বুলেট বৈরাগীর ফোনে শেষ যে কথা হয় মায়ের

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (২৭) খুনের সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রী সেজে ফাঁদ পেতে তারা বুলেটের জীবন কেড়ে নেয়। জড়িত সবাই কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা।  এই পাঁচজন আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন বুলেট বৈরাগী হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অন্যজন সিএনজি ড্রাইভার। ঘটনার রাত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে বুলেটের মোবাইলে মা নীলিমা বৈরাগী কল দিলে অপর পাশ থেকে রিসিভ করে বল হয় , ‘আরেকটু পরে আইতেছি, এখন ঘুমাইতেছি।’ ওই কণ্ঠস্বরটাও অপরিচিত লেগেছে মায়ের। সন্দেহের দোলাচল ছিল, ছেলে কুমিল্লার কাছাকাছি এই বিশ্বাসে সন্দেহ আর বাড়েনি। মোবাইলে অপরপ্রান্ত থেকে ওই কথাও বলছেন ছিনতাইকারীরা। বুলেট বৈরাগীর মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, আমার স্বামী কৃষক ছিলেন। ছেলেটাকে বড় কষ্ট করে মানুষ করেছি। কারও সঙ্গে উঁচু গলায় কথাও বলত না। শুক্রবার রাত সোয়া ২টার দিকে ছেলের সঙ্গে কথা হয়। তখন বলছিল, বাসে আছে, অল্প সময়ের মধ্যে বাসায় পৌঁছাবে। এর কিছুক্ষণ পর কল দিলে আর রিসিভ করেনি। এরপর ভোর ৪টার দিকে কল দিলে অপর পাশ থেকে রিসিভ করে বলে, ‘আরেকটু পরে আইতেছি, এখন ঘুম

বুলেট বৈরাগীর ফোনে শেষ যে কথা হয় মায়ের

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (২৭) খুনের সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রী সেজে ফাঁদ পেতে তারা বুলেটের জীবন কেড়ে নেয়। জড়িত সবাই কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা। 

এই পাঁচজন আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন বুলেট বৈরাগী হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অন্যজন সিএনজি ড্রাইভার।

ঘটনার রাত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে বুলেটের মোবাইলে মা নীলিমা বৈরাগী কল দিলে অপর পাশ থেকে রিসিভ করে বল হয় , ‘আরেকটু পরে আইতেছি, এখন ঘুমাইতেছি।’ ওই কণ্ঠস্বরটাও অপরিচিত লেগেছে মায়ের। সন্দেহের দোলাচল ছিল, ছেলে কুমিল্লার কাছাকাছি এই বিশ্বাসে সন্দেহ আর বাড়েনি। মোবাইলে অপরপ্রান্ত থেকে ওই কথাও বলছেন ছিনতাইকারীরা।

বুলেট বৈরাগীর মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, আমার স্বামী কৃষক ছিলেন। ছেলেটাকে বড় কষ্ট করে মানুষ করেছি। কারও সঙ্গে উঁচু গলায় কথাও বলত না। শুক্রবার রাত সোয়া ২টার দিকে ছেলের সঙ্গে কথা হয়। তখন বলছিল, বাসে আছে, অল্প সময়ের মধ্যে বাসায় পৌঁছাবে। এর কিছুক্ষণ পর কল দিলে আর রিসিভ করেনি। এরপর ভোর ৪টার দিকে কল দিলে অপর পাশ থেকে রিসিভ করে বলে, ‘আরেকটু পরে আইতেছি, এখন ঘুমাইতেছি।’

বুলেট বৈরাগীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন– কুমিল্লা সদর উপজেলা আমড়াতলী এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), একই এলাকার মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)।

হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যরা বুলেট বৈরাগীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, ব্যাগ, ক্যামেরা ও অল্প কিছু টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতজনিত কারণে মারা যান তিনি। 

ঘটনার পরদিন কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় রোববার অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তারা। বুলেট বৈরাগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনসেটসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র আলামত হিসেবে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যবহৃত সিএনজিটিও আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, রোববার কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে প্রথমে সোহাগকে আটক করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার কোতোয়ালির বিবিরবাজার এলাকা থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। বুড়িচং থানাধীন এরশাদ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ ও তার চালককে আটক করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তারদের কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক টিটু কুমার নাথ জানান, ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতেও আবেদন করেছি। এর আগে র‍্যাব আমাদের কাছে তাদের হস্তান্তর করেছে।

কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভুইয়া হ্যারিটেজ অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী ও তার পরিবারের সদস্যরা। চট্টগ্রাম থেকে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন তিনি। কুমিল্লার কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আর বাসায় ফেরা হয়নি তার। শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী হাড়াতলী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশে ওই কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্বারের সময় তার মরদেহের মাথার পেছনের অংশে মারাত্মক জখম ও মুখমণ্ডল রক্তাক্ত ছিল।

বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগদান করেন। এরপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে।

১ এপ্রিল চট্টগ্রামে গেছেন ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকার ওই ভাড়া বাসায় বাবা- মা, স্ত্রী ও একবছরের একমাত ছেলে সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। নিহত বুলেট তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান।

র‌্যাব-১১ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তিগত তদন্ত ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রামের দামপাড়া থেকে সেন্টমার্টিন ইয়াসিন এক্সপ্রেসে ওঠেন বুলেট বৈরাগী। রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোতোয়ালি থানাধীন হোটেল রোডস্টারে গাড়ির যাত্রাবিরতির সময় নেমে পড়েন তিনি। এরপর কুমিল্লার পানপট্টি এলাকার নিজের বাসায় যেতে জাগর ঝুলি নামক স্থান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। 

চালকসহ ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগে থেকে পাঁচজন ছিল। ছদ্মবেশে যাত্রী হিসেবে থাকা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, ব্যাগ, ক্যামেরা ও পায়ে থাকা জুতা হাতিয়ে নেয়। এরপর তাকে চলন্ত সিএনজি থেকে রাস্তায় ফেলে দেয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন মা নীলিমা বৈরাগী। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow