বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে সামিটের নথি চেয়েছে দুদক
বিদ্যুৎ খাতে সামিট গ্রুপের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির উপ-পরিচারক ও যৌথ টিম প্রধান মো আলমগীর হোসেনে সই করা পাঠানো পৃথক চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন গ্রুপের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। আরও পড়ুন পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর তিনি আরও বলেন, সামিট গ্রুপ সংক্রান্ত দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান টিম কাজ করছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের টিম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) কাছে কিছু রেকর্ডপত্র চেয়েছে। দুদক রেকর্ডপত্র স
বিদ্যুৎ খাতে সামিট গ্রুপের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির উপ-পরিচারক ও যৌথ টিম প্রধান মো আলমগীর হোসেনে সই করা পাঠানো পৃথক চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন গ্রুপের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামিট গ্রুপ সংক্রান্ত দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান টিম কাজ করছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের টিম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) কাছে কিছু রেকর্ডপত্র চেয়েছে। দুদক রেকর্ডপত্র সংগ্রহ সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
দুই সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবর তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামিট গ্রুপ বিদ্যুৎ খাতের অনেক বড় অংশীদার। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, দুদক থেকে বিপিসি ও বিউবোর কাছে পাঠানো আলাদা আলাদা চিঠিতে বেশ কিছু নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট পাওয়ার প্ল্যান্টের (আইপিপি) জ্বালানি হিসেবে আমদানি করা এইচএফও-এর জ্বালানি খরচের উপাদানের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য বিপিসি নির্ধারিত ফরম্যাট বিষয়ক নথিপত্র, বিউবো ও সামিট পাওয়ার লিমিটেডের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী-বিপিসি যদি জ্বালানি আমদানিতে অপারগ হয় তবে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ছাড়পত্র বা অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না তার রেকর্ডপত্র, পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী প্রতিটি ফুয়েল কার্গোর ক্যালকুলেশন শিট ও মূল সামারি শিট, আমদানি করা এইচএফওর ক্ষেত্রে হ্যান্ডলিং কমিশন, পোর্ট ডিউস/রিভার ডিউস এবং সার্ভে ফির অনুমোদিত হার ও নীতিমালা। এছাড়া, আমদানি করা এইচএফও-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য টার্মিনাল চার্জ ও ভ্যাট সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র।
সামিট পাওয়ার লিমিটেডের এইচএফও ভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানি ও বিল পরিশোধ সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি ফুয়েল কার্গোর ক্যালকুলেশন শিট, মূল সামারি শিট, বিল অব লেডিং, লন্ডন ট্যাংকার ব্রোকারস প্যানেল সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক অ্যাডভাইস ও পোর্ট ডিউসের সত্যায়িত ছায়ালিপি চাওয়া হয়েছে।
গত ২৬ জানুয়ারি সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী ও তার মেয়েসহ পরিবারের ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী ও তার মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৭১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ে পৃথক পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
এসএম/এএমএ
What's Your Reaction?
