বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে দেড়লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে

বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মহিতুর রহমানের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আউটসোর্সিং কর্মীরা আটমাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অভিযোগ, বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মহিতুর রহমান। এছাড়া বেতন দেওয়ার সময়ও জনপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ দেন তারা। জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ৬৬ জন পূর্বের নিয়োগে এবং নতুন নিয়োগে ২৮ জন। তবে পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মীর ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রতিমাসে তাদের বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। গত আট মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে আউটসোর্সিং কর্মীদের। আউটসোর্সিং কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, ‘আট মাস ধরে বেতন নেই। বাসা ভাড়া, বাজার— সবকিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ধারদেনা করে

বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে দেড়লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে

বাগেরহাট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মহিতুর রহমানের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আউটসোর্সিং কর্মীরা আটমাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তাদের অভিযোগ, বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মহিতুর রহমান। এছাড়া বেতন দেওয়ার সময়ও জনপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ দেন তারা।

জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ৬৬ জন পূর্বের নিয়োগে এবং নতুন নিয়োগে ২৮ জন। তবে পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মীর ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রতিমাসে তাদের বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। গত আট মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে আউটসোর্সিং কর্মীদের।

আউটসোর্সিং কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, ‘আট মাস ধরে বেতন নেই। বাসা ভাড়া, বাজার— সবকিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। বেতনের কথা বললেই ঘুরানো হয়।’

আরেক কর্মী বর্ণা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে টাকা না পেলে চলব কীভাবে? আগে বেতন দিলে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে কেটে নেওয়া হতো।’

আউটসোর্সিং কর্মীদের সাধারণ সম্পাদক মো. আলামিন বলেন, ‘দ্রুত বেতনের ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মহিতুর রহমান বিভিন্ন সময়ে দেড় লাখ টাকা নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। খুব খারাপ অবস্থায় দিন পার করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ী সব কাজ হচ্ছে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানান, ‘আউটসোর্সিং কর্মীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নাহিদ ফরাজী/আরএইচ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow