বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায় : ফিফার বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের মামলা

বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিতর্কিত বিদায়কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছে। রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত, ভিএআরের অপব্যবহার এবং ইরানি দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন ইরানি-আমেরিকান বিশ্লেষক লতফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রভাষক এবং বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা। ফিফা, সংস্থাটির বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে। গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে ৯১ মিলিয়ন ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকদের পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেন আফ্রাসিয়াবি। তার দাবি, ফিফার বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের সাধারণ সমর্থকরা চরম মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ইরান বনাম মিশর ম্যাচটি। ১-১ গোলে ড্র হওয়া ওই ম্যাচে ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে ইরানের একটি আপাতদ

বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায় : ফিফার বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের মামলা

বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিতর্কিত বিদায়কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছে। রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত, ভিএআরের অপব্যবহার এবং ইরানি দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন ইরানি-আমেরিকান বিশ্লেষক লতফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি।

তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রভাষক এবং বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা।

ফিফা, সংস্থাটির বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে ৯১ মিলিয়ন ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকদের পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেন আফ্রাসিয়াবি। তার দাবি, ফিফার বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের সাধারণ সমর্থকরা চরম মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ইরান বনাম মিশর ম্যাচটি। ১-১ গোলে ড্র হওয়া ওই ম্যাচে ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে ইরানের একটি আপাতদৃষ্টিতে জয়সূচক গোল বাতিল করা হয়। এর ফলে মিশর নকআউট পর্বে পৌঁছে যায় এবং ইরান বিশ্বকাপ থেকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদায় নেয়।

আফ্রাসিয়াবির অভিযোগ, ভিএআর ব্যবস্থা যে সম্পূর্ণ ভুল একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল, তার স্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানকে ইচ্ছাকৃতভাবে জয় থেকে বঞ্চিত করার জন্যই ওই রায় দেওয়া হয়েছিল। মামলায় ফিফার বিরুদ্ধে 'দ্বৈত নীতি, ভণ্ডামি ও নির্লজ্জ বৈষম্যের' গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুধু মাঠের বিতর্কিত সিদ্ধান্তই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানি দলের ওপর আরোপিত বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দলের রাতে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা, প্রশিক্ষণ শিবির টুকসন থেকে টিহুয়ানায় স্থানান্তর এবং দলের ১১ জন কর্মীর ভিসা প্রত্যাখ্যান। আফ্রাসিয়াবি মনে করেন, এসব পদক্ষেপ দল ও সমর্থকদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে চরম ভোগান্তি চাপিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ফিফা ইরানের জাতীয় দলের প্রতি ন্যায্য ও সমান আচরণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় জয়ী হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ ইরানের যুব ক্রীড়া কর্মসূচির উন্নয়নে বরাদ্দ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

আলোচিত এই মামলার বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র : ওয়ানা নিউজি এজেন্সি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow