বৃষ্টিতে গণপরিবহন সংকট: রাতে ঘরে ফেরা নিয়ে কর্মজীবী নারীদের ভোগান্তি
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা। রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুরমুখী সড়কে নারী-পুরুষ মিলে শতাধিক মানুষের দীর্ঘ লাইন। চাতক পাখির মতো সবার দৃষ্টি দূরের সড়কে—কোনো টেম্পু আসছে কি না। গাড়ি না এলেও অপেক্ষমাণ মানুষের সারি ক্রমেই দীর্ঘ হতে থাকে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর একটি টেম্পু আসতেই সামনের সারিতে থাকা যাত্রীরা দ্রুত উঠে পড়েন। বাকিরা আবারও তাকিয়ে থাকেন দূরের সড়কের দিকে। অপেক্ষমাণদের একজন রোকসানা বেগম। তিনি চাঁদনী চক মার্কেটের একটি নারীদের পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাসা কামরাঙ্গীরচরে। জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নীলক্ষেত থেকে টেম্পুতে নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে নেমে সেখান থেকে হেঁটে বাসায় যান। ছবি: জাগো নিউজ রোকসানা বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে এ সময় বিভিন্ন মার্কেট ছুটি হওয়ায় টেম্পু ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। সারাদিন কাজ করার পর দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টেম্পুতে করে বাসায় ফিরতে হয়। কখনো কখনো ভিড় বেশি থাকলে হেঁটেই রওনা দিই। গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।’ আরও পড়ুন বৃষ্টিতে ভোগান্
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা। রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুরমুখী সড়কে নারী-পুরুষ মিলে শতাধিক মানুষের দীর্ঘ লাইন। চাতক পাখির মতো সবার দৃষ্টি দূরের সড়কে—কোনো টেম্পু আসছে কি না। গাড়ি না এলেও অপেক্ষমাণ মানুষের সারি ক্রমেই দীর্ঘ হতে থাকে। প্রায় পাঁচ মিনিট পর একটি টেম্পু আসতেই সামনের সারিতে থাকা যাত্রীরা দ্রুত উঠে পড়েন। বাকিরা আবারও তাকিয়ে থাকেন দূরের সড়কের দিকে।
অপেক্ষমাণদের একজন রোকসানা বেগম। তিনি চাঁদনী চক মার্কেটের একটি নারীদের পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাসা কামরাঙ্গীরচরে। জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নীলক্ষেত থেকে টেম্পুতে নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে নেমে সেখান থেকে হেঁটে বাসায় যান।
ছবি: জাগো নিউজ
রোকসানা বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে এ সময় বিভিন্ন মার্কেট ছুটি হওয়ায় টেম্পু ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। সারাদিন কাজ করার পর দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টেম্পুতে করে বাসায় ফিরতে হয়। কখনো কখনো ভিড় বেশি থাকলে হেঁটেই রওনা দিই। গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।’

বৃষ্টিতে ভোগান্তির যেন শেষ নেই
জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার রাতসহ গত কয়েক দিন সরেজমিন ঘুরে রাতে ঘরে ফেরা শ্রমজীবী মানুষের, বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের ভোগান্তির চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। রাত ৯টার দিকে নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় অসংখ্য মানুষকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অপেক্ষমাণ যাত্রীর তুলনায় বাস, টেম্পু ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ছিল অনেক কম। ফলে কোনো যানবাহন দেখা মাত্রই যাত্রীরা ছুটে গিয়ে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করতে থাকেন। অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন বাসের সংখ্যাও কম ছিল।
ছবি: জাগো নিউজ
আজিমপুর-উত্তরা রুটের এক বাসচালক জানান, এ রুটে চলাচলকারী যেসব বাস সিএনজিচালিত, সেগুলোর অনেকগুলোই সিএনজি গ্যাসের সংকটের কারণে নিয়মিত চলাচল করছে না। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
চাঁদনী চক মার্কেটের এক দোকান মালিক জানান, এ এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের অধিকাংশ কর্মচারীর বাসা লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায়। তুলনামূলক কম ভাড়ার কারণে তারা সেখানে বসবাস করেন। তবে রাতে গণপরিবহনের সংকট দেখা দিলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী নারীরা।
কর্মজীবী নারী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘অনেক সময় টেম্পুতে ওঠার জন্য ধাক্কাধাক্কি করতে হয়। নারী হিসেবে এটা খুবই বিব্রতকর। ভাড়া বেশি দিলেও সব সময় গাড়ি পাওয়া যায় না।’
আরেক কর্মজীবী নারী শিউলি বেগম বলেন, ‘বৃষ্টি শুরু হলে রিকশা বা অটোরিকশার ভাড়া হঠাৎ বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই বাসায় ফিরতে হয়, নইলে অনেক রাত হয়ে যায়।’
থেমে থেমে বৃষ্টি ও রাতের গণপরিবহনের সংকট রাজধানীর কর্মজীবী মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগকে আরও প্রকট করে তুলছে। বিশেষ করে মার্কেট ও বিপণিবিতান থেকে রাত করে ফেরা নারীদের জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত গণপরিবহন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এমইউ/এমএমকে
What's Your Reaction?

