বিটিভিতে বিরোধীদলীয় নেতার খবর, বদলাচ্ছে চিরাচরিত ধারা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতাদের নানা ইতিবাচক কর্মসূচির কাভারেজ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচিত সরকারের আমলে বাংলাদেশে এই রেওয়াজ বেশ ব্যতিক্রম। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৭ বছরে এই প্রবণতা তেমন দেখা যায়নি। শুক্রবার (১০ জুলাই) সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেখা গেছে জামায়াতের আমিরের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের খবর। ‘জাতীয় সংবাদ’ ক্যাটাগরির ভিডিও প্রতিবেদনটি ছিল এমন, “চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।” বিটিভির এমন পরিবর্তন যেন স্থায়ী হয়, সেটিই চান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি কালবেলা অনলাইনকে বলেন, “এটি অবশ্যই পরিবর্তন। আমরা সবসময় চাই পরিবর্তনটা স্থায়ী হোক। আমরা দেখেছি, বিটিভি এমনভাবে খবর প্রচার করত যেন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এই পরিবর্তন ইতিবাচক ঘটনা। শুধু বিরোধী দল নয়, আমরা চাই যেন সব মতের মানুষের খবর বিটিভি প্রচার করে।” তিনি বলেন, “সরকার বদলে গেলে আমাদের এখানে সবকিছুই বদলে যায়। জাতীয় প্রতিষ্ঠান আর জা

বিটিভিতে বিরোধীদলীয় নেতার খবর, বদলাচ্ছে চিরাচরিত ধারা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতাদের নানা ইতিবাচক কর্মসূচির কাভারেজ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচিত সরকারের আমলে বাংলাদেশে এই রেওয়াজ বেশ ব্যতিক্রম। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৭ বছরে এই প্রবণতা তেমন দেখা যায়নি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেখা গেছে জামায়াতের আমিরের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের খবর। ‘জাতীয় সংবাদ’ ক্যাটাগরির ভিডিও প্রতিবেদনটি ছিল এমন, “চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।”

বিটিভির এমন পরিবর্তন যেন স্থায়ী হয়, সেটিই চান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি কালবেলা অনলাইনকে বলেন, “এটি অবশ্যই পরিবর্তন। আমরা সবসময় চাই পরিবর্তনটা স্থায়ী হোক। আমরা দেখেছি, বিটিভি এমনভাবে খবর প্রচার করত যেন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এই পরিবর্তন ইতিবাচক ঘটনা। শুধু বিরোধী দল নয়, আমরা চাই যেন সব মতের মানুষের খবর বিটিভি প্রচার করে।”

তিনি বলেন, “সরকার বদলে গেলে আমাদের এখানে সবকিছুই বদলে যায়। জাতীয় প্রতিষ্ঠান আর জাতীয় থাকে না। শুধু ১৭ বছর কেন, আগেও আমরা একতরফা খবর দেখেছি। এখন যেন পরিবর্তনটা স্থায়ী হয়।”

সাধারণত রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কাজই হলো রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের খবর প্রচার করা। এখন বিতর্কটা হলো, ‘রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট’ খবরের মধ্যে কী কী থাকবে। শুধু উন্নয়ন আর সরকারদলীয় খবর, নাকি বিরোধী মতের খবরও। বিটিভি কখনোই এই বিতর্ক পেরিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে পরিণত হতে পারেনি বলে অভিযোগ বহু পুরোনো।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিটিভিতে সব দলের খবর দেখা গেছে। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলায় কি না, সেটিই ছিল দেখার বিষয়।

বিটিভির এই পরিবর্তন সাধারণ দর্শকদেরও চোখ এড়ায়নি। আবু সায়েম চৌধুরী নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী শুক্রবারের খবরটিতে মন্তব্য করেছেন, “বিটিভিতে বিরোধী দলের ইতিবাচক সংবাদ। প্রশংসার দাবিদার।”

মোহাম্মদ সামির নামের আরেকজন লিখেছেন, “সরকারি টেলিভিশনে বিরোধীদলীয় নেতার পজিটিভ নিউজ, এটা একটা ভালো পরিবর্তন।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow