বিধিবহির্ভূত পদোন্নতির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে যাচ্ছে ইসি, যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে স্বস্তি কর্মকর্তাদের

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামো ও পদোন্নতি ব্যবস্থাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ৩য় শ্রেণির পদ থেকে সরাসরি ১ম শ্রেণির পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টিকারী হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে কমিশনের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য একজন সিনিয়র আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিট পিটিশন নং-৬৪৯২/২০২৩ মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে Civil Petition for Leave to Appeal (CPLA) দায়েরের জন্য সম্প্রতি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচন কমিশনের সাংগঠনিক কাঠামো ও বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালা রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।জানা যায়, ২০০৮ সালের নিয়োগ বিধিমালায় সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা (২য় শ্রেণি) পদ না থাকায় নির্দিষ্ট কিছু ৩য় শ্রেণির পদ থেকে সরাসরি উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা (১ম শ্রেণি) পদে পদোন্নতির সুযোগ ছিল। তবে প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় সহকারী উপজেলা

বিধিবহির্ভূত পদোন্নতির রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে যাচ্ছে ইসি, যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে স্বস্তি কর্মকর্তাদের

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিদ্যমান নিয়োগ কাঠামো ও পদোন্নতি ব্যবস্থাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ৩য় শ্রেণির পদ থেকে সরাসরি ১ম শ্রেণির পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টিকারী হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে কমিশনের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য একজন সিনিয়র আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রিট পিটিশন নং-৬৪৯২/২০২৩ মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে Civil Petition for Leave to Appeal (CPLA) দায়েরের জন্য সম্প্রতি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচন কমিশনের সাংগঠনিক কাঠামো ও বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালা রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

জানা যায়, ২০০৮ সালের নিয়োগ বিধিমালায় সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা (২য় শ্রেণি) পদ না থাকায় নির্দিষ্ট কিছু ৩য় শ্রেণির পদ থেকে সরাসরি উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা (১ম শ্রেণি) পদে পদোন্নতির সুযোগ ছিল। তবে প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নামে একটি ২য় শ্রেণির পদ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে ৩য় শ্রেণি থেকে সরাসরি ১ম শ্রেণিতে পদোন্নতির সুযোগ বিলুপ্ত হয় এবং পদোন্নতির ধাপ নির্ধারিত হয় ৩য় শ্রেণি → ২য় শ্রেণি → ১ম শ্রেণি।

কিন্তু পরবর্তীতে ৩৫ জন কর্মকর্তা পুরোনো বিধিমালার ভিত্তিতে সরাসরি ১ম শ্রেণির পদে পদোন্নতির দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাটির রায়ের ফলে বর্তমান নিয়োগ কাঠামো ও ২০২৩ সালের বিধিমালার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ওই রায়ের বাস্তবায়ন হলে ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের অতিক্রম করে ৩য় শ্রেণির কর্মচারীদের সরাসরি ১ম শ্রেণিতে পদোন্নতির পথ তৈরি হতো, যা কমিশনের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২১ জন কর্মকর্তাকে ৩য় শ্রেণি থেকে সরাসরি ১ম শ্রেণিতে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে মোঃ প্রিন্স মাহমুদের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিলে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়ন কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত কেবল একটি মামলার কিংবা আইনি লড়াই নয়। এটি কমিশনের বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালা, পদোন্নতি কাঠামো এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কার্যকর থাকা ২০২৩ সালের বিধিমালাকে অগ্রাহ্য করে সরাসরি ৩য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণিতে পদোন্নতির সুযোগ বহাল থাকলে কমিশনের পদোন্নতি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ আপিলে ফলাফল যদি কমিশনের পক্ষে আসে তাহলে পদোন্নতি কাঠামো এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরবে।

তিনি আরও জানান, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন শুধু ৩৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রশ্নই নির্ধারণ করবে না, বরং নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো ও পদোন্নতি ব্যবস্থার দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow