বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ছাদে ভরপুর যাত্রী

ঈদের ছুটি মানেই নাড়ির টানে ঘরে ফেরা। সেই টানেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ। কিন্তু সবার জন্য পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে চড়ছেন। লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস ছাড়ার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৮টা হলেও মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৮টার আগেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনটির ছাদ যাত্রীতে ভরে যায়। কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কেউ হাতে ব্যাগ, কেউ বড় ট্রলি, আবার কেউ স্বজনদের জন্য নতুন জামা-কাপড়, খেলনা কিংবা ঈদের উপহার নিয়ে ছুটছেন গ্রামের পথে। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাদে ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। একদল তরুণ ট্রেনের জানালা ও দরজা ধরে উপরে উঠছেন। কেউ আবার একে অপরকে হাত বাড়িয়ে টেনে তুলছেন। ট্রেনের ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল ঈদের আনন্দ, তবে সেই আনন্দের ভেতর লুকিয়ে ছিল ঝুঁকির শঙ্কাও। অনেকেই বলছেন, টিকিট না পাওয়া ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাধ্য হয়েই তারা ছাদে উঠেছেন। রংপুরের পীরগঞ্জগামী যাত্রী মো. রাসেল মিয়া ছাদে বসেই বলেন, দুই দিন ধরে টিকিটের চেষ্টা করছি, পাইনি

বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ছাদে ভরপুর যাত্রী

ঈদের ছুটি মানেই নাড়ির টানে ঘরে ফেরা। সেই টানেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ। কিন্তু সবার জন্য পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে চড়ছেন। লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস ছাড়ার নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৮টা হলেও মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৮টার আগেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনটির ছাদ যাত্রীতে ভরে যায়।

কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কেউ হাতে ব্যাগ, কেউ বড় ট্রলি, আবার কেউ স্বজনদের জন্য নতুন জামা-কাপড়, খেলনা কিংবা ঈদের উপহার নিয়ে ছুটছেন গ্রামের পথে। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাদে ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। একদল তরুণ ট্রেনের জানালা ও দরজা ধরে উপরে উঠছেন। কেউ আবার একে অপরকে হাত বাড়িয়ে টেনে তুলছেন।

jagonews24

ট্রেনের ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল ঈদের আনন্দ, তবে সেই আনন্দের ভেতর লুকিয়ে ছিল ঝুঁকির শঙ্কাও। অনেকেই বলছেন, টিকিট না পাওয়া ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাধ্য হয়েই তারা ছাদে উঠেছেন।

রংপুরের পীরগঞ্জগামী যাত্রী মো. রাসেল মিয়া ছাদে বসেই বলেন, দুই দিন ধরে টিকিটের চেষ্টা করছি, পাইনি। বাসে গেলে ভাড়া অনেক বেশি, আবার জ্যামও আছে। তাই বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছি। ঝুঁকি আছে জানি, কিন্তু ঈদের সময় মা-বাবার কাছে না গেলে মন মানে না।

একই ট্রেনের ছাদে ছোট ভাইকে নিয়ে বসেছিলেন গার্মেন্টসকর্মী জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সারা বছর কষ্ট করে কাজ করি। ঈদে বাড়ি যাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ পাইনি। তাই ভাইকে নিয়ে ছাদেই বসেছি। আল্লাহ ভরসা।

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বিদায় দিচ্ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম। চোখে-মুখে উদ্বেগের ছাপ নিয়ে তিনি বলেন, বারবার বলছি ছাদে না উঠতে। কিন্তু ও বলছে, না গেলে ঈদ করা হবে না। মায়ের মন তো ভয় পায়। এত মানুষ ছাদে ওঠে, কোনো দুর্ঘটনা হলে কী হবে।

স্টেশনের এক চা বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, ঈদের আগে প্রতি বছরই ভিড় হয়, এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এবারও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে বসে আছে। অনেকে ছোট ছোট বাচ্চা নিয়েও উঠছে। দেখলে ভয় লাগে।

jagonews24

বুড়িমারী ট্রেনের ছাদ যখন যাত্রীতে ভরে যায়, তখনও চলছিল ট্রেনটি পরিষ্কার করার কাজ। ট্রেনের একজন পরিচ্ছন্নকর্মী বলেন, ঝাড়ু দেওয়া, পানি ওঠানোর আগেই মানুষ ছাদে ওঠা শুরু করে দিয়েছে। নিষেধ করলেও কেউ শুনছে না। এতো মানুষ কাকে ছাদে উঠতে বাঁধা দেবো।

নীলফামারীগামী কলেজছাত্র সোহেল রানা বলেন, আমি একটা ছিট পেয়েছি। কিন্তু আমার দুই বন্ধু টিকিট পাইনি। ওরা ছাদে উঠেছে। সবাই শুধু একটা চিন্তা করছে, যেভাবেই হোক বাড়ি পৌঁছাতে হবে। ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে না পারলে কষ্ট লাগে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অবশ্য ছাদে ভ্রমণ না করার জন্য যাত্রীদের বারবার সতর্ক করছে। স্টেশনে মাইকিং করে ঝুঁকির কথা জানানো হচ্ছিল। তবুও মানুষের ঢল থামানো যাচ্ছিল না।

কমলাপুর রেলস্টেশনের এক রেলওয়ে কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা যাত্রীদের ছাদে উঠতে নিষেধ করছি। নিরাপত্তা কর্মীরাও কাজ করছে। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই জোর করে উঠে পড়ছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীর এই চাপ সামাল দেওয়া কঠিন।

এমএএস/এসএনআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow