বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়: তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ ও বিশ্ব
মাসউদুর রহমান: মে মাসের শেষভাগে এসে তীব্র রূপ ধারণ করেছে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। একদিকে ইউরোপের আকাশে দানা বাঁধছে রেকর্ড ভাঙা 'হিট-ডোম' বা তাপ-বলয়, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল অঞ্চলজুড়ে চলছে স্মরণকালের অন্যতম দীর্ঘতম প্রাক-বর্ষা দাবদাহ প্রতিবেশি দেশ ভারতের উত্তর প্রদেশে তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই ৪৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের ১১টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র ভ্যাপসা গরম ও মৃদু তাপপ্রবাহ। জলবায়ু পরিবর্তনের এই জোড়া থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষকদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Niño) সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র শীতের আভাস থাকলেও, হঠাৎ করেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো ইউরোপের আবহাওয়া বদলে গেছে। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উচ্চচাপ বলয়ের কারণে স্পেন, পর্তুগালসহ পুরো ইউরোপজুড়ে একটি ‘হিট-ডোম’ তৈরি হয়েছে। এর ফলে লন্ডনের মতো
মাসউদুর রহমান: মে মাসের শেষভাগে এসে তীব্র রূপ ধারণ করেছে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। একদিকে ইউরোপের আকাশে দানা বাঁধছে রেকর্ড ভাঙা 'হিট-ডোম' বা তাপ-বলয়, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল অঞ্চলজুড়ে চলছে স্মরণকালের অন্যতম দীর্ঘতম প্রাক-বর্ষা দাবদাহ প্রতিবেশি দেশ ভারতের উত্তর প্রদেশে তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই ৪৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের ১১টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র ভ্যাপসা গরম ও মৃদু তাপপ্রবাহ। জলবায়ু পরিবর্তনের এই জোড়া থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষকদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Niño) সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে।
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তীব্র শীতের আভাস থাকলেও, হঠাৎ করেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুরো ইউরোপের আবহাওয়া বদলে গেছে। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আসা উচ্চচাপ বলয়ের কারণে স্পেন, পর্তুগালসহ পুরো ইউরোপজুড়ে একটি ‘হিট-ডোম’ তৈরি হয়েছে। এর ফলে লন্ডনের মতো শহরেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে অবস্থান করছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার এক বিশেষ রিপোর্টে জানানো হয়, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে তীব্র খরা ও দাবদাহ খাদ্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও পাকিস্তানে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ শত কোটি মানুষকে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছে। গত দুই দিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত ১৪ বছরের মধ্যে উষ্ণতম রাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশের ওপর দিয়ে এক অস্বস্তিকর আবহাওয়া বয়ে যাচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ মোট ১১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েকদিনে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করলেও তীব্র আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা (Heat Index) ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মতো মনে হচ্ছে। ঢাকায় সকালের দিকে বাতাসের আর্দ্রতা থাকছে ৭৩ শতাংশের ওপরে। ফলে শরীর থেকে ক্রমাগত ঘাম বের হওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর ও পথচারীরা চরম ক্লান্তিতে ভুগছেন।
চিকিৎসকদের মতে, এই তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই মে মাসে এক বা দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী দু-এক দিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে বৃষ্টিহীন অঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে, ভ্যাপসা গরমের এই দাপট আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এখন ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক চক্র ভেঙে পড়েছে। প্রাক-বর্ষা মৌসুমে এই ধরনের চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া ও তীব্র দাবদাহ এখন আর কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং এটিই এখন বৈশ্বিক জলবায়ুর নতুন ও বিপজ্জনক ‘স্বাভাবিক নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
What's Your Reaction?