বিদেশি বিনিয়োগে ধীরগতি, সমস্যা ও সমাধানের পথ
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বিদেশি বিনিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। গত এক দশকে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমশক্তি এবং শিল্প সম্ভাবনার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তন নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে— বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে? গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহে ওঠানামা করছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৩.৮৮ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল, যা তখনকার সময়ের জন্য উল্লেখযোগ্য ছিল। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে বৈশ্বিক মহামারি করোনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে এই প্রবাহ কমে যায়। ২০২০ সালে বিদেশি বিনিয়োগ নেমে আসে প্রায় ২.৫৬ বিলিয়ন ডলারে। ২০২১ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে তা প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২২ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ আবারও বেড়ে প্রায় ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার হয়। তবে ২০২৩-২৪ সালে বিনিয়োগ প্রবাহ আবার কিছুটা মন্থর হয়েছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়। এই তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায় যে বাংলাদে
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বিদেশি বিনিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। গত এক দশকে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমশক্তি এবং শিল্প সম্ভাবনার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তন নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে— বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে?
গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহে ওঠানামা করছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৩.৮৮ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল, যা তখনকার সময়ের জন্য উল্লেখযোগ্য ছিল। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে বৈশ্বিক মহামারি করোনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে এই প্রবাহ কমে যায়। ২০২০ সালে বিদেশি বিনিয়োগ নেমে আসে প্রায় ২.৫৬ বিলিয়ন ডলারে। ২০২১ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে তা প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২২ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ আবারও বেড়ে প্রায় ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার হয়। তবে ২০২৩-২৪ সালে বিনিয়োগ প্রবাহ আবার কিছুটা মন্থর হয়েছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়। এই তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায় যে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ পুরোপুরি থেমে যায়নি কিন্তু ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির যে ধারা প্রত্যাশিত ছিল তা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে, একই সময় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য হারে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ভারতে গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।
২০১৯ সালে দেশটি প্রায় ৫০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পায়। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে। ২০২১ সালে বিনিয়োগ কিছুটা কমে প্রায় ৪৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার হয়। ২০২২ সালে আবারও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে ২০২৩ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে তা কমে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। অন্যদিকে পাকিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম। ২০১৯ সালে পাকিস্তান প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল। ২০২০ ও ২০২১ সালে তা প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল। ২০২২ সালে বিনিয়োগ কমে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৩ সালে কিছুটা বেড়ে তা প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার হয়। নেপালে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০১৯ সালে দেশটি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল। ২০২০ সালে তা কমে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০২১ সালে আবার কিছুটা বেড়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার হয়। ২০২২-২৩ সালে বিনিয়োগ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করেছে। আর শ্রীলংকার ক্ষেত্রেও বিদেশি বিনিয়োগে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০১৯ সালে দেশটি প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল। ২০২০ সালে তা কমে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে বিনিয়োগ কিছুটা বেড়ে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার হয়। ২০২২ সালে তা প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে ২০২৩ সালে আবার কমে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য এখনও ভারতই। বিশাল বাজার, প্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিকাশ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটি বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলংকার মতো দেশগুলোতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত আসে কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতে। তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছে। টেলিযোগাযোগ খাত, বিশেষ করে মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি খাত, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, চামড়া ও হালকা প্রকৌশল শিল্পেও বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে। তবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদেশি কোম্পানি এখনও বাংলাদেশে বড় আকারে বিনিয়োগ করতে দ্বিধা প্রকাশ করে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কাঠামোগত ও নীতিগত কারণ রয়েছে।
প্রথমত, প্রশাসনিক জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক বাধা এখনো বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় অভিযোগ। অনেক সময় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে বিভিন্ন সংস্থা থেকে অনুমোদন নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। কাগজপত্রের জটিলতা, অনুমোদনের ধীরগতি এবং নীতির অস্পষ্টতা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, নীতিগত স্থিতিশীলতার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কোনো দেশে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু যদি নীতিমালা হঠাৎ পরিবর্তিত হয় বা কর কাঠামো অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে যায় তাহলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হয়ে ওঠেন। ব্যবসার পরিবেশে ধারাবাহিকতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতা বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও গত এক দশকে বাংলাদেশে সড়ক, বিদ্যুৎ ও বন্দর অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে তবুও শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ লজিস্টিক ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। অনেক সময় বন্দর জট, পরিবহন বিলম্ব এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত খরচ তৈরি করে। চতুর্থত, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং মুনাফা প্রত্যাবাসন নিয়ে কিছু উদ্বেগও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে। বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা সহজে নিজ দেশে পাঠাতে পারবে কি না— এই প্রশ্নটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি এই প্রক্রিয়ায় জটিলতা থাকে বা দীর্ঘ সময় লাগে তাহলে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করেন।
এ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদের অভাবও অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বাংলাদেশের শ্রমশক্তি বিশাল এবং তুলনামূলকভাবে সস্তা, তবুও উচ্চ প্রযুক্তি বা জ্ঞাননির্ভর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। ফলে অনেক কোম্পানিকে বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী আনতে হয়, যা ব্যয় বাড়ায়। তবে সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনও অনেক বড়। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটির বেশি, যা একটি বড় ভোক্তা বাজার তৈরি করেছে। দ্রুত নগরায়ণ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তার এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝি ভৌগোলিক অবস্থানও বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে পারে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিশেষ শিল্পাঞ্চলগুলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি বড় কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব অঞ্চলে উন্নত অবকাঠামো, কর সুবিধা এবং সহজ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অনলাইন সেবা, একক জানালা ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা চলছে। তবে বাস্তবে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে তা নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রথমত, প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে প্রকৃত অর্থে একটি কার্যকর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা দরকার, যাতে বিনিয়োগকারীরা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই সব অনুমোদন পেতে পারেন। দ্বিতীয়ত, নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীরা যেন দীর্ঘমেয়াদে আস্থা রাখতে পারেন— সেজন্য করনীতি, শিল্পনীতি ও বাণিজ্য নীতিতে ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। তৃতীয়ত, অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সমুদ্রবন্দর, রেলপথ এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে আধুনিক করতে পারলে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। চতুর্থত, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ালে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সহজ হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসার পরিবেশে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করে। যদি এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করা যায় তাহলে বাংলাদেশ আবারও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, বাংলাদেশ এখনও বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় একটি দেশ। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অর্থনৈতিক নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে। বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু সম্ভাবনা দেখালেই হবে না, বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যদি সেই লক্ষ্য অর্জন করা যায় তাহলে বাংলাদেশ শুধু বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখতে পারবে না আগামী দশকে আরও বড় আকারে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।
What's Your Reaction?