বেরোবির মসজিদ প্রাঙ্গণে গাছ কাটা নিয়ে প্রতিবাদ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এলোপাতাড়িভাবে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের মুখে মসজিদের ইমামের নামে ‘মিথ্যা’ বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রাঙ্গণের গাছ কাটার জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের আম, মেহগনিসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ এলোপাতাড়িভাবে কাটা শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত কর্মচারীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ করেন। এ সময় গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ইমাম ড. রকিব উদ্দিন আহাম্মেদের নামে জনসংযোগ দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ঈদগাহ ময়দান না থাকার কারণে প্রতি বছর ঈদের নামাজ আ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এলোপাতাড়িভাবে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের মুখে মসজিদের ইমামের নামে ‘মিথ্যা’ বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রাঙ্গণের গাছ কাটার জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের আম, মেহগনিসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ এলোপাতাড়িভাবে কাটা শুরু করেন ঠিকাদারের নিয়োজিত কর্মচারীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ করেন। এ সময় গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ইমাম ড. রকিব উদ্দিন আহাম্মেদের নামে জনসংযোগ দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ঈদগাহ ময়দান না থাকার কারণে প্রতি বছর ঈদের নামাজ আয়োজন করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মসজিদের সামনের গাছগুলোর জন্য সমান্তরালভাবে নামাজের জামায়াতের সারি করা সম্ভব হয় না। গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মতামত দেন, মসজিদের সামনে ১৫-১৬ টি গাছ কাটা হলে জামাতের সারি করা সম্ভব হবে। কিন্তু যিনি টেন্ডারে গাছ ক্রয় করেছেন তিনি কমিটিকে না জানিয়ে ছুটির দিনে মসজিদের সামনে ১৫-১৬টি কাজ কাটেন।
তবে বিবৃতির কথা অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ইমাম ড. রকিব উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘এ প্রেস রিলিজে যে বক্তব্যগুলো, সেগুলো আমি লিখিনি এবং সেখানে আমার স্বাক্ষর ও নেই। আমি দিতে বলিনি, আমি লিখিনি। এখানে আমার নাম ব্যবহার করে গুলানো হচ্ছে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের দেওয়া বিবৃতিতে ১৫–১৬টি গাছ কাটার কথা উল্লেখ করা হলেও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে মেহগনি, আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ৩২টি গাছ কাটা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি গাছ কাটার প্রস্তুতি হিসেবে সেগুলোর ডালপালা ছাঁটা হয়েছে। এসময় কয়েকজন শ্রমিক কাটা গাছগুলো জোর করে এক পাশে জড়ো করে রাখছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মসজিদ কমিটির সদস্য ড. ফেরদৌস রহমান কালবেলাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দির ও মসজিদের সামনে কিছু গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজও দেওয়া হয়। তবে কার্যাদেশ দেওয়ার আগেই তিনি গাছ কাটা শুরু করেন। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করা হয়েছে।
কতটি গাছ কাটার জন্য দরপত্র দেওয়া হয়েছিল এবং এ বিষয়ে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যক গাছের জন্য দরপত্র দেওয়া হয়নি। দরদাতাদের গাছগুলো দেখানো হয়েছিল। ছোট-বড় মিলিয়ে গাছের সংখ্যা আনুমানিক ৫০টির মতো হবে। গাছের সংখ্যা কম হওয়ায় বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে কাটা গাছের স্থানে নতুন করে গাছ লাগাতে বেশ কিছু চারা নিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে জবাবদিহিতা ছাড়া সেখানে গাছ লাগাতে দিচ্ছেন না ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, গাছ কাটার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বিবৃতি দিয়ে ছল ছাতুরির আশ্রয় নিয়েছে। এরইমধ্যে তারা গাছের চারা নিয়ে এসে রোপণের চেষ্টা করছে। তবে আমরা এ ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত গাছ রোপণ করতে দেব না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সাকিব সরকার বলেন, পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গাছপালা নির্বিচারে কেটে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ অযৌক্তিক, পরিবেশবিরোধী ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত।
বিবৃতির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. এহতেরামুল হক কালবেলাকে বলেন, জনসংযোগ শাখা থেকেই বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দপ্তর পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
What's Your Reaction?