বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশে আজ কত?
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মান ও তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান বিশ্ববাজারে এখনো এক ধরনের অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে দেশ দুটির অনড় অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৫ মার্চ) স্বর্ণের কিছুটা দরপতন হলেও বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তা আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজ স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫৫০ ডলারে অবস্থান করছে। যদিও এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার কিছুটা কমে ৪ হাজার ৫৩২.২০ ডলারে নেমেছে, তবে সামগ্রিকভাবে টানা তিন সেশন ধরে দাম বাড়ার প্রবণতা বজায় রয়েছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়াকেও অন্য
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মান ও তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান বিশ্ববাজারে এখনো এক ধরনের অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে দেশ দুটির অনড় অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৫ মার্চ) স্বর্ণের কিছুটা দরপতন হলেও বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তা আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজ স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫৫০ ডলারে অবস্থান করছে।
যদিও এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার কিছুটা কমে ৪ হাজার ৫৩২.২০ ডলারে নেমেছে, তবে সামগ্রিকভাবে টানা তিন সেশন ধরে দাম বাড়ার প্রবণতা বজায় রয়েছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়াকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে রুপার দামও শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭১.৭১ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে বিশ্ববাজারের এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বড় ব্যবধানে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ বুধবার (২৫ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা সেদিন সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে গত ১৯ মার্চও স্বর্ণের দাম এক দফায় ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়েছিল।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২০ বার কমানো হয়েছে। গত বছর রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বর্তমানে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ বার দাম বেড়েছে এবং ১৩ বার কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে দেশীয় বাজারে অলঙ্কারের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?