বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের দুই প্রান্তের চিত্রটাই বলে দিচ্ছিল ম্যাচের গল্প। স্পেনের ফুটবলারদের চোখে-মুখে যেখানে স্পষ্ট হতাশার ছাপ, সেখানে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে তখন আনন্দাশ্রু। সামর্থ্য, পরিসংখ্যান আর সব পূর্বাভাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফুটবলের মহাযজ্ঞে আরও একবার জন্ম নিল নতুন রূপকথা।  বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেভারিট পরাশক্তি স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এই দেশটি নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে লিখে রাখল এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্য। কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক অর্জনের মহানায়ক আর কেউ নন, তাদের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। পুরো ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে তিনি যেন একাই এক অবিভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুরো ম্যাচে নিশ্চিত কয়েকটি গোলসহ মোট ৭টি অসাধারণ সেভ করেন তিনি। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন এই প্রবীণ গোলরক্ষক। তবে তা হতাশার নয়, বরং এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নপূরণের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা পার হলেও কেপ ভার্দের রক

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের দুই প্রান্তের চিত্রটাই বলে দিচ্ছিল ম্যাচের গল্প। স্পেনের ফুটবলারদের চোখে-মুখে যেখানে স্পষ্ট হতাশার ছাপ, সেখানে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে তখন আনন্দাশ্রু। সামর্থ্য, পরিসংখ্যান আর সব পূর্বাভাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফুটবলের মহাযজ্ঞে আরও একবার জন্ম নিল নতুন রূপকথা। 

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেভারিট পরাশক্তি স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এই দেশটি নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই বিশ্বমঞ্চে লিখে রাখল এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্য।

কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক অর্জনের মহানায়ক আর কেউ নন, তাদের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। পুরো ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে তিনি যেন একাই এক অবিভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুরো ম্যাচে নিশ্চিত কয়েকটি গোলসহ মোট ৭টি অসাধারণ সেভ করেন তিনি। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন এই প্রবীণ গোলরক্ষক। তবে তা হতাশার নয়, বরং এক অবিশ্বাস্য স্বপ্নপূরণের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা পার হলেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেনি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। এই সময়ে অন টার্গেটে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছিল তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণের ধার বাড়ায় স্পেন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ফেরান তোরেস, তার নেওয়া শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের দুর্দান্ত হেডটি অসাধারণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন ভোজিনিয়া। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেও তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ নস্যাৎ করে দলকে গোলমুক্ত রাখেন এই গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্পেন। শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় লামিন ইয়ামালকে। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট না হলেও গোলের খোঁজে তরুণ এই তারকার ওপরই ভরসা রাখেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ইয়ামালের এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ অভিষেক হয়। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার নামেন তিনি। অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। দুজনের বয়সের পার্থক্য ২১ বছর ৪৫ দিন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বয়সের ব্যবধান।

ইয়ামালকে নামিয়েও জালের দেখা পায়নি স্পেন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে স্পেনকে রুখে দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ড্র তুলে নেয় কেপ ভার্দে। আর সেই অর্জনের সবচেয়ে বড় নায়ক নিঃসন্দেহে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow