বিয়ের নথিতে অসঙ্গতি, তদন্ত শুরুর আগেই মেহেরপুর ছাড়লেন চীনা নাগরিক

মেহেরপুরে আলোচিত চীনা নাগরিক জাং ডং শেং ওরফে মোহাম্মদ আলীর বিয়ে, ধর্মান্তর ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন ওঠার পরও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি ও তার দাবি করা স্ত্রী কেয়া খাতুন পুলিশের সহযোগিতায় জেলা ছেড়েছেন। পুরো ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কালবেলার হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত এক সদস্য এবং ট্রাফিক পুলিশের পোশাক পরা আরেক ব্যক্তি ওই দম্পতিকে মেহেরপুর শহরের পুরাতন পোস্ট অফিসপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে বের করে একটি রেন্ট-এ-কারের মাইক্রোবাসে তুলে দিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর গাড়িটি মেহেরপুর ত্যাগ করে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ওই পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন জাং ডং শেং ও কেয়া খাতুন। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিয়ে, ধর্মান্তর ও পরিচয়সংক্রান্ত এফিডেভিট, ম্যারেজ সার্টিফিকেট ও নিকাহনামাসহ বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করেন। তখনই এসব নথিতে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর আগে দৈনিক কালবেলাসহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ওই দম্প

বিয়ের নথিতে অসঙ্গতি, তদন্ত শুরুর আগেই মেহেরপুর ছাড়লেন চীনা নাগরিক
মেহেরপুরে আলোচিত চীনা নাগরিক জাং ডং শেং ওরফে মোহাম্মদ আলীর বিয়ে, ধর্মান্তর ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন ওঠার পরও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি ও তার দাবি করা স্ত্রী কেয়া খাতুন পুলিশের সহযোগিতায় জেলা ছেড়েছেন। পুরো ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কালবেলার হাতে আসা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত এক সদস্য এবং ট্রাফিক পুলিশের পোশাক পরা আরেক ব্যক্তি ওই দম্পতিকে মেহেরপুর শহরের পুরাতন পোস্ট অফিসপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে বের করে একটি রেন্ট-এ-কারের মাইক্রোবাসে তুলে দিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর গাড়িটি মেহেরপুর ত্যাগ করে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ওই পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন জাং ডং শেং ও কেয়া খাতুন। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিয়ে, ধর্মান্তর ও পরিচয়সংক্রান্ত এফিডেভিট, ম্যারেজ সার্টিফিকেট ও নিকাহনামাসহ বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করেন। তখনই এসব নথিতে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর আগে দৈনিক কালবেলাসহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ওই দম্পতির উপস্থাপিত হলফনামায় মেহেরপুর জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রূতশোভা মণ্ডলের নাম, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গত তিন বছরে তিনি কোনো বিদেশি নাগরিকের বিয়েসংক্রান্ত হলফনামা সম্পাদন করেননি। তার নাম, সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট রুতশোভা মন্ডল। অন্যদিকে সদর উপজেলার নিকাহ রেজিস্টার আব্দুল মাবুদ নান্নু বলেন, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকের বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ওই দম্পতি কোনো বৈধ এনওসি দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে তারা চীনে তিন মাস অবস্থানের দাবি করলেও কারও কাছে পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদর্শন করেননি। এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের কোনোটিরই উত্তর মেলার আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের ওই ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভবনের কেয়ারটেকার বেল্টু কালবেলাকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পরে সাংবাদিকরা এসে কথা বলেন। এরপর সদর থানার এসআই আনিসুর রহমান এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজ দায়িত্বে একটি রেন্ট-এ-কারের গাড়ি ঠিক করে মাগরিবের নামাজের আগেই তাদের এখান থেকে নিয়ে যান। সদর থানার এসআই আনিসুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, আমি কাগজপত্র যাচাই করতে যাইনি। কিছু লোক তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছে, এমন অভিযোগ পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়েছিলেন এসআই অরুণ। চীনা নাগরিক ও তার স্ত্রী নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকা ছাড়তে চাইলে আমি শুধু গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অন্যদিকে এসআই অরুণ বলেন, আমি কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য গিয়েছিলাম। তবে যাচাইয়ের দায়িত্ব ছিল ডিএসবি সদস্যদের। বিদেশি নাগরিকের গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে জানানোর জন্য বাড়ির কেয়ারটেকারকে নির্দেশ দিয়ে আমি চলে আসি। এফিডেভিট ও অন্যান্য নথি জাল হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি কাগজপত্র জাল হয়ে থাকে, তাহলে এটি অবশ্যই গুরুতর বিষয়। এখানেই দেখা দিয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যাদের উপস্থাপিত নথির সত্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে, যাদের বিয়ের আইনি বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন জেলা ছাড়তে সহযোগিতা করা হলো? তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন? এ প্রশ্নেরও নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি পুলিশ। পরে বিষয়টি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে জানানো হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ের। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বক্তব্য দেবেন। রেঞ্জ ডিআইজির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow