বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, শেয়ারবাজারেও ধস
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার বৈশ্বিক অর্থবাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের ছায়া ঘনীভূত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, বিপরীতে বড় ধাক্কা খেয়েছে শেয়ারবাজার। অনিশ্চয়তার মুখে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলার ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে; লেনদেনের একপর্যায়ে তা ৮২ ডলারও ছাড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণের দামও প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৩২৭ ডলারে উঠেছে। বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে ইরান–এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর ধারাবাহিক সামরিক হামলা এবং তার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় সংঘাত দ্রুত প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক স
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার বৈশ্বিক অর্থবাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের ছায়া ঘনীভূত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, বিপরীতে বড় ধাক্কা খেয়েছে শেয়ারবাজার। অনিশ্চয়তার মুখে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলার ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে; লেনদেনের একপর্যায়ে তা ৮২ ডলারও ছাড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণের দামও প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৩২৭ ডলারে উঠেছে।
বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে ইরান–এর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর ধারাবাহিক সামরিক হামলা এবং তার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় সংঘাত দ্রুত প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববাজারের দৃষ্টি এখন নিবদ্ধ হরমুজ প্রণালি–র দিকে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ চলাচল করে। যদিও প্রণালিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি, তবু নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা জটিলতার কারণে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে বহু তেলবাহী ট্যাংকার দুই প্রান্তেই আটকে আছে বলে জানা গেছে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওনের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। দ্রুত উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত না মিললে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী পুনর্মূল্যায়ন দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
এদিকে, ওপেক প্লাস এপ্রিল মাসের জন্য দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেই তেল নিরাপদে রপ্তানি করা যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অনেক বিশ্লেষক বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭০–এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার তুলনা টানছেন, যে সংকটে তেলের দাম একসময় প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। জাপানের শেয়ারবাজারে সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যেখানে এয়ারলাইন্স খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চীনের বড় কোম্পানিগুলোর সূচক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকে, তাহলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শ্লথ করে দিতে পারে।
What's Your Reaction?