বৈশাখেই হাসলো হালদা
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই সুখবর। বৈশাখ মাসেই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রুইজাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ায় প্রথম ধাপেই প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন সংগ্রহকারীরা। ফলে হ্যাচারিগুলোতে এখন চলছে ডিম থেকে রেণু ফুটানোর ব্যস্ততা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (০১ মে) বিকেল পর্যন্ত এই ডিম সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, পাহাড়ি ঢল ও পূর্ণিমার জো—সব মিলিয়ে প্রকৃতি এবার ছিল সহায়ক। সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নদীর আজিমেরঘাট, নয়ারহাট কুম, রামদাস মুন্সিরহাট ও মাছুয়াঘোনা পয়েন্টে প্রায় ৫০০ সংগ্রহকারী অবস্থান নেন। তাদের ব্যবহৃত নৌকা ও বিশেষ জালের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫০টি। যদিও সাধারণত এই সংখ্যা দ্বিগুণ থাকে, তবে আগাম ডিম ছাড়ায় অনেকেই প্রস্তুত থাকতে পারেননি। মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতি জালে প্রথমে ১৫-২০টি করে ডিম পাওয়া যায়। দুপুরে নমুনা ডিম মিললেও বিকেল ও রাতে স্বল্প পরিসরে ডিম সংগ্রহ হয়। গবেষকদের মতে, এটি মৌসুমের প্রথম ধাপ
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই সুখবর। বৈশাখ মাসেই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রুইজাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ায় প্রথম ধাপেই প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন সংগ্রহকারীরা। ফলে হ্যাচারিগুলোতে এখন চলছে ডিম থেকে রেণু ফুটানোর ব্যস্ততা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (০১ মে) বিকেল পর্যন্ত এই ডিম সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, পাহাড়ি ঢল ও পূর্ণিমার জো—সব মিলিয়ে প্রকৃতি এবার ছিল সহায়ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নদীর আজিমেরঘাট, নয়ারহাট কুম, রামদাস মুন্সিরহাট ও মাছুয়াঘোনা পয়েন্টে প্রায় ৫০০ সংগ্রহকারী অবস্থান নেন। তাদের ব্যবহৃত নৌকা ও বিশেষ জালের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫০টি। যদিও সাধারণত এই সংখ্যা দ্বিগুণ থাকে, তবে আগাম ডিম ছাড়ায় অনেকেই প্রস্তুত থাকতে পারেননি।
মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতি জালে প্রথমে ১৫-২০টি করে ডিম পাওয়া যায়। দুপুরে নমুনা ডিম মিললেও বিকেল ও রাতে স্বল্প পরিসরে ডিম সংগ্রহ হয়। গবেষকদের মতে, এটি মৌসুমের প্রথম ধাপের ডিম ছাড়ার ঘটনা।
রাউজান উপজেলার মোবারকখীল হ্যাচারিতে ৩০টি কুয়া ও ৬টি সার্কুলার ট্যাংক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে হাটহাজারীর তিনটি সরকারি হ্যাচারিতে ১৫৮টি কুয়া সংগ্রহকারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রবীণ ডিম সংগ্রহকারী ও জাতীয় মৎস্য পদকপ্রাপ্ত কামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, সকাল থেকে অল্প ডিম পেলেও দুপুর ও রাতে কিছুটা বেশি পাওয়া গেছে। তবে এটি এখনো পর্যাপ্ত নয়। আমরা পরবর্তী জো’র অপেক্ষায় আছি।
আরেক সংগ্রহকারী মুন্না চৌধুরী জানান, ৬টি নৌকা প্রস্তুত করলেও ৩টি দিয়ে ডিম ধরতে পেরেছি। অনেকেই প্রস্তুত না থাকায় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। আশা করছি পরের জো’তে ভালো ফল পাব।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, এটি স্বল্প পরিসরের ডিম ছাড়ার ঘটনা। অনেক সংগ্রহকারী প্রস্তুত না থাকায় সংগ্রহ কম হয়েছে। তবে এবার জো’র সংখ্যা বেশি—মোট ৭টি। পরবর্তী কোনো জো’তে পূর্ণ মাত্রায় ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, সংগ্রহ করা ডিম ইতোমধ্যে হ্যাচারিতে নিয়ে রেণু উৎপাদন করা হচ্ছে। সংগ্রহকারীরা আশাবাদী—পরবর্তী অমাবস্যার জো’তে আরও বেশি ডিম পাওয়া যাবে।
গত বছর হালদা নদী থেকে ১৪ হাজার কেজি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এবার মৌসুমের শুরুতেই ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সাধারণত এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামলে হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে। এরপর সংগ্রহকারীরা বিশেষ নৌকা ও জালের মাধ্যমে ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন করেন।
What's Your Reaction?