বিশ্বমানের শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের’ ভিশন-৩০ উন্মোচন

আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা সম্প্রসারণ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি টেকসই শিক্ষা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আয়োজন করেছে ‘এসআইএস ভিশন ২০৩০: বিনিয়োগকারী ফোরাম’। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৬টায় অতিথিদের আগমন, অভ্যর্থনা ও নিবন্ধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অতিথিদের আসন গ্রহণের পর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। শিক্ষাকেন্দ্রিক এই বিশেষ ফোরামে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৬২ জন বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, কমিউনিটি নেতা, শিক্ষানুরাগী, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট অতিথি অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং বিশ্বমানের শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এসআইএস ভিশন ২০৩০’, যা সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা কৌশলের একটি সুপরিকল্পিত রূপরেখা। এই ভিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয় ঢাকায় প্রস্তাবিত এসআইএস উত্তরা ক্যাম্পাস, যেখা

বিশ্বমানের শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের’ ভিশন-৩০ উন্মোচন

আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা সম্প্রসারণ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি টেকসই শিক্ষা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আয়োজন করেছে ‘এসআইএস ভিশন ২০৩০: বিনিয়োগকারী ফোরাম’।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৬টায় অতিথিদের আগমন, অভ্যর্থনা ও নিবন্ধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অতিথিদের আসন গ্রহণের পর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

শিক্ষাকেন্দ্রিক এই বিশেষ ফোরামে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৬২ জন বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, কমিউনিটি নেতা, শিক্ষানুরাগী, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট অতিথি অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং বিশ্বমানের শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এসআইএস ভিশন ২০৩০’, যা সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা কৌশলের একটি সুপরিকল্পিত রূপরেখা। এই ভিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয় ঢাকায় প্রস্তাবিত এসআইএস উত্তরা ক্যাম্পাস, যেখানে আধুনিক ক্যামব্রিজ শিক্ষাক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

উদ্বোধনী পর্ব পরিচালনা ও স্বাগত বক্তব্য দেন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অ্যাকাডেমিক উপদেষ্টা নর্মা অ্যালিসন থম্পসন। তিনি একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও নির্বাহী অধ্যক্ষ রবার্ট জন থম্পসন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্লে-গ্রুপ থেকে এ-লেভেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সৃজনশীল ও অনুপ্রেরণামূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

পরে বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল শহিদুল হক (অব.), এসআইএসের উপদেষ্টা এবং এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির পরিচালক। তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সফলতার জন্য দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং টেকসই পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাইনুল মৃধা বক্তব্যে এসআইএস ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য, অনুপ্রেরণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু একটি নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা নয়; বরং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ক্যামব্রিজ শিক্ষা, আধুনিক অবকাঠামো এবং মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পরিচালক কাজী জাসিকা জারিনের প্রায় ৪৫ মিনিটের উপস্থাপনা। তিনি সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অগ্রযাত্রা, প্রস্তাবিত এসআইএস উত্তরা ক্যাম্পাস, বিনিয়োগ কাঠামো, আর্থিক সম্ভাবনা, শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তার উপস্থাপনায় অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব, সুশাসন, শিক্ষায় উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাবের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এরপর বক্তব্য দেন সাবেক লিবারেল পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জামান টিটু। তিনি সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এই দূরদর্শী উদ্যোগের প্রশংসা করে সমাজের টেকসই উন্নয়নে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে উপস্থিত বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও অতিথিরা বিভিন্ন প্রশ্ন, মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, প্রস্তাবিত এসআইএস উত্তরা ক্যাম্পাস এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আরসিএন কলেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল মতিন, স্টাডি অস্ট্রেলিয়া এডুকেশন উইথ ভিসার প্রধান নির্বাহী হাজী দেলোয়ার হোসেন সরকার এবং ব্যবসায়ী হিমি হোসাইন শিক্ষা প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

সমাপনী বক্তব্যে সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাইনুল মৃধা উপস্থিত সব অতিথি, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, শুভানুধ্যায়ী ও কমিউনিটি সদস্যদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাদের উৎসাহ ও সমর্থনই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি আরও বলেন, ‘এসআইএস ভিশন ২০৩০ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক, টেকসই ও বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সাহসী অঙ্গীকার। এটি শুধু সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সম্প্রসারণ নয়; বরং বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ।’

ফোরামে সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পুনর্ব্যক্ত করে যে, বিশ্বমানের ক্যামব্রিজ শিক্ষা, শিক্ষায় উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি টেকসই শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম নির্মাণই তাদের আগামী দিনের লক্ষ্য।

ফোরামে উপস্থাপিত পরিকল্পনা ও আলোচনায় শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং বিশ্বমানের শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসআইএস ভিশন ২০৩০ বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow