুল আলম : সাহিত্যচর্চায় আমার সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম

বিজ্ঞান ও কল্পনার মেলবন্ধনে নতুন জগৎ নির্মাণ করতে চাই
বাংলা সাহিত্যে সায়েন্স ফিকশন ধারায় কাজ করা লেখকদের মধ্যে কথাসাহিত্যিক বদরুল আলম একটি পরিচিত নাম। বিজ্ঞান ও কল্পনার সমন্বয়ে নতুন ভাবনার জগৎ নির্মাণে তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার ও উপন্যাস— বিভিন্ন ধারায় তার লেখালেখি বিস্তৃত। সাহিত্যচর্চা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি মৃধা আলাউদ্দিন। মৃধা : আপনার ঈদ কেমন কাটল? ঈদ কোথায় করেছেন? বদরুল আলম : খুব বেশি ভালো কাটেনি। মা-বাবাকে ছাড়া এটাই প্রথম ঈদ, তাই মনটা একটু খারাপ ছিল। আমরা সাধারণত নারায়ণগঞ্জেই ঈদ উদযাপন করি। মা-বাবার কবরও সেখানে হওয়ায় ঈদের নামাজ শেষে তাঁদের কবর জিয়ারত করতে পেরেছি। মৃধা : লেখালেখি কেমন চলছে? আগামী বইমেলার প্রস্তুতি কেমন? বদরুল আলম : বইমেলার প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার ও উপন্যাস— মিলে কয়েকটি পাণ্ডুলিপির কাজ চলছে এবং সেগুলো বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। সব মিলিয়ে আমি আশাবাদী। মৃধা : সাহিত্যের কোন মাধ্যমে কাজ করতে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন? বদরুল আলম : সাহিত্যচর্চায় আমার সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম সায়েন্স ফিকশন। কারণ এখানে বিজ্ঞানের সঙ্গে কল্পনার সংমিশ্রণে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়ার সুযোগ থাকে। সেই অনুসন্ধান থেকেই আমি লেখার অনুপ্রেরণা পাই। মৃধা : আপনি সায়েন্স ফিকশন বেশি লেখেন। এর বিশেষ কারণ কী? বদরুল আলম : এই মাধ্যমে বিজ্ঞান ও কল্পনার মিলনে নতুন ভাবনার জগৎ তৈরি করা যায়। আমি কল্পনাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই। এই প্রক্রিয়ায় যখন নতুন বা অদ্ভুত কোনো ধারণা সামনে আসে, তখন নিজেই বিস্মিত হই। সেই বিস্ময় থেকেই লেখার আনন্দ খুঁজে বেড়াই। মৃধা : আপনার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে কোনটিকে আপনি বেশি গুরুত্ব দেন? বদরুল আলম : আমার সায়েন্স ফিকশন বই ‘এক্স ওয়ার্ল্ড’-কে একটু এগিয়ে রাখব। এই বইয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত একটি কল্পিত নগরীর কথা তুলে ধরেছি। সেখানে মানুষের মতো দেখতে এক ধরনের উভচর প্রাণীর বসবাস। ব‌ইটিতে তাদের সঙ্গে পৃথিবীর মানুষের এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এই কল্পনার জগৎ তৈরি করতে গিয়ে আমিও অনেক সময় বিস্মিত হয়েছি। মাঝেমধ্যে ভাবি— সমুদ্রের তলদেশে যদি সত্যিই এমন একটি নগরী থাকত! মৃধা : সাহিত্য নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? বদরুল আলম : আমি মূলত সাহিত্য নিয়েই থাকতে চাই। আমৃত্যু লিখে যেতে চাই এবং এমন কিছু সৃষ্টি করতে চাই, যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোড়িত করবে। মৃধা : আপনার দৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে ভালো লেখা কোনটি? বদরুল আলম : এখনো মনে হয় তেমন কিছু সৃষ্টি করতে পারিনি। যা লিখেছি, তা মোটামুটি মানের। আমি সবসময় চাই আরও ভালো কিছু করতে এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে। মৃধা : আপনার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আপনি কি সন্তুষ্ট? বদরুল আলম : সন্তুষ্ট, তবে পুরোপুরি নয়। একজন লেখকের পক্ষে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়া সম্ভব নয়। কারণ আত্মতুষ্টি চলে এলে লেখার গতি থেমে যাযবে। একজন সচেতন লেখক হিসেবে আমি সেটি কখনোই চাই না। মৃধা : সাহিত্যচর্চায় আপনি কোন লেখককে অনুসরণ করেন? বদরুল আলম : নির্দিষ্ট করে কাউকে অনুসরণ করি না। তবে অনেকের লেখা গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ি। এতে নতুন চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, যা লেখালেখিতে সহায়তা করে। মৃধা : আপনার ছেলেবেলার কোনো তিক্ত-মধুর স্মৃতি বলবেন? বদরুল আলম : এসএসসি পরীক্ষার পর আমরা বন্ধুরা বেশ কিছুটা অবসর সময় পেয়েছিলাম। তখন ঠিক করলাম—অনেক বই পড়ব। সেই সময় বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদের বই বেশি পড়তাম। বই পড়তে পড়তেই আমার মনে লেখক হওয়ার স্বপ্ন জাগে। একসময় লিখতেও শুরু করি। পরে প্রথম যেদিন পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হয়, সেই মুহূর্তটির কথা আজও ভুলতে পারি না। আমার সাহিত্যজীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি সেটিই। মৃধা : আপনি কোথায় বেড়ে উঠেছেন? আপনার ছেলেবেলার দিনগুলো কেমন ছিল? বদরুল আলম : আমার জন্ম নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পশ্চিম দেওভোগে। সেখানেই আমার বেড়ে ওঠা। জেলাটি শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝামাঝি অবস্থিত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ একটি এলাকা। একসময় নারায়ণগঞ্জকে ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ বলা হতো। আমার ছেলেবেলা ছিল স্বপ্নময় ও রঙিন— নলেখাপড়া, খেলাধুলা, সাঁতার কাটা আর দৌড়ঝাঁপে কেটেছে। তাই অতীতের কথা মনে পড়লেই আজও কোথায় যেন হারিয়ে যাই। মনে হয়, কতই না মধুর ছিল সেই শৈশব। লেখক পরিচিতি : বদরুল আলম সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের একজন কথাসাহিত্যিক, যিনি মূলত সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার ও উপন্যাস লেখার জন্য পরিচিত। বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি নির্মাণে তিনি আগ্রহী। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে— অপারেশন ব্ল্যাকহোল, এক্স ওয়ার্ল্ড, মঙ্গল007, আইস প্ল্যানেট, দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড -র মত বইগুলো। নতুন চিন্তা ও কল্পনার মাধ্যমে ভিন্নধর্মী সাহিত্য সৃষ্টি করাই বদরুল আলমের লেখালেখির প্রধান লক্ষ্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow